\ আমার দেখা একাত্তোরঃ উত্তাল মার্চঃ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক-গনতন্ত্র ও মানবাধিকার এর আজীবন লড়াকু সৈনিক আশম রব নীরবঃ চিকিৎসাধীনঃ একাত্তোরের এই অকুতভয় বীর এর রুগমুক্তি-সুস্ব্যা¯’ দীর্ঘায়ু ও কল্যান কামনা \
মার্চ এর স্মৃতি কথা \
। মুজিবুর রহমান মুজিব।
আমাদের জাতীয় জীবনের সমসাময়িক ইতিহাসে, উনসত্তোরের ছাত্র-গন আন্দোলন-সত্তোরের সাধারন নির্বাচন এবং একাত্তোরের স্বাধীনতা সংগ্রাম গৌরবোজ্জল অধ্যায়। আমার ও আমাদের প্রজন্মের চরম সৌভাগ্য পরম পাওয়া ঐ দশকে আন্দোলনে সংগ্রামে অংশগ্রহনের সুযোগ পাই। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গাঁলিদের প্রতি অবাঙ্গাঁলিদের বৈষম্য মূলক আচরন কোনদিনই বীর বাঙ্গাঁলি নীরবে মেনে নেন নি। বিশেষতঃ পূর্ব বাংলার সংগ্রামী ছাত্র সমাজ এতদাঞ্চলের স্বার্থ সংরক্ষনের আন্দোলনে সংগ্রামে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন। তখন ছাত্রলীগ ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্রশক্তি ও ইসলামী ছাত্র সংঘই ছাত্র ও জনপ্রিয় ছাত্র সংগঠন ছিল। আমি বাংলা ও বাঙ্গাঁলির অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষনের প্রশ্নে ছাত্র লীগের সমর্থক-সংঘটক ছিলাম। এ ব্যপারে আমাকে উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেত…বৃন্দের মধ্যে সিরাজুল আলম খান, আশম রব এবং শাহজাহান সিরাজ প্রমুখ। সিলেটে আমাদের নেতা ছিলেন দেওয়ান নুরুল হোসেন চঞ্চল এবং আখতার আহমদ। আমি ষাটের দশকের শুরুতে প্রথমে মৌলভীবাজার কলেজ শাখা ছাত্রলীগ অতঃপর মহকুমা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। কাজের সুবাদে সিলেট জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেত…বৃন্দের সংস্পর্শ ও সহচর্য্যে যাবার তাদের বলিষ্ট ও গতিশীল নেত…ত্বে কাজ করার সুযোগ পাই। আমার কোন পারিবারিক বন্ধন ও বিধি নিষেধ না থাকার কারনে লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্ক…তি, সাংবাদিকতা ও সমাজ কল্যান মূলক কর্মকান্ডে জড়িত হই। শিক্ষানুরাগি পিতামাতার উদ্দেশ্যে ছিল লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হওয়া। আটষট্টি সালে মৌলভীবাজার কালেজ থেকে হায়ার সেকেন্ড ক্লাশ নিয়ে বি,এ, পাশ করলে পিতা মাতার ই”ছায় উ”চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্ক…তি বিভাগে মাষ্ট্রার্স প্রিলিমিনারিতে ভর্ত্তি হই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলির মধ্যে তৎকালীন ইকবাল হল বর্তমান কালের সার্জেন্ট জহুরুল হলেরই খুন নাম ডাক। ছাত্র রাজনীতির অঘোষিত রাজধানী। এখানে সব ছাত্র নেতাদের সাক্ষাত পাওয়া যায়। হল হিসাবে ইকবাল হলই আমার পসন্দ। আমাদের সবার প্রিয় গিয়াস উদ্দিন মনির ভাই ইকবাল হলের আবাসিক ছাত্র। আমিও ইকবাল হলেই উঠলাম। তখন ছাত্রলীগের মধ্যে সিরাজুল আলম খান এর নেত…ত্বে স্বাধীনতা পহ্ণী নিউক্লিয়াস গ্রুপ এবং শেখ ফজলুল হক মনি, নুরে আলম সিদ্দিকী, এম.এ রশীদ প্রমুখের নেত…ত্বে পিন্ডি পহ্ণী গ্রুপ গোপনে কাজ করতেন। বাষট্টি সালে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্টার লক্ষে রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক সিরাজুল আলম খান গোপন সংঘটন “নিউক্লিয়াস” গঠন করতঃ গোপনে গোপনে কাজ করতে থাকেন। আমার দীর্ঘদেহ, দূঃসাহস, বাবরি চুল, উ”চ কন্ঠে শ্লোগান এবং জালাময়ী ভাষন দাদা সিরাজুল আলম খান এর পসন্দ ছিল, আমি তাঁর দেশ প্রেম, সাংঘটনিক দক্ষতা-ক্ষমতা ও সততার সমর্থক ছিলাম। হাজি মোহাম্মদ মহসিন হলে “নিউক্লিয়াস” পহ্ণী নেতা-কর্মি কম থাকায় দাদা আমাকে হাজী মহসিন হলে পাঠিয়ে দিলে আমি পাঁচশত উনত্রিশ নম্বর কক্ষ বরাদ্দ পাই। নেতা হিসাবে পাই ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল হক চৌধুরী ভাইকে। এই দক্ষ সংঘটক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্ব্বাচিত হয়েছিলেন। দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মনিরুল হক চৌধুরী বি,এন,পি চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা হিসাবে ক…তিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এয়োদশ জাতীয় সংসদের বিগত নির্ব্বাচনে তিনি বিপুলভোটে জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্য নির্ব্বাচিত হয়েছেন। সত্তোর সালের সাধারন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান নিরংকুশ সংখ্যা গরিষ্টতা অর্জন করলেও পাকফৌজি প্রেসিডেন্ট লেঃ জেঃ এ,এম ইয়াহিয়া ক্ষমতা হস্তান্তরে টাল বাহানা করতঃ আলোচনার নামে সৈন্য সংগ্রহ করতে থাকেন। বাংলাদেশে প্রতিবাদী জনতার মিটিং মিছিলে পাকসেনাদের গুলিবর্ষনে শুরু হয় অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলন। উত্তাল মার্চ এর এই আন্দোলনে সংগ্রামে “স্বাধীন বাংলা” ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তখন দেশের কলেজ ছাত্র সংসদের নির্ব্বাচনে নিরংকুশ বিজয় ছিল ছাত্রলীগ এর। “ডাক সুর” ভিপি আশমরব এবং জিএস অকাল প্রয়াত আব্দুল কুদ্দুস মাখন এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী এবং সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ ছিলেন “স্বাধীন বাংলা” ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এর চার নেতা। এ সবের নেপথ্য নায়ক ছিলেন শক্তিমান সংঘটক ও অসম্ভব রকমের কষ্ট সহিষ্ণু নেতা সিরাজুল আলম খাঁন। দোছরা মার্চ একাত্তোরে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের কলা ভবনে লাল সবুজের স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন বাংলার মেহনতি মানুষৈর কন্ঠস্বর অনলবর্ষী বক্তা আশম রব। সেদিন ঢাকার সব কলেজ সমূহের সংগ্রামী ছাত্র সমাজ মিছিল ও শ্øোগান সহকারে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় কলা ভবন প্রাঙ্গঁনে সমবেত হন। সে সময়ের উল্লেখ যোগ্য শ্লোগান ছিল তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা, মেঘনা, যমুন। “পিন্ডিনা ঢাকা-ঢাকা-ঢাকা, দুই চারটা মারুয়াধর সকাল বিকাল নাস্তা” কর ইত্যাদি। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এর ছাত্র এবং ঢাকা বাসি হিসাবে আমি ঐ ছাত্র সভায় উপ¯ি’ত ছিলাম। ঐ সভার মূল সংঘটক-বক্তা ও নেতা ছিলেন ডাকসুর ভিপি আশম রব। পরদিন তেছড়া মার্চ পল্টন ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শক্তিমান সংঘটক শাহ জাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। পল্টনের ঐ সভায় ও আমি উপ¯ি’ত ছিলাম। সাতই মার্চ একাত্তোর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ভাষন দান করেন আওয়ামী লীগ প্রধান জাতির নির্বাচিত নেতা শেখু মুজিবুর রহমান। সত্তোর সালের সাধারন নির্বাচন এবং একাত্তোরে উত্তাল মার্চ এর জন জোয়ার বিক্ষোভ-বিদ্রোহ দৃষ্টে মনে হয়েছে পাকিস্তানের আদর্শিক ও তাত্বিক মৃত্যো হয়েগেছে। ক্ষমতা লিপ্সু সামরীক জান্টা উ”চাভিলাসী পাঞ্জাবী আমলাতন্ত্র এবং পাকিস্তানী নপুংশক রাজনীতিবিদগন এই বিভাজন ও বিভক্তির মাঝে তথা কথিত পাকিস্তানী ঐক্য ও সংহতির দাওয়াই ও দোহাই জাতির কাজে আসবে না। দেশ ক্রমশঃ উত্তাল হয়ে উঠলে সিরাজুল আলম খান এর নির্দেশে আমাকে তাঁর নির্দেশনা, পোষ্টার লিফলেট হ্যেন্ড বিল সহ এলাকায় চলে আসতে হয়। ঢাকায় থাকা অব¯’ায় আমি প্রত্যহ রাতে সান্ধ্য আইন বিরোধী মিছিলে অংশ গ্রহন ও নেত…ত্ব দিয়েছি। এলাকায় আসার পর “তেইশে মার্চ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস” রিপাবলিক ডেতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস- “প্রটেষ্ট ডে” হিসাবে পালন ও স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের কর্ম সূচী ঘোষনা করেন। তখন আমার পরের কমিটিতে ছাত্রলীগের নব নির্বাচিত কমিটির সভাপতি ছিলেন বিশিষ্ট ছাত্র নেতা দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী এবং সম্পাদক ছিলেন ছাত্রনেতা নুরুল ইসলাম মুকিত। কমিটির উদ্যোগে তেইশে মার্চের প্রতিরোধ দিবস পালনের প্র¯‘তি শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী চৌমুহনা চত্বরে ছাত্র যুব জন সমাবেশ। সদ্য সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এর নেতা হিসাবে আমাকে সেই সভার প্রধান অতিথি নিযুক্ত করা হয়। মহকুমা ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং মহকুমা সম্পাদক নুরুল ইসলাম মুকিতের সঞ্চালনায় সেই সভানুষ্টানে আমি পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করি, পাকিস্তানী জাতির জনক মিঃ জিন্নাহর ছবি পুড়িয়ে বাঙ্গাঁলি জাতির নেতা শেখ মুজিবের ছবি উত্তোলন করি, গগন বিদারী শ্লোগানের মাধ্যমে সেই দিন সমগ্র চৌমুহনা চত্বর লোকে লোকারন্য ছিল, যদিও অনেকেই পতাকা ও ছবি পুড়ানোর পক্ষে ছিলেন না, পাকিস্তান টিকে থাকলে রাজ দ্রোহীনয় রাষ্ট্রদ্রোহীর মামলায় আমার ও আমাদের ফাঁসি হত। তখন আমার ও আমাদের ছাত্র জীবন, আইন কানুন প্রসঙ্গেঁ ব্যাপক ধারনা নাই। দেশ প্রেম ও আবেগই আমাকে সেই দুঃ সাহসী কাজে সাহস জুগিয়েছে। পরদিন চব্বিশে মার্চ একাত্তোর পত্র পত্রিকা ও লোকমুখে জানা গেল দেশ্যব্যাপী ব্যাপক ভাবে “প্রতিরোধ দিবস” পালন করা হয়েছে। কেন্টনমেন্ট ছাড়া কোথাও পাকিস্তানের পতাকা উড়ে নাই। চব্বিশে মার্চ আমাদের কাছে খবর আসে আমাদের নিকট প্রতিবেশি থানা কমলগঞ্জ প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয় নাই। মরহুম হাজি কেরামত আলী সাহেবের এলাকায় মুসলীমলীগের দারুন প্রভাব। মরহুম কেরামত আলী সাহেব ও তার ওয়ারিশগনের এলাকায় প্রভাব প্রতিপত্তি ও আছে। চব্বিশ মার্চ খবর পেয়ে পরদিন পচিশে মার্চই তারিখ দিলাম। কমলগঞ্জ সাবরেজিষ্টারী মাঠে আনুষ্টানিক সভার মাধ্যমে আমরা স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করব-প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ সভাকরব। তখন কমলগঞ্জ আওয়ামীলীগ এর ত্যাগী নেতা আব্দুল গফুর ভাই এবং ছাত্র লীগ এর বলিষ্ট নেতা ও সভাপতি খালিকুর রহমান। উভয়েই আমার সু-পরিচিত সুসম্পর্ক। নেতা গফুর হিসাবে সুপরিচিত আব্দুল গফুর পরলোকে। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। আমার পরমাত্বিয় খালিকুর রহমান ঢাকা প্রবাসী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবি, সম্প্রতি অসু¯’ তাঁর সু-স্বা¯’্য দীর্ঘায়ু ও পরিবারিক কল্যান কামনা করি। পচিশে মার্চ একাত্তোর মহকুমা সদরে আওয়াজ উঠে, চল চল কমলগঞ্জ চল। আওয়ামী স্বে”ছা সেবক বাহিনীর থানা প্রধান আব্দুল মালিক, মহকুমা ছাত্রলীগ সভাপতি দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী সহ আমরা কমলগঞ্জ যাই, আনুষ্টানিক ভাবে স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করি। সন্ধ্যায় বীর দর্পে নিজশহরে ফিরে আসি। চৌমোহনায় মিটিং মিছিল করি। কেজানত পচিশে মার্চ একাত্তোরই পাকিস্তানের শেষ দিন। কমলগঞ্জেই আমার পাকিস্তানী জীবনের শেষ জন সভা। একাত্তোরের ষোলই ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর একটি জাতীয় সরকার একটি গনতান্ত্রীক সমাজ কায়েমের স্বপ্ন দেখেন নিউক্লিয়াসের জনক, রাজনৈতিক তাত্বিক ও দার্শনিক সিরাজুল আলম খান। দাদার স্বপ্ন বা¯’বায়নে এগিয়ে আসেন একাত্তোরের অকুতভয় বীর দাদার সুযোগ্য ও স্নেহ ধন্য সহকর্মি আশম রব। গঠিত হয় বা¯’হারা সমিতি, জাতীয় ক…ষক