আজ-  ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - ২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠিত «» মৌলভীবাজারে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল  «» কমলগঞ্জে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২ হাজার সুবিধাভোগীর মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ «» কমলগঞ্জের খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল সংকট; দুর্ভোগে ক্রেতারা «» নওগাঁয় ইফতারে গিয়ে গ্রেপ্তার আ.লীগ নেতা «» পূর্ব লন্ডনের ইফতার মাহফিলে প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে জিএসসি ইউকের জোরালো ভূমিকার অঙ্গীকার «» পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণ «» বগুড়া নন্দীগ্রামে ৪৪টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় খেজুর বিতরণ  «» দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত «» প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের জোরালো ভূমিকার অঙ্গীকার;

ডাক্তার যখন স্মৃতির পাতায়

—জয়নাল আবেদীন
হাসপাতালে বসে আছি,হঠাৎ চোখ পড়লো পাশের ডাক্তারের কেবিনের দিকে,এক সুন্দরী মেয়ে অবাক নয়নে চেয়ে আছে আমার দিকে।আমি একবার চেয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলাম,কিছুক্ষন পর আবার তাকালাম দেখি এখনো চোখ ফিরায়নি মেয়েটি।কেমন যেন আনমনা হয়ে তাকিয়ে আছে।ভাবলাম হয়তো ধ্যানে মগ্ন হয়ে বসে আছে।আমি বাহিরে চলে গেলাম, দাড়িয়ে আছি বারান্দায়, মুগ্ধময় প্রকৃতি একটু দুরে চায়ের বাগান,নীল আকাশে পাখিরা ডানা মেলে মুক্তমনে উড়ে বেড়ানো দেখছি আর ভাবছি সত্যি প্রকৃতি অনেক সুন্দর লক্ষ গুন রূপ ধারণ করে আছে তাহার মাঝে।হঠাৎ পিছন থেকে শব্দ এলো কে যেন ডাকলো এই যে শুনোন,কল্পনা আর প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম কানে মিষ্টি কণ্ঠ স্পর্শ করায় বাস্তবে ফিরে এলাম,তাকালাম তার দিকে,দেখলাম আর কেউ নই,কেবিনে বসা সেই রূপবতী ডাক্তার অবাক নয়নে যিনি বোবার মতো আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।জিজ্ঞাসা করলাম কিছু বলবেন?
জ্বি কি করেন,আমি প্রকৃতি দেখছি প্রশ্ন করলাম আপনি ডাক্তার না,মুছকি হেসে বল্লে ন,না আমি মানুষের সেবক। শুনে অবাক হয়ে গেলাম,যেমন মিষ্টি কণ্ঠ তেমন রূপ বেশ গুনিজনের মত কথা।বল্লম বেশ তো,সবাই বেশ আত্বঅহংকার নিয়ে পরিচয় দেয় আমি ডাক্তার,আর আপনি বেশ আলাদা।বল্লেন মানুষের সেবক এক কথায় মুগ্ধ করে দিলেন।মুছকি হেসে বল্লেন আপনি প্রকৃতি খুব ভালোবাসেন মনে হয়,জ্বি বেশ ভালোবাসি মাঝে মাঝে সময় সুযোগ পেলে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাই।বল্লেন বাহ্ যাই হোক একজন প্রকৃতি প্রেমিক পেলাম।
আমি বল্লাম আমিও একজন মানুষের সেবকের দেখা পেলাম।
কি করেন আপনি?
আমি,এই তো দাড়িয়ে আছি।
আরে না আপনার পেশা কি?
অহ,আমি আপনার মতো মানুষের সেবক না।
তবে কল্পনায় প্রকৃতিক সৃষ্টি নিয়ে ভাবি আর ছন্দের তালে লিখি।
অহ আপনি কবি।
না আমি লেখক।
আমার ভাবনায় যা লিখি তা হচ্ছে কবিতা।
বেশ বল্লেন,
জ্বি না কোথায় আর বল্লাম।
আর কি করেন আপনি?
জব করি পেটের খিদা মেটানোর জন্য,
আর কবিতা লিখি,ছোটগল্প লিখি,নাটক করি, সংগঠন করি,
বলতে পারেন লেখা,নাটক করা,সংগঠন করা এগুলা নেশা এভাবেই চলে।
আপনার নামটা কি জানতে পারি?
