আজ-  ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» কমলগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী «» কমলগঞ্জের পালিতকোনা পূজামন্ডপে গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত «» তালামীযে ইসলামিয়া কমলগঞ্জ পৌর ১ নং ওয়ার্ড শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন।  «» সান্তাহারে সর্বজনীন রাধামাধব মন্দির পরিদর্শনে জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ  «» সান্তাহার শহরের হাউজিং কলোনির  পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন  «» প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার: বাংলাদেশের অসমাপ্ত অঙ্গীকার «» সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে’ –শ্রমমন্ত্রী «» জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মৌলভীবাজারের সাদিয়ার কৃতিত্ব «» মৌলভীবাজারে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি : নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ «» মৌলভীবাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের অভিযান: ২ হাজার টাকা জরিমানা

৬ ডিসেম্বর ছিল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া মুক্ত দিবস

সুমন আহমদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

গতকাল ৬ ডিসেম্বর ছিল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে এই উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়ে ছিল । ৯ মাস মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সমগ্র দেশ শত্রæমুক্ত হয়। তার পূর্বে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ক্রমান্বয়ে শত্রæমুক্ত হয়। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানী ও তাদের দোসরদের অমানবিক হত্যা, জুলুম, রাহাজানি, নির্যাতন সহ্য করে বাঙ্গালীরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ফিরে পায়। পাকিস্তানী শাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে বাঙ্গালী বিদ্রোহীদের দীপ্ত শিখায় সে দিন জ্বলে উঠেছিল। সারাদেশের মত কুলাউড়ায়, সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র-যুবক, শ্রমিকসহ সবাই সাহসী ভূমিকা নিয়েছিল। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কুলাউড়া থেকে প্রকাশিত সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত সম্পাদিত বাংলার ডাক নামে পত্রিকাটি স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের উৎসাহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর পূর্ব পাকিস্তানের চেহারা পাল্টে যায়। সারাদেশ জুড়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়। ঠিক ঐ সময়ে পাকিস্তানী শাসকদের শোষণ থেকে মুক্তির সংগ্রামে কুলাউড়ার দেশ প্রেমিক মুক্তিকামী সন্তানরা হাতে তুলে নিয়েছিল অস্ত্র।
সারা বাংলায় পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা অত্যাচার নিপীড়ন শুরু করলেও কুলাউড়ায় তাদের প্রথম আগমন ঘটে ৭ মে ১৯৭১ সালে। মৌলভীবাজার থেকে কুলাউড়া শহরে ঢোকার পথে কাপুয়া ব্রীজের কাছে গতিরোধ করতে অকুতোভয় বীর সৈনিক মোজাহিদ সদস্য জয়চÐী ইউনিয়নের মো. আকরাম ওরফে আছকির মিয়া ও হাবীব উদ্দিন। পাক সেনা ও দু’দলের মধ্যে গুলি বিনিময় চলতে থাকে, এক পর্যায়ে তারা দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। এই দুই জনই বীর সন্তান হলেন কুলাউড়া থানা এলাকার স্বাধীনতা বেদীমুলের প্রথম শহীদ।
পাকসেনা ও এদেশের দোসরদের সহায়তার নিধনযজ্ঞ অব্যাহত রাখেন। দীর্ঘ ৭ মাস পাকিস্তানীদের নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তোলে কুলাউড়ার মুক্তিকামী জনতা। অবশেষে ৫ ডিসেম্বর গাজীপুর চা বাগান এলাকা মুক্ত হয়। ঐ দিনই সন্ধ্যার দিকে সম্মিলিত বাহিনী কুলাউড়ায় পৌঁছে, ঐ রাতেই সব পাকিস্তানী সৈন্য ব্রাহ্মণবাজারের দিকে সড়ক পথে কুলাউড়া ত্যাগ করে। এভাবেই ৬ ডিসেম্বর কুলাউড়া শক্রমুক্ত হয়। লাল সবুজ স্বাধীনতার পতাকা আকাশে উড়তে থাকে। সারা বাংলায় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় কুলাউড়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় ৪৫০ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে পাওয়া এই স্বাধীন বাংলাদেশ ।