হোসাইন আহমদ, মৌলভীবাজার থেকেঃ
সিলেট ও মৌলভীবাজার কারাগারে নির্দিষ্ট সাজা শেষ হওয়ার পরেও উভয় দেশের আইনী জটিলতার কারণে ভারতের ১৫ জন নাগরিক দেশে যেতে পারছিলনা। ওই ১৫ জন ভারতীয় নাগরিককে তাদের দেশে পাঠাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের কর্মকর্তা ও সমাজ সেবক অমলেন্দু কুমার দাশ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভারতীয় হাই কমিশনের প্রথম সেক্রেটারী (কনসুলার) শ্রী রামাকান্ত গুপ্ত, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের জনপ্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করে উভয় দেশের পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, বিএসএফসহ বিভিন্ন বাহিনীর সহযোগিতায় ওই ১৫ জন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের ভারত পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন ওই সমাজ সেবক। কারাগার সূত্রে জানা যায়, ১৬ বছর কারাভোগের পর নিলু সিংহকে ১৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর চেকপোস্ট সীমান্তপথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হন্তান্তরর করেন অমলেন্দু কুমার দাশ। ১৬ বছর পর বাবাকে কাছে পাওয়ার বাঁধভাঙা আনন্দে সকাল থেকেই আখাউড়া সীমান্তের ওপারে আগরতলা নোম্যান্স ল্যান্ডে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন নিলু সিংহের মেয়ে ষোড়শী রনিকা দেবী। জন্মের পর প্রথম বাবাকে দেখতে পেয়ে সীমান্তরেখা উপেক্ষা করে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বাবার বুকে মাথা রেখে পরম আদরে চোখের জলে বুক ভাসায় মেয়ে রনিকা দেবী। বাবা-মেয়ের আনন্দাশ্রæ দেখে উপস্থিত সবার চোখ পানিতে ভিজে যায়। ২৪ নভেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজীপুর জেলার সুকাই নেপা, রাজু আলী ও সুপ কুমারসহ আরো একজনকে সিলেটের সুতারকান্দি বর্ডার দিয়ে তার পিতার কাছে হস্থান্তর করেন। ১৪ নভেম্বর দীর্ঘ ১৪ বছর পর কারাগার থেকে ব্রাম্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া বর্ডার দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের সঞ্জিত কুমার, রিতং ও নয়ন দেব বর্মণকে তাদের অভিবাবকরে কাছে হস্থান্তর করেন। ১৬ মাস কারাভোগের পর ২৯ মে মা জয়ন্তী বিশ্বাস ও ছেলে প্রাণতোষ বিশ্বাসকে মুক্তি করে আখাউড়া আইসিপি দিয়ে ভারতে পাঠান এবং ১৪ বছর বন্দি থাকার পর ৬ নভেম্বর সিলেট জেলার সুতারকান্দি বর্ডার দিয়ে অথৈই, থাইক, উইনার, নিনহুরি ও নিতবিকে ভারতে তাদের স্বজনের কাছে হস্থান্তর করেন।
এর স্বীকৃতি স্বরূপ অমলেন্দু কুমার দাশকে ধন্যবাদপত্র দিয়েছেন ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা, আসাম প্রদেশের ডেপুটি স্পিকার শ্রী দিলীপ পাল, পাতারকান্দির বিধায়ক শ্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষা ও বাণিজ্য মন্ত্রী শ্রীযুক্ত তপন চক্রবর্তী এবং বুধবার মৌলভীবাজার কেস কো-অর্ডিনেটর কমিটি তাকে সম্মাননা প্রদান করে।
এবিষয়ে কথা হলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের কর্মকর্তা, সমাজ সেবক ও লোক সাহিত্যিক অমলেন্দু কুমার দাশ বলেন, ২০১৬ সালের ২৯-৩১ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রি উৎসব ও ব্যবসায়ী সম্মেলনে উভয় দেশের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনকালে জানতে পারলাম ভারতের আসাম রাজ্যের পাতারকান্দির জয়ন্তী বিশ্বাস ও তার ছেলে প্রাণতোষ বিশ্বাস অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় দীর্ঘ দিন যাবত মৌলভীবাজার কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তখন থেকেই তাদেরকে মুক্ত করে ভারত পাঠাতে কাজ শুরু করি। তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলে আরোও ৭০-৮০ জন ভারতীয় মুক্তিপ্রাপ্ত নাগরিক রয়েছেন। যাদেরকে মুক্তি করে ভারত পাঠাতে কাজ করে যাচ্ছি।
জেল সুপার আনোয়ারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ দিন পরে সকলের সমন্বয়ে এবং সহযোগীতায় ভারতীয় নাগরিকদের পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।
ক্যাপশনঃ সম্মাননা গ্রহণ করছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজ সেবক ও লোক সাহিত্যিক অমলেন্দু কুমার দাশ।