জ্বি আমি “”জয়””।
আমি “”স্পর্শী””
বেশ সুন্দর নাম তো আপনার,ঠিক আপনার রূপের মত।
লজ্জায় লাল হয়ে লাজুক কণ্ঠে–আপনারা কবি’রা একটু বেশি বলেন,আচ্ছা উনি কি? আপনার বোন।
জ্বি আমার ছোট বোন,আপনি তো আছেন একটু খেয়াল রাখবেন।
হুমম খেয়াল রাখতে তো হবে কবি’র বোন বলে কথা,আসি তাহলে।বলে মেয়েটি চলে গেলো ভিতরে, আমিও একটু পরে ভিতরে গেলাম দেখলাম ছোট বোনের সাথে গল্প হচ্ছে,দেখে আমি আর ওদিকে না গিয়ে ফিরে এসে নিচে চলে গেলাম ঔষধ কিনতে,ফেরার সময় পাশ কাঠিয়ে যাওয়া একটা গাড়ি হার্ডব্রেক করলো ফিরে তাকিয়ে দেখি গাড়ীর কালো গ্রাস নামিয়ে হাত ছানি দিয়ে কে যেন ডাকছে গিয়ে দেখি আর কেউ নয় মিছ ডাক্তার।
আমি বাসায় যাচ্ছি কবি আবার দেখা হবে,মোবাইল নাম্বার টা দিয়ে যাও।
রাতে বাসায় টেবিলে বসে কবিতা লিখছি,ফোন বেজে উঠলো রিছিভ করলাম,
মিষ্টি কণ্ঠে আমি “”স্পশী””
কি করো?
কবিতা লিখা।
কোন বিষয়?
স্বপ্নপরীকে নিয়ে,
তাই?
হুমম তাই।
বাহ্,তো স্বপ্নপরী কোথায় থাকেন?
হুমম থাকেন।
কোথায় বলবে তো (বেশ কৌতহল নিয়ে)
কল্পনাপুর।
সেটা আবার কোথায়?
হুম চোখ বন্ধ করো দেখতে পাবে।
হুমম তাই করলাম।
কিছু দেখতে পেলে?
হুমম পেলাম।
কি?
বলবো না।
কবি তোমার কল্পনাপুর অনেক সুন্দর এজন্য তো বলি কবি’র ভাবনা এতো সুন্দর কেন।মুগ্ধ কবি।ঘুমাই এখন কবি,সকালে তো দেখা হচ্ছে।শুভ রাত্রি।
সকালে বসে আছি হাসপাতালের কেন্টিনে,নাস্তা করবো হঠাৎ অনুভব করলাম কে পাশে এসে বসে আছে ঘাড়বাঁকা করে দেখি স্পর্শী,
আরে তুমি!!!
হুমম আমি অবাক হলে বুঝি।
আরে না কি খাবে তুমি?
তুমি যা খাবে আমি তা খাবো।
বেশ নাস্তা করলাম দুজনে গল্প করে বেশ কাটালাম সময়।বেরিয়ে এসে সে ওয়ার্ডে আমি বারান্দায় দিড়িয়ে আছি,প্রকৃতিকে দেখছি অনেক্ষন কেটে গেলো কি সুন্দর সারি সারি চায়ের বাগান নীল আকাশের এক কোনে সাদা মেঘ,মন চাইছে এখনো মনের ডায়েরীতে লিখে ফেলি
আকাশ তুমি নীল
তোমার বুকে মেঘ করে খেলা,
মাটিতে সবুজের মেলা,
প্রকৃতি সব কিছু তোমার কাছে থাকতে কেন
আমি আজও একেলা।
পিছনে কে যেন পিঠে হাত দিলো ফিরে দেখি স্পর্শী।
কবি।
কিছু বলবে?
না তোমার কথা মনে পড়লো তাই খুঁজে এলাম,
কি করো?
আমার আর কি করা প্রকৃতি দেখা ছাড়া।
বিকেলে তোমার সময় হবে?
