এহসান বিন মুজাহির:
আধ্যাত্মিক জগতের রাহবার, বরেণ্য বুজুর্গ আল্লামা শায়খ লুৎফুর রহমান বর্ণভীর (রহ.) প্রতিষ্ঠিত মৌলভীবাজারের বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর, বরুণা মাদরাসার আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন (ছালানা ইজলাস) আগামী শুক্রবার (১৬ ফেব্রæয়ারি) সকাল ১০টায়, বরুণার পীর, আমীরে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম, শায়খুল হাদিস আল্লামা শায়খ খলীলুর রহমান হামিদীর উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে, শনিবার শেষ রাতে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বরুণা মাদরাসার সদরে নায়েবে মুহতামিম মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী।
ছালানা ইজলাস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো ভক্ত-মুরিদ আর জনসাধারণের সরব উপস্থিতিতে শুক্রবার মুখরিত হবে বরুণা মাদরাসা ময়দান। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রæয়ারি) সন্ধায় বরুণায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আজ রাত থেকেই মুসল্লিদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর প্রান্তরে উৎসব এবং গোটা এলাকায় আলাদা আমেজ বিরাজ করছে।
বরুণা মদরাসার সদরে নায়েবে মুহতামিম মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী জানান-ইতোমধ্যে ভারত থেকে আগত অতিথি বরুণায় অবস্থান করছেন আল্লামা সায়্যিদ আসজাদ মাদানী ও আল্লামা মুফতি শিহাব উদ্দিন এবং ইংল্যান্ড থেকে ইমাম ক্বাসিম রশিদ, চেয়্যারম্যান ইকরা টিভি ও আল খায়ের ফাউন্ডেশন।
বরুণা মদরাসার সদরে নায়েবে মুহতামিম মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী আরও জানান বরুণা মাদরাসার ছালানা ইজলাসে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। প্রতি বছরে মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে।
এছাড়াও সম্মেলনে দেশ-বিদেশের অর্ধশতাধিক প্রখ্যাত আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ, বরেণ্য ইসলামি স্কলার ও বুজুর্গানে দ্বীন বয়ান পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন বরুণা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ বদরুল আলম হামিদী।
বরুণার প্রতিষ্ঠাতা ইতিহাস জানতে চাইলে তিনি জানান-অর্ধশত বছর আগে আমার দাদাজানের (লুৎফুর রহমান বর্ণভী) হাতে গড়া প্রতিষ্ঠঅনে শুধু কুরআন ও হাদিস শিক্ষাই দেওয়া হয় না। বরুণা মাদরাসা একটি ঐতিহ্যবাহী বহুমুখী প্রতিষ্ঠান। এ মাদরাসায় আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে কম্পিউটার, কাগরি-ইলেকট্রিকসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রদান করা হয়। এদিকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সামাজিক উন্নয়ন ও মানবতার কল্যাণে অংশগ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেমন গরিব ও দুস্থদের মাঝে প্রতি বছর কোরবানীর গোশতের সাথে চাল, লবন, পেয়াজ তৈলসহ বিভিন্ন খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া টিউবওয়েল ও সেলাই মেশিন, হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয় গরিবদের মাঝে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন-‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে সারা দেশের বিভিন্ন জেলার যেমন শিক্ষক রয়েছেন তেমনি রয়েছেন ছাত্ররাও। মাদরাসার যে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদে আবু বকর। সেখানে একসাথে ৭ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এতো বড় মসজিদ সিলেট বিভাগের মধ্যে আর নেই। শিক্ষার ক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে সিলেট বিভাগের মধ্যে ১ম স্থান অর্জন করে যাচ্ছে এ বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কিছু কিছ ক্ষেত্রে সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানের পাশাপাশি সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে চলেছে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।






