কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধি
গ্রাম্য রাস্তা বেদখল হওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর হাজীনগর গ্রামের লোকজন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গ্রামের প্রবাসী পরিবারসহ কয়েকটি বাড়ির প্রায় দেড় শতাধিক লোকের যাতায়াতে একমাত্র রাস্তাটির দু’পাশ কেটে ফেলায় বেদখলকৃত গ্রাম্য রাস্তা উদ্ধারে গ্রামবাসী শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তাটি বেদখল হওয়ায় হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও আত্মীয় স্বজনের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্ত সিতারা বেগম বিকল্প জমি দিয়ে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামের প্রবাসি মুহিবুর রহমান, শরীফ মিয়া, মজিদ মিয়াসহ অভিযোগকারীরা বলেন, আমাদের সাতটি বাড়ির চৌদ্দটি পরিবার সদস্যদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি গ্রামের তাজ্জুব মিয়ার স্ত্রী সিতারা বেগম নিজের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা বহাল রেখে অবশিষ্ট রাস্তাটির দু’পাশ নিজের জমির সাথে কেটে মিলিয়ে নিয়েছেন। রাস্তার দু’পাশ কেটে ফেলায় এখন রীতিমতো আমরা বন্দি হয়ে পড়েছি। গ্রাম্য এই রাস্তাটি উদ্ধারে এলাকার মায়মুরুব্বি ও মেম্বারের সরনাপন্ন এবং সর্বশেষ ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই গ্রাম্য রাস্তা উদ্ধারের চেষ্টা করেও কোন সুরাহা করতে পারেননি। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, রাস্তাটি কেটে নেয়ায় আমরা হাটবাজার ও মসজিদে যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এমনকি কোন আত্মীয় স্বজনও যানবাহন নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে আমাদের বাড়িতে আসতে পারেন না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তারা গ্রাম্য রাস্তা উদ্ধারের দাবি জানান।
অভিযোগকারীরা জানান, শমশেরনগর ইউনিয়নের হাজীনগর গ্রামের হাজী আব্দুল গণি রাস্তা হতে লাঘাটা নদীর বাঁধ পর্যন্ত যুগযুগ ধরে গ্রাম্য রাস্তা প্রবাহিত। এই রাস্তা দিয়ে সাতটি বাড়ি ও আশপাশের আরও ১৪টি পরিবারের প্রায় দেড় শতাধিক লোক এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। তবে একই গ্রামের তাজ্জুব মিয়ার স্ত্রী সিতারা বেগম নিজের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা বহাল রেখে অবশিষ্ট রাস্তাটির দু’পাশ নিজের জমির সাথে কেটে মিলিয়ে নিয়েছেন। সিতারা বেগম নিজেদের চলার ব্যবস্থা রেখে বিভিন্ন সময়ে রাস্তার সাথে নিজের জমির বদৌলতে পর্যায়ক্রমে গ্রাম্য ঐ রাস্তার দু’পাশ কেটে ভরাট নিয়েছেন। ঐ রাস্তা কেটে নেয়ায় গ্রামের পাঁচটি প্রবাসী পরিবারসহ চৌদ্দটি পরিবারের লোকজনের পায়ে হেঁটেও যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে না। রাস্তা দিয়ে প্রবাসী মুহিবুর রহমান, মজিদ মিয়া, মুর্শেদুর রহমান, শরীফ মিয়া, মঞ্জু মিয়া এবং গ্রামের জামাল মিয়া, আব্দুস শহীদ, আবু তালেব, কাসেম মিয়া, সোবহান মিয়া ও জসিম মিয়াসহ চৌদ্দটি পরিবারের শতাধিক লোকের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গ্রাম্য লোকজন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
তবে অভিযোগ বিষয়ে সিতারা বেগম বলেন, এদিকে রাস্তা নেওয়া হলে আমার বাড়িঘরে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হবে। তাই ধানী জমি দিয়ে বিকল্পভাবে রাস্তা নির্মানের জন্য তাদের বলেছি। শমশেরনগর ইউপি চেয়ার্যান মো. জুয়েল আহমদ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভূক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এই রাস্তাটি পুরাতন রাস্তা এবং গ্রামের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করে আসছেন। রাস্তাটি মুক্ত করে দেয়ার কথা বললেও অভিযুক্ত মহিলা সিতারা বেগম সেটি মানতে রাজি হননি।
কমলগঞ্জে রাস্তা বেদখল হওয়ায় গ্রামবাসীর যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ
Catagory : মৌলভীবাজার | তারিখ : মার্চ, ১, ২০১৮, ৬:৪২ অপরাহ্ণ • ১ বার পঠিত