আমার–অবশ্য হবে কি করতে পারি।
না তেমন কিছু না একটু ঘুরবো।
শুনে কেমন যেন লাগলো বল্লাম ঠিক আছে ফোন দিও।
ওকে রেডি থেকো আসি বলে চলে গেলো।
বিকেলে ৩য় তলায় বসে আছি হঠাৎ চোখ পড়লো এক্সকরলা একটা কার থেকে অপূর্ব সুন্দরী একটি মেয়ে নেমে আসছে হাসপাতালের দিকে কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে,একটু কাছে আসতে আর চেনার বাকি রইলো না ডাক্তারী পোশাক ছাড়া এই প্রথম দেখছি তাকে।যেন আকাশ থেকে পরী নেমে এলো যেমন তার মিষ্টি চেহারা তেমন তাহার গঠন,শাড়ীতে বেশ রূপ ভেসে উঠেছে, তাকে দেখে কল্পনায় হারিয়ে গেছি।
পেছন থেকে মিষ্টি কণ্ঠে বল্লো কি করো কবি,
এখনো রেডি হও নি?
এইতো রেডি,অবাক নয়নে দেখছি তাকে।
কি দেখো?
তোমাকে দেখি সত্যি কি তুমি একটু ছ্ুঁয়ে দেখি।
মজা করো না তো চলো।
কোথায় যাবো?
আরে এসো দেখি কোথায় যাওয়া যায়।
এমন ভাবে বলেছিলো না করার সুযোগই পাইনি,
নিচে এসে আমাকে সামনের সিটে বসিয়ে সে ড্রাইবিং করছিলো,আড় চোখে চেয়ে দেখলাম সত্যিই তো অপূর্ব রূপসী, ডাক্তারী পোশাকের ভিতরে আটকে পড়া রূপসীর রূপ দেখা যায়নি,মুগ্ধ নয়নে চেয়ে আছি।
কবি কি দেখো?
দেখছি।
কি?
রূপসীকে
তাই?
কথা বলতে বলতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসে গাড়ী থামালো,বেশ মুগ্ধময় প্রকৃতি দু চোখ জুড়ে যায় দেখে,বল্লাম জায়গাটা অনেক সুন্দর ঠিক তোমার রূপের মতো তুমি ছাড়া এই প্রকৃতিটা বে মানান।
জানেন কি?কবি’রা প্রকৃতির প্রেমই খুঁজে বুঝে
মনের প্রেম খুঁজেও না বুঝেও না।
তাই বুঝি!
কবি’রা সব বুঝে বলেনা লাজে
কবিতার মাঝে কবি’র প্রেম নিও প্রিয় বুঝে।
পাগল একটা কথায় কথায় কবিতা চলো ঐ দিকে বসি,
হুমম চলো –বাদাম খাবে?
হুমম খাবো আমার খুব প্রিয়,
আমার বাদাম খেয়ে গল্প করতে করতে সন্ধ্যা নেমে এলো।
চলো উঠি।
হে উঠি
গাড়ী করে সোজা সাম্পান রেস্টুরেন্টে এ রাতের খাবার শেষে আমাকে হাসপাতালে নামিয়ে দিয়ে স্পর্শী সোজা বাসায় চলে গেলো।
আমি হাসপাতালে রাতের খাবার দিয়ে বাসায় চলে এলাম।
রাতে বসে লিখছি স্পর্শীর ফোন।
হ্যালো কি করো কবি।
কিছু না কবিতা লিখি,
বেশ তো শুনাবে আমায়?
