আজ-  ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - ২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠিত «» মৌলভীবাজারে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল  «» কমলগঞ্জে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২ হাজার সুবিধাভোগীর মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ «» কমলগঞ্জের খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল সংকট; দুর্ভোগে ক্রেতারা «» নওগাঁয় ইফতারে গিয়ে গ্রেপ্তার আ.লীগ নেতা «» পূর্ব লন্ডনের ইফতার মাহফিলে প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে জিএসসি ইউকের জোরালো ভূমিকার অঙ্গীকার «» পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণ «» বগুড়া নন্দীগ্রামে ৪৪টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় খেজুর বিতরণ  «» দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত «» প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের জোরালো ভূমিকার অঙ্গীকার;

মৌলভীবাজারের পদিনাপুরের সেই রাবিয়া পরিবারসহ এখনও খোলা আকাশের নীচে

মৌলভীবাজার ::

মৌলভীবাজারের পশ্চিম পদিনাপুরের সেই রাবিয়া পরিবারসহ এখনও খোলা আকাশের নীচে। গত ১১ ফেব্রুয়ারী রোববার দুপুরে খোলা আকাশের নীচে থাকা পরিবারটি গলায় প্লে-কার্ড ঝুলিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালণ করেছিল। তাদের গলায় ঝুলানো প্লে-কার্ডগুলোতে লিখা ছিল- “আমরা আমাদের ক্রয়কৃত ভূমি রেজিষ্ট্রি চাই, বসতঘর নির্মান চাই। স্বারিত সাদা ষ্ট্যাম্প ফেরৎ চাই, লুটকৃত মালামাল ফেরৎ চাই। যথাযথ তিপূরণ চাই, রাষ্ট্রীয় ও আইনী সুরা চাই। আমি শিশু বাঁচতে চাই ইত্যাদি শ্লোগান সংবলিত প্লে-কার্ড। একপর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আলম খাঁন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুল ইসলাম তাদের কাছে গিয়ে দ্রুত প্রতিকারের আশ্বাস দিলে তারা অবস্থান কর্মসুচি প্রত্যাহার করে গ্রামে ফিরে যায়।
অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং আপার কাগাবলা ইউনিয়নস্থিত পশ্চিম পদিনাপুর গ্রামের ৭ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের গৃহিনী রাবিয়া বেগম জানান- দীর্ঘ ১০/১৫ বছর যাবৎ তিনি তার ভাই বাজিদ মিয়ার কাছ থেকে ক্রয়কৃত ভূমিতে মাটি ভরাট, বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২শ বৃরোপন ও বসতঘর তৈরী করে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাসরত। রাবিয়ার ৫ বোন ও ৪ ভাইয়ের মধ্যে ৩ ভাই তাজুদ মিয়া, কটু মিয়া ও শফিক মিয়া তাদের ভূমি থেকে কিছু ভূমি নবীগঞ্জ উপজেলার কাইস্তগ্রামের মন্নান পীরের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এবং কিছু ভূমিতে তারা বসবাসরত। অপর ১ ভাই বাজিদ মিয়া তার ভূমি থেকে ৩ পোয়া (সাড়ে ২২ শতক) ভূমি পরবর্তীতে রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার শর্তে রাবিয়ার কাছে বিক্রি করেন প্রায় ১০/১৫ বছর পূর্বে। পরবর্তীতে ভাই বাজিদ মিয়া উক্ত ভূমি রাবিয়ার নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার উদ্যোগ নিলে অপর ৩ ভাই তাজুদ মিয়া, কটু মিয়া ও শফিক মিয়া তাতে আপত্তি তুলে রাবিয়াকে উচ্ছেদ করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ জানুয়ারী রাত ৮টার দিকে তাজুদ মিয়া ও তার স্ত্রী রাসনা বেগম, কটু মিয়া, শফিক মিয়া ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগম দা, শাবল, খুন্তি ইত্যাদি অস্ত্রসজ্জিত হয়ে এসে রাবিয়ার বসতঘর ভেঙ্গে ফেলতে থাকে। এসময় বাধা দিলে তারা রাবিয়া ও তার স্বামী মুটুক মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে বসতঘর ভেঙ্গে তছনছ করে এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা, ১০ বান ঢেউটিন, ৫০ কেজির ২ বস্তা চাউল, ৫০ কেজির ১ বস্তা আটা, ৫০টি হাস, ৫টি ছাগল, ৪টি গরু, ১৫ মন ধান ও ৫০ হাজার টাকার চিরাই কাঠ লুট করে নিয়ে যায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় এহেন তান্ডব চালিয়ে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর রাতেই মুটুক মিয়াকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়। স্বামী মুটুক মিয়া কিছুটা সুস্থ্য হয়ে গত ৭ জানুয়ারী বাড়ীতে আসার পর মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে এএসআই ওলিউল ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পেলেও এখনও মামলা রেকর্ড করা হয়নি। অপরদিকে, এএসআই ওলিউল বিষয়টি মিমাংসার জন্য থানায় সালিশের আয়োজন করেন। সালিশে তিনি সাদা ষ্ট্যাম্পে সবার স্বার নেন এবং ১ লাখ টাকা নিয়ে রাবিয়া উক্ত ভূমি ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এতে রাজী না হয়ে পুণঃবিচারপ্রার্থী হলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। ৪ জানুয়ারী রাতের ওই ঘটনার পর থেকে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন স্বামী-সন্তানসহ রাবিয়ার ৭ সদস্যের পরিবার। দীর্ঘ ১ মাসেরও বেশীদিন খোলা আকাশের নীচে থাকতে থাকতে রাবিয়ার পরিবার এ কর্মসূচী পালণ করে। এরপর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে আরও ৩ সপ্তাহ। এরই মধ্যে এক রাতে বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটাতে হয়েছে তাদেরকে। এখনও অনাহারে-অর্ধাহারে, নির্যাতকদের ভয়ে প্রায় নির্ঘুম মানবেতর দিনাতিপাত করছে রাবিয়ার পরিবার।