সৈয়দ ছায়েদ আহমদ
শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধি,
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অপহরণের চেষ্টা ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলেছেন মো. মোজাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবিদার, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবং সর্বদলীয় ইসলামি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে মোজাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডে অবস্থিত অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এর আগে রাত ৯টার দিকে তিনি সেখানে এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে গিয়েছিলেন।
মোজাহিদুলের অভিযোগ, শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রদলের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ফারদিন ইসলাম পিয়ালসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক অপহরণের উদ্দেশ্যে বাঁশবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করলে তাঁর ফুফাতো বোনের স্বামী মো. ইউসুফসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহমেদ জাহিদ এবং মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন হোসেন মুন্না উপস্থিত হন। পরে তাঁরা তাঁকে ও তাঁর ফুফাতো বোনের স্বামীকে একটি অটোরিকশায় তুলে নেন।
মোজাহিদুলের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় আহমেদ জাহিদ তাঁকে বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলেন এবং আইনের আশ্রয় নিলে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুমকি দেন। কিছুদূর যাওয়ার পর গরুরবাজার মসজিদের সামনে হামলায় অভিযুক্ত ফারদিন ইসলাম পিয়ালসহ অন্যদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে নামেন। পরে তাঁর ফুফাতো বোনের স্বামী ইউসুফ তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।
মোজাহিদুল আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ওপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টার পরিকল্পনা এবং নির্দেশনার সঙ্গে পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহমেদ জাহিদ জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ঘটনার পর ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাননি। বরং হামলা ও অপহরণের চেষ্টায় জড়িত বলে যাঁদের অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি পাচ্ছেন। এতে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ অবস্থায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী, আইজিপি ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম কিবরিয়া মাসুম, মাহমুদুল হাসান নাইম ও কামরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহমেদ জাহিদ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কিংবা তাঁর সংগঠনের কেউ জড়িত নন। অপহরণের চেষ্টার অভিযোগের পক্ষে মোজাহিদুল কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়েছে কি না, কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীমঙ্গলে অপহরণের চেষ্টায় হামলার অভিযোগ, এমপি ও আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা
Catagory : সারা দেশ | তারিখ : অক্টোবর, ২৭, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ • ৬ বার পঠিত