অবশ্য —-
মিষ্টিময়ী চাঁদ রূপসী কোথায় তুমি ছিলে
২৭টি বছর খোঁজেছি তোমায়,
এখন কোথায় থেকে এলে।
নজড় কাড়া রূপ প্রেয়সী কোথায় তুমি পেলে
এক মুহুর্ত না দেখলে হৃদয় গহিয়া গহিয়া জ্বলে,
ইচ্ছে করে তোমায় ডাকি প্রাণ প্রেয়সী বলে।
আকুল করে যদি তোমার কাছে ভালোবাসা চাই
দেবে কিগো চাঁদ রূপসী তোমার বুকে ঠাই।
সারা জীবন তোমায় রাখবো ধরে বুকে যদি পাই
দেখবো তোমার মিষ্টি মুখ ডাকবো প্রেমারাধা রাই।
বাহ বেশ মিষ্টি তো
জানি না।
ঘুমাও কবি রাত তো অনেক হলো –শুভ রাত্রি।
সকালে ফোনের টোনে ঘুম ভাংলো
মিষ্টি কণ্ঠে—–শুভসকাল।উঠো কবি দেরি করো না হাসপাতালে আসতেছি, দেরি করো না দেরি করলে দেখা হবে না,আমার ক্লিনিকে ডিউটি আছে।
আসতেছি বলে ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে পড়লাম,এসে দেখি গাড়ীর পাশে দাড়িয়ে
মুখের দিকে তাকালাম বেশ অভিমানী চেহারা।
চলে যাবে?হুমম চলে যাচ্ছি।এখন আসার সময় হলো?কাল দেখা হবে না বাবা বলেছেন কোথায় যেন যাবেন আমি যেতে হবে তাহার সাথে।
অকে ফোন দিও।
উপরে গেলাম ডাক্তার ডাকলেন,কথা বল্লাম ডাক্তারের সাথে ।
ডাক্তার আপনার বোন কে নিয়ে ঢাকায় চলে যান নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে,আমাদের এখানে উনার চিকিৎসা নেই।ডাক্তার রেফার করে দিলেন কি আর করার বাড়ী ফিরে এলাম।ফোন দিলাল কয়েকবার স্পর্শীকে জানানোর জন্য,ফোন আর ধরলো না হয় তো ব্যস্থ।বাড়ি ফিরে রাতেই ঢাকায় নিয়ে গেলাম,ব্যস্থতার জন্য আর কথা হলো না,নতুন জায়গা নতুন পরিবেশ ফোন দেবার সময় সুযোগ হয়ে উঠেনি।দুদিন পরে একটু ফ্রি হলাম বসে আছি ফোন বেজে উঠলো স্পর্শীর ফোন –হ্যালো স্যরি যোগাযোগ না করতে পারায়,আজ ফ্রি হলাম সকালে হাসপাতালে এসে দেখি তোমাদের ছুটি দেয়া হয়ে গেছে।
এখন ঢাকায় আছি।
শুনেছি ওর অবস্থা এখন কেমন।
একটু ভালো।
সাবধানে থেকো নিজের দিকে খেয়াল রেখো রাখি পরে কথা হবে।
প্রতি রাতে কথা হতো কথা হতো দুজনেই ব্যস্থতার ফাঁকে ফাঁকে।
টানা ১৪দিন পর ছুটি পেলাম বাড়ি ফিরে আসবো ফোন দিয়ে জানাবো স্পর্শীকে দেখি ফোন বন্ধ,সারা দিন ট্রাই করলাম বন্ধ,বাড়ী ফিরে এলাম।দুদিন পর সকালে স্পর্শীর ফোন খুব রাগ করলাম তার সাথে কোন উওর না দিয়ে চুপ—-কিছুক্ষন পরে
স্যরি আমার কথা আগে শুনোন আমার ফোন হারিয়ে গিয়েছিলো তাই ফোন করতে পারি নি পারিনি কোনো খবর নিতে,আজ সিম তোলে হাসপাতালে এসে পুরোনো ফাইল খুঁজে তোমার নাম্বার নিয়ে ফোন দিলাম,
কি করো কোথায় এখন তুমি।
বাড়ি চলে এসেছি গত কাল।
তুমি কাল সকালে ৮টায় চৌহাট্টায় এসো জরুরী দেখা করো দেরি বা মিছ করো না।
সকাল ৮টায় চৌহাট্টায় দাড়িয়ে আছি একটা নোহা গাড়ী আমার সামনে দাড়ালো দরজা খুলেই স্পর্শী নেমে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো।
কিছু না বুঝে শান্তনা দিয়ে জানতে চাইলাম কি হয়েছে, চেয়ে দেখলাম গাড়ীতে তার ভাবি কাপড়ের বেগ গুছানো হাতে পাসপোর্ট,মনে করলাম হয়তো ভাবিকে এগিয়ে দিতে যাচ্ছে,গাড়িতে উঠে জানতে পারলাম উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় যাচ্ছে যতক্ষন ছিলাম অনেক কাঁদলো।
বিমান বন্দরে গিয়ে তাকে বিমানে তোলে দিয়ে ফিরতে মনে হচ্ছিলো বুকটা খালি হয়ে গেলো।আজ অনেকটা দিন কোনও খবর নেই,নেই কোন ফোন যোগাযোগ,
তার স্মৃতি ধরে পথও চেয়ে আছি সে আজ কাছে নাই স্মৃতি গুলো আছে,
খুব কাছাকাছি—–ঠিক স্মৃতির পাতায়।