মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফরহাদ মাতুব্বরকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলার ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে কুলাউড়া থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে একটি পিকআপ গাড়ি আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদকের হাতে থাকা সংশ্লিষ্ট এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় ১নং আসামী দেশ পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ এজাহারনামীয় ১৮৪ নম্বর আসামি হিসেবে এসআই ফরহাদ মাতুব্বর (বিপি নং- ৮৯১৭২০১৮৪৫) এর নাম রয়েছে। এজাহারে ১৪৩/১৪৪/১৪৯/৩৪২/৪২৭/৩৮৪/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/১১৪ ধারাসহ অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া হত্যা, ককটেল বিস্ফোরক ঘটানো ও সহায়তা করার অপরাধে এ মমালা রুজু করা হয়। এজাহারে তার কর্মস্থল হিসেবে পল্টন মডেল থানার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মামলার এজাহারে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিমান্ডে এর নামে জুলুম ও নির্যাতন : ফরহাদ মাতুব্বর পল্টন থানায় উপ-পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিএনপি‘র অনেক নেতাকর্মীকে রিমান্ডে এর নামে জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ জাযুঘর ভাঙচুরের মামলায় বিএনপি‘র তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স-কে রিমান্ডে এনে হয়রানী ও নির্যাতন করেন।
পিকআপ আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ : অন্যদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬ কুলাউড়া থানায় একটি পিকআপ ঢাকা মেট্রো- ন- ১২-৪৭০১ গাড়ি আটকের ঘটনায় এসআই ফরহাদ মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে প্রকাশ- পিকআপটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য এসআই ফরহাদ প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগটি সত্য হলে, একজন মামলার এজাহারনামীয় আসামি পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার বিষয়টি কি কর্তৃপক্ষের জানা ছিল ?
প্রশ্ন উঠেছে- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য যাচাই করা হয়েছিল কি না।
এছাড়া মামলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানা থাকলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতাই বা কী ? এমন প্রশ্নও উঠেছে।
যা বললেন এসআই ফরহাদ : অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া থানায় কর্মরত এসআই ফরহাদ মাতুব্বর বলেন, মতিঝিল ও পল্টন থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার একটা জরুরি ফোন আসছে। আপনার সাথে পরে কথা বলবো।” এরপর তিনি আর কোনো বক্তব্য দেননি।
পুলিশের বক্তব্য : এ বিষয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের মুঠোফোনে বলেন, “উনার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। উনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন- “ঘুষের টাকা লেনদেনের বিষয়টি সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার আসামির বিষয়টি আমার জানা নেই।
সব মিলিয়ে, একদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নাম, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনকালে পিকআপ আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুটি বিষয়ই এখন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি রাখে।
এজাহারনামীয় আসামি এসআই ফরহাদ মাতুব্বর, কুলাউড়া থানায় সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্বে।
Catagory : সারা দেশ | তারিখ : সেপ্টেম্বর, ২১, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ • ৪৯ বার পঠিত