লীগ, দেশের প্রথম বিরোধী দল জাতীয় সমাজ তান্ত্রীক দল জাসদ। বৈজ্ঞানিক সমাজ তন্ত্রের প্রশ্নে বিভক্তি ও বিভাজন আসে দেশের বৃহত্তম ছাত্র সংঘটন ছাত্রলীগ এ। ঢাকার পল্টন ময়দান, এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-একদিনে দুই জায়গায় কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয় ছাত্রলীগ এর। একদিকে দেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান আরেক দিকে গনতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রবক্তা, বাংলার ক…ষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের কন্ঠস্বর আশম রব। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পত্র পত্রিকার ভাষ্যানুসারে আসম রব এর সম্মেলনেই ছাত্র ও জন সমাগম হয়ে ছিল অত্যাধিক। আন্দোলন সংগ্রামের আজীবন লড়াকু সৈনিক আশম রব শেখ হাসিনার ফ্যেসিষ্ট শাসনের বিরুদ্ধে একজন আপোষহীন যোদ্ধা ছিলৈন। দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতঃপর দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেত…ত্বে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্টার লড়াই এর যুগপত যোদ্ধা ছিলেন জাতীয় সমাজ তান্ত্রীক দল জে,এস,ডি প্রধান আশম রব। এয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে আসন বন্টনে যুগপত আন্দোলনের মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ছয় দশকের মঞ্চ ও মাঠ কাঁপানো নেতা আশম রব সাম্প্রতিক কালে অসু¯’ হয়ে শয্যাশায়ী। সিরাজুল আলম খানের সাবেক রাজনৈতিক সচিব, জাসদ নেতা এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক এম, এ রহিম ঢাকায় গমন ও যোগাযোগ করে জানালেন আশম রব এর অসু¯’াব¯’ায় জে,এস,ডি দায়িত্ব নিয়েছেন আশম রব এর যোগ্য জীবন সঙ্গিঁনী বেগম তানিয়া রব। আসন বন্টন ও প্রাপ্তিতে অসš‘ষ্ট হয়ে একাত্তোরের আরেক অকুতভয় বীর অবসর প্রাপ্ত কর্নেল ড: অলি আহমদ বীর বিক্রম সামান্য আসনের জন্য জামাতের নেত…ত্বাধীন জোটে যোগদেন। দেশ বাসি মিডিয়া মারফত দেখলেন শুনলেন জামাত আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের পাশে বিনাবাক্যে অর্ধ অবনত মস্তকে বীর বিক্রম খেতাবধারী বীর যোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী সাবেক সাংসদ কর্নেল অলি আহমদ বসে আছেন নীরবে নিঃ শব্দে। কিš‘ তাঁর প্রার্থীকে প্রত্যাখান করেছেন এ দেশের জনগন। সাংসদ হওয়া সম্ভব হয় নি। এ ক্ষেত্রে অসু¯’ আশম রব সু¯’ রাজনীতি ও মহত মানষিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তিনি আসনের জন্য দরবার-জেরবার করেন নি, দলীয় প্রধান হিসাবে দলগত ভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন। ফলাফল মেনেনিয়েছেন, বিজয়ী দল বি,এন,পি এবং দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাজনীতি বিদ আশম রব এর এই মহৎ মানষিকতা প্রশংসনীয়। মানুষ আশম রবকে দেখছি সেই ষাটের দশক থেকে। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তাঁর সঙ্গেঁ মত প্রার্থক্য হয়েছে-মনোমালিন্য হয় নি। তাঁর দেশপ্রেম কর্মি বাৎসল্য প্রশংসনীয়। তিনি লিডার ছিলেন, লিডার আছেন-গড ফাদার ছিলেন না, গড ফাদার নহেন। সহজ সরল সাদামনের মানুষ অসু¯’ আশম রব এর সুস্ব্যা¯’ দীর্ঘায়ু ও পারিবারিক কল্যান কমনা করি।
[ষাটের দশকের ছাত্রনেতা। মুক্তিযোদ্ধা। সাবেক সভাপতি জেলাবার ও মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব]
মুজিবুর রহমান মুজিব
সিনিওর এডভোকেট হাইকোট, ঢাকা।
আমার দেখা একাত্তোরঃ উত্তাল মার্চঃ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক-গনতন্ত্র
Catagory : সারা দেশ | তারিখ : মার্চ, ৩১, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ • ২৫ বার পঠিত






