আলাল আহমদ শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার :
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা অংশের অন্তর্গত ভুনবীর ইউপি’র অন্তর্গত হাইল হাওরের বাল্লা বিলে চলছে বিল সেচে মাছ আহরণের প্রস্তুতি। শ্রীমঙ্গল শহর হতে প্রায় ২০ কি.মি. দুরে বাল্লা বিলে মাছ ধরার এ অবৈধ প্রয়াস চলছে সপ্তাহকাল ধরে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল হাওরের বিল ঘিরে বিস্তৃর্ণ অঞ্চল বাঁধ দিয়ে পানি শুকানোর জন্য বসিয়েছে শ্যালো ইঞ্জিন। চলছে পানি শুকানোর তৎপরতা। নিয়ে বিল পাড়ে রাখা হয়েছে মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম। গত মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে বাল্লাবিল এলাকায় গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাথে সাথে সেচ ইঞ্জিন বন্ধ করে ফেলে শ্যালো মেশিন চালনারত উপস্থিত লোকজন। বিস্তৃর্ণ বিল নৌকায় চড়ে পর্যবেক্ষণের সময় দেখা যায় অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরছে লোকজন।জানা যায়, এ হাওরটি একসময় অভয়াশ্রম ছিল, তখন ‘বাল্লা উন্নয়ন সংগঠন’ নামে একটি সংগঠন জলমহাল পরিচালনায় ছিল। বর্তমানে জলমহাল নেই ও সংগঠনের কার্যক্রম নাই।
স্থানীয় মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘হাওরের বাল্লাবিলে বাঁধ নির্মান করে পানি সেচ দেওয়ার ফলে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এখানে আসছে না। তাছাড়া হাওরের জীববৈচিত্র সংকটে পড়ছে। ‘খোদাবিল’ নামে হাওরের একটি অংশ থেকে ইতোমধ্যে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হয়েছে, যার বাজার মুল্য আনুমানিক দশ লক্ষ টাকা। যেভাবে হাওরে বাঁধ দিয়ে পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে, তাতে মাছের পোনা একটিও থাকবে না। ভবিষ্যতে হাওরে মাছের আকাল দেখা দিবে। প্রভাবশালীরা পুরো হাওর দখল করে মাছ শিকার করছে। এগুলো অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’
জগন সরকার বলেন, ‘এখানে সেচ দিয়ে হাওরের বিলের পানি শুকিয়ে মাছ ধরা হলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। শুধু তাই নয় নষ্ট হবে মাছের জীব বৈচিত্র।’স্থানীয় বাসিন্দা মৎসজীবি রাধা সরকার অভিযোগ করে জানান, ‘আমরা হাওর পারের দরিদ্র মানুষরা বাপ – দাদার আমল থেকে হাওরে মাছ ধরে দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করি।
একশ্রেণীর চিহ্নিত প্রভাবশালীরা হাওর দখল করে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছে ও যেকোন সময় ব্যাপকভাবে আহরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পানিতে নামলে তারা আমাদের মাছ ধরতে বাধা দেয়।মৎসজীবি অর্জুন সরকারসহ একাধিক স্থানীয়রা ‘দৈনিক জনতা’কে বলেন ‘বাঁধ দিয়ে পানি সেচ কাজ করছেন পিয়ার আলী সাব ও ভানু চেয়ারম্যান ’এ সম্পর্কে পিয়ার আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘আমি বাঁধ দিয়ে মাছ আহরণের সাথে জড়িত নই। কে বা কারা করছে আমি জানি না। শ্রীমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়কে স্থানীয়দের অভিযোগে আসার প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোথায় এগুলো হচ্ছে আমি আদৌ জানি না, যে বা যারা বলেছে তারা কেন বলেছে সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে।
কেউ যদি এসব (বিল থেকে অবৈধভাবে মৎস আহরণ) করে, তাহলে উপজেলা প্রশাসন দেখবে।শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো. শহীদুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘বিল পুরো শুকিয়ে মাছ ধরা যাবে না তবে মেশিন দিয়ে কিছু পানি কমিয়ে মাছ ধরা যাবে। এটাই আইন। মাছের পোনা প্রজনন (রেনু) বৈশাখ মাস থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত হয়। এখন প্রজনন মৌসুম নয়। আমি সম্প্রতি বাল্লা বিলে গিয়ে সেচ বন্ধ করে দিয়ে এসেছিলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে আবারো অভিযান পরিচালনা করে শ্যালো মেশিন জব্দ করে নিয়ে আসব।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন ‘বিল সেচের কোন এখতিয়ার কারো নাই। আমি এভাবে মাছ আহরণ সম্পকে জানি না। আমি মৎস কর্মকর্তার সাথে আলোচনাক্রমে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিচ্ছি।এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাইল হাওরের অদুরে প্রবাহিত গোপলা নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীরা বেড় দিয়ে স্থায়ীভাবে মাছ ধরছে। সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ কারেন্ট জাল। স্থানীয় দরিদ্র মৎসজীবিরা মাছ আহরনের সুযোগ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।






