আজ-  ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজ সহপাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। «» শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে জালে অজগর, উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর «» সম্মানিত গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ, «» ॥ সুনীল কান্তি দেবনাথ ॥ «» তিন মাস পর পুনরায় চালু ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল «» সান্তাহারে শিশু রাকার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন «» বগুড়া সান্তাহারে রাকামনির খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন «» কমলগঞ্জের মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯ তম বার্ষিকীতে মানন্ববন্ধন ও চারাগাছ বিতরণ «» বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা‘র আয়োজনে ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত «» ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর আওতায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ কর্তৃক বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন

সড়কে ঝরলো ৯বন্ধুর প্রাণ, পরিবারে চলছে শোকের মাতম

( নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় চলছে শোকের মাতম। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে দিশেহারা ৯টি পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দে যোগ দিতে কর্মস্থল নোয়াখালী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন একই এলাকার ৯ বন্ধু। বাসভাড়া ১৮০০ টাকা বেশি হওয়ায় উঠেছিলেন ট্রাকে। কিন্তু সেই ১৮০০টাকা বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকে করে তাদের যাত্রা যে জীবনের শেষযাত্রা হবে, তা কে জানতো। টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে এক ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ, যার মধ্যে রয়েছেন জেলার মান্দার সেই ৯ বন্ধু। উপজেলার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা আর শোকের ছায়া। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব দিকে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই রডবোঝাই ট্রাকটি উল্টে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে মোট ১৫ জন নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা হলেন মোঃ সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মোঃ আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ আব্দুল বারেক, মোঃ আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মোঃ সোহাগ, মোঃ শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াসও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ​নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল বাঁচানো, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করতো। ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই একসাথে বাড়ি আসছিল। বাসে ১৮০০ টাকা ভাড়া বেশি চাচ্ছিল, তাই একটু টাকা বাঁচাতে সবাই মিলে ট্রাকে উঠেছিল। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এই সামান্য টাকার জন্য তাদের সব শেষ হয়ে গেল। ​একই ইউনিয়নের ৯ যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো মান্দা উপজেলায় কান্নার রোল পড়েছে। নিহতদের পরিবারে চলছে চরম আহাজারি। উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনেরা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।