আজ-  ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত, , «» চুক্তি মোতাবেক দুর্গাপূজার বোনাস না পাওয়ায়কমলগঞ্জে আলীনগরে তিন চা বাগান শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ «» মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আহমেদ ফয়সল জামানের বদলি, শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন «» যুক্তরাজ্যে সফররত ক্রীড়ানুরাগী শিপুর সাথে ক্যামডেন টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত «» দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা অপরিহার্য- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট «» মৌলভীবাজার পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাসেল আহমদ সাগর  «» মৌলভীবাজারে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ডিডাফের নগদ অর্থ এবং বস্ত্রসামগ্রী বিতরণ «» বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগারে বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধের জ্ঞানকোষ উদ্বোধন «» দক্ষিণ সুরমায় সিলাম সুরমা সমাজ কল্যাণ সংঘের কমিটি গঠন «» বিদেশে মৌলভীবাজার’ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ পুত্রের বিবাহ উপলক্ষে মুষ্টি মুখ ও নৈশভোজ

বগুড়া আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার ছাড়াই চালকল পরিচালনার সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে মিলল সত্যতা

সজীব হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই অটোমেটিক চালকল পরিচালনা এবং অপরিশোধিত বর্জ্যপানিতে খাল-বিল ও ফসলি জমি দূষণের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে নেমেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বিভিন্ন অটোমেটিক চালকল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি চালকলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখেন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এদিকে পরিবেশদূষণ বন্ধ ও জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে গত বুধবার দুপুরে (৭ অক্টোবর) বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর ‘আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই চলছে চালকল, দূষিত হচ্ছে খাল-ফসলি জমি’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং তদন্ত শুরু হয়। জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছচাষের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিভিন্ন কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও জলজ পরিবেশ। বিশেষ করে সান্তাহার এলাকায় কয়েকটি অটোরাইস মিলের বর্জ্য সরাসরি খাল ও ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বুশরা অটো রাইস মিল, সুন্দরী অটো রাইস মিল, ইছামতী, ফুলজান, সালমান, বৈশাখীসহ প্রায় ১৪টি অটোরাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। নীতিমালায় বাঁধা নিষেধ থাকলেও আদৌও তা মানা হচ্ছেনা। শুধু তাই নয় অটোরাইস মিলে বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ইটিপি (Effluent Treatment Plant) তরল বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্বেও দৃশ্যমান নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে অবাধে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন মিল মালিকরা। অথচ এসব অপরিশোধিত বিষাক্ত পানি সরাসরি প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে’ গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ জেল জরিমানা বিধান রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো কাগজে-কলমে নিয়মভঙ্গের কথা থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর দেখা যায়নি বলে জানান সচেতন এলাকাবাসী। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাদের এমন নিরবতায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুশরা অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ দিয়ে ইরামতি খালে পড়ছে। অন্যদিকে সালমান সহ কয়েকটি অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে ফসলি জমি পেরিয়ে সরাসরি খাড়িতে যাচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য চালকলে চলছে একই নিয়মে। একইভাবে বিভিন্ন চালকলের অপরিশোধিত বর্জ্য পানি খাল-জলাশয়ে পড়ায় দূষিত হচ্ছে পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদি জমি ও জলজ পরিবেশ। এদিকে মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে পরীক্ষা নীরিক্ষা দেখা যায়, দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এর স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। পানির পিএইচ (pH) এর স্বাভাবিক মাত্রা ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ হওয়ার কথা। পরীক্ষায় মিলের পানিতে পিএইচ পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে ৬ দশমিক ৮। অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা ০ দশমিক ০৫ থেকে ০ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মিলের পানিতে এর পরিমাণ ১০ মিলিগ্রামের বেশি এবং খালের পানিতে ১২ মিলিগ্রামের বেশি পাওয়া গেছে বলে পরীক্ষার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অ্যালকালিনিটির স্বাভাবিক মাত্রা ২০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে মাত্র ০ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে শূন্য। এ বিষয়ে বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর সরেজমিন তদন্তে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।