আজ-  ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা «» আদমদীঘিতে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত «» আদমদীঘিতে প্রশাসন ফুটবল টুর্নামেন্টে ছাতিয়ানগ্রামকে হারিয়ে ফাইনালে আদমদীঘি সদর «» মৌলভীবাজারে এলপিজি গ্যাস বিক্রিতে লাইসেন্স যাচাই, ব্যবসায়ীদের সতর্ক «» দ্বিমুখ্যাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানিয়ারচর জোনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত «» মৌলভীবাজারের জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন «» ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা!  «» মৌলভীবাজারে মুসলিম তরুণীদের টার্গেট করে হিন্দু যুবকের গোপনে একাধিক ভিডিও ধারণের অভিযোগ «» মৌলভীবাজারে দুরুদ মিয়া হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জন খালাস। «» চা-বাগানে দুর্গা পূজায় উৎসব বোনাস প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ চা-শ্রমিক সংঘের

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও ইয়েমেনের শিশুদের জন্য দান করলেন বৃটিশ-বাংলাদেশি ক্ষুদে লেখিকা জয়নাবের বই বিক্রির টাকা

সালেহ আহমদ (স’লিপক):

মানবিকতা, নেতৃত্ব এবং দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১১ বছর বয়সী সর্বকনিষ্ঠ বৃটিশ-বাংলাদেশি লেখিকা জয়নাব চৌধুরী। নিজের লেখা বইয়ের বিক্রয়লব্ধ অর্থ সম্পূর্ণ গাজা ও ইয়েমেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অসহায় শিশুদের সহায়তায় দান করে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন সর্বমহলে।

সম্প্রতি লন্ডনের সিভিক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এই কিশোরী লেখিকা তার বই “My Journey Through Cayley Primary” বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ মোট পাঁচশত পাউন্ড গেল রমজানে হাউস অফ গিভিং নামক একটি মানবিক সংস্থার অধিনে গাজা ও ইয়েমেনের ক্ষুদার্থ ও অসহায় শিশুদের জন্য ট্রাকের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা জন্য দান করেন।

পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে এই অনুদান প্রদান করে জয়নাব একদিকে যেমন উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন, তেমনি অন্যদিকে মানবতার প্রতি তার গভীর দায়বদ্ধতার পরিচয় তুলে ধরেছেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজা ও ইয়েমেনের বহু পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবে, যা তাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

এব্যাপারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জয়নাব বলেন, আমি নিজেও একজন শিশু, তাই মনে হয়েছে অন্য শিশুদের জন্য কিছু করা উচিত। প্রতিটি শিশুরই মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার, শান্তিতে থাকার এবং শিক্ষা ও মৌলিক চাহিদা পাওয়ার অধিকার আছে।

অতিঅল্প বয়সেই জয়নাব তার প্রতিভা, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একজন তরুণ অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি শিক্ষা ও মানবিক কাজ- উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন।

ঈদের মতো আনন্দঘন সময়ে তার এই মহৎ উদ্যোগ শুধু অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটায়নি, বরং সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে- বয়স কখনোই মানবিক কাজের জন্য বাধা নয়।

শিশু জয়নাব চৌধুরীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে, আগামী প্রজন্ম যদি সঠিক দিকনির্দেশনা পায়, তবে তারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, জয়নাব চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সলিমবাড়ির কৃতিসন্তান, লন্ডনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, ট্রাস্টি এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাসান চৌধুরী শিপন এবং নাদিরা চৌধুরী দম্পতির বড় মেয়ে। জয়নাবের দাদা তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট এবং দাদী রুনা বেগম তাদেরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ডেপুটি হেড টিচারের দায়িত্ব পালন করছেন।