কুলাউড়া মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাও ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষন চেষ্টার ভয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেনা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালিপনায় ঐ ছাত্রীটি গত ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এতে ঐ ছাত্রীর অভিভাবকসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। ছাত্রীটি বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আচরণ নিয়েও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত ১৯ নভেম্বর টিলাগাও ইউনিয়নের বিজলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটলেও ঘটনার সাথে জড়িত ঐ প্রতিষ্ঠানের দপ্তরী সুমন বেগ (৩০) কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সুমন বেগ একই ইউনিয়নের বিজলী গ্রামের জব্বার বেগের ছেলে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, উপজেলার বিজলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী সুমন বেগ শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে ক্লাস নিতেন। গত ১৯ নভেম্বর রবিবার অন্যান্য দিনের মতো বিদ্যালয়ে যায় ৪র্থ শ্রেণীর ওই ছাত্রী। ঐদিন বিদ্যালয়ের ২য় তলায় সুযোগ বুঝে ধর্ষণের চেষ্টায় ছাত্রীর মুখে এবং গলায় টিপে ধরে দপ্তরী সুমন বেগ। একপর্যায়ে দপ্তরী সুমন বেগকে আটক করে বিদ্যালয়ের একটি পিলারের মধ্যে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের জন্য ছাত্রীর বাবা এবং এলাকাবাসী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। যোগাযোগ করা হলে বিজলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরনী মোহন চন্দন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান- গত ১৯ নভেম্বর দপ্তরী সুমন বেগ বিদ্যালয়ে ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য আমি দায়িত্ব দিয়েছি। ১৯ নভেম্বর ঘটনার পর থেকে ছাত্রীটি এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেনা এবং তিনি কোন যোগাযোগ করেননি বলেও এ প্রতিবেদককে জানান। জানতে চাইলে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী বলেন, ঘটনাটি আমাকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অবহিত করেছেন। তাছাড়া ছাত্রীর বাবা এবং এলাকাবাসীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তদন্ত কমিটির অপর সদস্য হলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






