আজ-  ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ রাজনীতির মহাপুরুষ সৈয়দ মহসিন আলী- ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ  «» কমলগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে যুবকের আত্মহত্যা! «» কমলগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে যুবকের আত্মহত্যা! «» দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রধান «» ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। «» চাঁদনীঘাট কার-মাইক্রোবাস গ্রুপ কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা : ১০ অক্টোবর ভোটগ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু «» বগুড়া আদমদিঘীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে  «» মৌলভীবাজারে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনে ৭ মামলা, সাড়ে ৬ হাজার টাকা জরিমানা «» শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভালো মানুষ হওয়াই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য- অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক «» শ্রীমঙ্গলে ভারতীয় মদসহ আটক ১

৬ ডিসেম্বর ছিল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া মুক্ত দিবস

সুমন আহমদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

গতকাল ৬ ডিসেম্বর ছিল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে এই উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়ে ছিল । ৯ মাস মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সমগ্র দেশ শত্রæমুক্ত হয়। তার পূর্বে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ক্রমান্বয়ে শত্রæমুক্ত হয়। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানী ও তাদের দোসরদের অমানবিক হত্যা, জুলুম, রাহাজানি, নির্যাতন সহ্য করে বাঙ্গালীরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ফিরে পায়। পাকিস্তানী শাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে বাঙ্গালী বিদ্রোহীদের দীপ্ত শিখায় সে দিন জ্বলে উঠেছিল। সারাদেশের মত কুলাউড়ায়, সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র-যুবক, শ্রমিকসহ সবাই সাহসী ভূমিকা নিয়েছিল। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কুলাউড়া থেকে প্রকাশিত সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত সম্পাদিত বাংলার ডাক নামে পত্রিকাটি স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের উৎসাহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর পূর্ব পাকিস্তানের চেহারা পাল্টে যায়। সারাদেশ জুড়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়। ঠিক ঐ সময়ে পাকিস্তানী শাসকদের শোষণ থেকে মুক্তির সংগ্রামে কুলাউড়ার দেশ প্রেমিক মুক্তিকামী সন্তানরা হাতে তুলে নিয়েছিল অস্ত্র।
সারা বাংলায় পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা অত্যাচার নিপীড়ন শুরু করলেও কুলাউড়ায় তাদের প্রথম আগমন ঘটে ৭ মে ১৯৭১ সালে। মৌলভীবাজার থেকে কুলাউড়া শহরে ঢোকার পথে কাপুয়া ব্রীজের কাছে গতিরোধ করতে অকুতোভয় বীর সৈনিক মোজাহিদ সদস্য জয়চÐী ইউনিয়নের মো. আকরাম ওরফে আছকির মিয়া ও হাবীব উদ্দিন। পাক সেনা ও দু’দলের মধ্যে গুলি বিনিময় চলতে থাকে, এক পর্যায়ে তারা দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। এই দুই জনই বীর সন্তান হলেন কুলাউড়া থানা এলাকার স্বাধীনতা বেদীমুলের প্রথম শহীদ।
পাকসেনা ও এদেশের দোসরদের সহায়তার নিধনযজ্ঞ অব্যাহত রাখেন। দীর্ঘ ৭ মাস পাকিস্তানীদের নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তোলে কুলাউড়ার মুক্তিকামী জনতা। অবশেষে ৫ ডিসেম্বর গাজীপুর চা বাগান এলাকা মুক্ত হয়। ঐ দিনই সন্ধ্যার দিকে সম্মিলিত বাহিনী কুলাউড়ায় পৌঁছে, ঐ রাতেই সব পাকিস্তানী সৈন্য ব্রাহ্মণবাজারের দিকে সড়ক পথে কুলাউড়া ত্যাগ করে। এভাবেই ৬ ডিসেম্বর কুলাউড়া শক্রমুক্ত হয়। লাল সবুজ স্বাধীনতার পতাকা আকাশে উড়তে থাকে। সারা বাংলায় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় কুলাউড়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় ৪৫০ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে পাওয়া এই স্বাধীন বাংলাদেশ ।