আজ-  ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজ সহপাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। «» শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে জালে অজগর, উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর «» সম্মানিত গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ, «» ॥ সুনীল কান্তি দেবনাথ ॥ «» তিন মাস পর পুনরায় চালু ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল «» সান্তাহারে শিশু রাকার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন «» বগুড়া সান্তাহারে রাকামনির খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন «» কমলগঞ্জের মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ তম বার্ষিকীতে মানন্ববন্ধন ও চারাগাছ বিতরণ «» বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা‘র আয়োজনে ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত «» ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর আওতায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ কর্তৃক বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন

স্বামী-স্ত্রী’র বিরোধ; শিশুকে অপহরণ স্টাইলে তুলে নেয়ার চেষ্টা মায়ের


কমলগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে বীরদর্পে ফিরল অপরাধীরা!
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ  
পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দিনদুপুরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে অপহরন স্টাইলে স্বামীর বাড়ি থেকে শিশু সন্তান নেহা চৌধুরী (১০) কে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন মাসহ অন্যান্যরা। রাস্তায় শিশুটির কান্নার শব্দে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারের চৌমুহনীতে মোটরসাইকেল থেকে নেহাকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান স্থানীয়রা। এঘটনার পর শিশুর মা, খালাসহ অন্যান্যরা পুলিশ ফাঁড়ির কক্ষে হামলা ও পুলিশ সদস্যের গাঁয়েও হাত তুলেন। পরে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অভিযুক্তদের মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ মে শুক্রবার বেলা পৌনে ১টায় কুলাউড়া উপজেলার ভূঁইগাও গ্রামের কবির আহমদ চৌধুরীর বাড়িতে।    
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার জুমআ’র নামাজে পুরুষরা চলে যাওয়ার সুযোগে ভূইগাঁও এলাকায় কবির আহমেদ চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয় শিশুর মা নাজিরা আক্তার রুজি ও খালা নাদিরা আক্তারসহ কয়েকজন পুরুষ। বাড়িতে মহিলাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দ্রুত সময়ে শিশু নেহা চৌধুরীকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নেন। এসময় শিশুর বড় চাচি সুমি আক্তার ও চাচা আকিক আহমেদ তাদের বাঁধা দিলে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন। তবে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অপহরণকারীদের গতিরোধ করে শিশুটিকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক পুলিশের উপস্থিতিতেই অভিযুক্ত নাজিরা আক্তার ও তার সঙ্গীরা ক্ষোভে রণমূর্তি ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পরেএ ঘটনার ভিডিও।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, পুলিশ ফাঁড়ির ভিতরে অভিযুক্ত নাজিরা আক্তার ও তার সঙ্গীরা কর্তব্যরত পুলিশের গায়ে হাত তোলেন এবং টানাহেঁচড়া করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অপরাধীরা ছিল বেপরোয়া। অভিযোগ উঠেছে, শমশেরনগর ফাঁড়ি পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিনের বাড়ি এবং অপরাধীদের পরিচয় একই জেলায় (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) হওয়ায় এবং একজন সাবেক পুলিশ সদস্যের আত্মীয় পরিচয় থাকায় আইনের বদলে মুছলেখায় তাদের ছেড়ে দেন।
শিশুর বাবা কবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘২০০৭ সালে নাজিরা আক্তার রুজির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই নাজিরা তার বাবার বাড়িতে থাকছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমার মেয়ে নেহাকে নিয়ে আসি। এরপর নেহা আর তার মায়ের কাছে ফিরতে চায়নি। এ ঘটনায় নাজিরা আমার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার আদালত ও কুলাউড়া থানায় পৃথক দুটি অপহরণ মামলা করেন। তবে উভয় ক্ষেত্রেই আদালত নেহার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে আমার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। শুক্রবার তারা সন্ত্রাসী স্টাইলে পুলিশের ওপর হামলা করল, অথচ ইনচার্জ সাহেব তাদের কিছুই করলেন না।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে নাজিরা আক্তার রুজি বলেন, আমার মেয়েকে আমি নিতে এসেছি। তারা আমার মেয়েকে যুক্তি পরামর্শ দিয়ে তাদের কাছে আটকে রেখেছে।
এব্যাপারে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে দিয়েছি। এছাড়া তেমন কোন সমস্যা হয়নি।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, শিশুর মায়ের সাথে কিছু লোকজন ছিল, তাদের সাথে পুলিশের উচ্চ বাকবিতন্ডা হইছই হয় এই পর্যন্তই। গায়ে হাত তুলে নাই, আমি একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।