আজ-  ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» বৃটেনের কার্ডিফে হলো ” ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার ডিভলিউশনের জনক” রডরি মর্গানের স্ট্যাচু, «» হযরত শাহ আজম (রহ.) হিফজুল কুরআন দরগাহ মডেল মাদ্রাসায় ফল বিতরণ, ফল উৎসব ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। «» কার্ডিফে ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার ডিভলিউশনের জনক রডরি মর্গানের স্ট্যাচু নির্মাণ «» কমলগঞ্জে ৫০০ বন্যার্ত মানুষের পাশে বিএনপি নেতা স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী «» জমির অভাবে কমলগঞ্জে আটকে আছে তৃতীয় পাবলিক টয়লেট ও ১ কোটি ২০ লাখ টাকার এফএসটিপি প্রকল্প «» আনজুমানে আল ইসলাহ কমলগঞ্জ পৌর ০৮নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। «» আনজুমানে আল ইসলাহ কমলগঞ্জ পৌর ০৮নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। «» পূর্ব লন্ডনে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদারে ‘ভাই বন্ধু’ গ্রুপের বার্ষিক গেট-টুগেদার অনুষ্ঠিত «» পচন যখন গোড়ায়: একটি ডিম হাতিয়ে নেওয়া ও আমাদের সামষ্টিক নৈতিক দেউলিয়াত্ব «» বগুড়া সান্তাহারে নারীকে অশালীন ভিডিও-আপত্তিকর বার্তা পাঠানো; পর্নোগ্রাফি মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

পচন যখন গোড়ায়: একটি ডিম হাতিয়ে নেওয়া ও আমাদের সামষ্টিক নৈতিক দেউলিয়াত্ব

  • নিকোলাস বিশ্বাস

যেকোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে হতাশাজনক, ক্ষোভমিশ্রিত এবং নির্মম সত্য আর কী হতে পারে? কিন্তু এই গভীর হতাশা তো কোনো আকস্মিক শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি। এটি আমাদের প্রতিদিনের যাপিত জীবন, আমাদের চারপাশের চেনা মানুষ এবং আমাদের নিজেদেরই তৈরি এক সম্মিলিত অবক্ষয়ের অমোঘ ফসল। আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুর মেগা-দুর্নীতি নিয়ে কথা বলি, হাজার কোটি টাকার ব্যাংক লোপাট নিয়ে টকশোতে কিংবা চায়ের কাপে ঝড় তুলি। কিন্তু আমাদের সমাজের একেবারে ভেতরটা, সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব যে কতটা জীর্ণ এবং ঘুণপোকা-ধরা হয়ে গেছে, তা আমরা কৌশলে এড়িয়ে যাই। আমরা ভাবি, দুর্নীতি কেবল ওপরের স্তরের মানুষের একচেটিয়া অধিকার। অথচ আসল সত্য হলো, ক্ষমতার ক্ষুদ্রতম সুযোগ পেলেও আমাদের সাধারণ নাগরিকের বড় অংশই সেই একই অনৈতিকতার চর্চা করে, যা বড় বড় লুটেরারা করে থাকে।

ডিম চুরির উপাখ্যান, একটি জাতীয় চরিত্রের দর্পণ: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ছোট, অথচ চরম প্রতীকী ঘটনা আমাদের এই ভেতরের কদর্য রূপটাকে নগ্নভাবে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ঘটনাটি স্রেফ একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়, এটি একটি সামষ্টিক চারিত্রিক স্খলনের দলিল। একজন নারী ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। একই রাস্তায় একটি পিকআপ ভ্যানে করে ডিম নিয়ে যাচ্ছিলেন এক চালক। সামনের কোনো এক যানজটে পড়ে ভ্যানটি যখনই ওই নারীর হাতের নাগালে এলো, তিনি মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ দেখে নিয়ে টুপ করে দুটি ডিম হাতিয়ে নিজের ব্যাগে রেখে দেন। কোনো দ্বিধা নেই, কোনো অপরাধবোধ নেই, যেন অতি স্বাভাবিক এক অধিকার তিনি খাটিয়ে নিলেন।

মোটা দাগে মনে হতেই পারে, এস আলমের লক্ষ কোটি টাকা ব্যাংক লোপাট কিংবা শীর্ষ আমলা ও ব্যবসায়ীদের মেগা-দুর্নীতির তুলনায় দুটি ডিম হাতিয়ে নেওয়া এমন কী বড় ঘটনা! এই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এত আদিখ্যেতার কী আছে? কিন্তু গভীরভাবে তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এটাই আসলে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। ব্যাংকের টাকা চুরি বা রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করার সুযোগ সবার হয় না; তার জন্য একটা নির্দিষ্ট ক্ষমতার স্তরে পৌঁছাতে হয়, লবিং করতে হয়, প্রভাবশালী হতে হয়। কিন্তু এই যে জ্যামে আটকে থাকা ভ্যান থেকে দুটি ডিম তুলে নেওয়া – এটি দেখায় যে, আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষের মজ্জায় মজ্জায় এখন সততার অভাব। সুযোগের অভাবে আমরা অনেকেই হয়তো সাধু সেজে বসে আছি, কিন্তু সামান্যতম সুযোগ পেলেই নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দিতে আমাদের এক সেকেন্ডও সময় লাগে না। এই নারীর ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে আসলে আমাদের পুরো জাতিরাষ্ট্রের চারিত্রিক স্খলন নগ্নরূপে ধরা পড়েছে। আমরা আসলে প্রায় সবাই এখন এমন হয়ে গেছি।

শৈশবের হারিয়ে যাওয়া পাঠ ও আধুনিক শিক্ষার অন্তঃসারশূন্যতা: প্রশ্ন জাগে, আমাদের এই সামগ্রিক পতন কেন হলো? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবার আর সমাজ কি তবে পুরোপুরি ব্যর্থ? শৈশবে আমরা যে পাঠ্যবই পড়ে বড় হয়েছি, সেখানে অত্যন্ত সহজ ভাষায় কিছু চিরন্তন সত্য ও মূল্যবোধ শেখানো হতো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সেইসব অমর বাণী: “পরের হিত চিন্তা করিবে”, “অন্যের অনিষ্ট করিবে না”, “সদা সত্য কথা বলিবে”, “মিথ্যা বলা মহাপাপ”, কিংবা “অকারণে গাছের পাতা ছিড়িবে না”। এই আপ্তবাক্যগুলো শুধু পরীক্ষার খাতায় লিখে নম্বর পাওয়ার জন্য ছিল না; এগুলো ছিল একজন মানুষের মানবিক ও নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার হাতিয়ার।

কিন্তু আজ আমাদের শিক্ষকরা কি আর এসব শেখান? নাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন কেবল জিপিএ-৫, সার্টিফিকেট আর কর্পোরেট বাজারের জন্য রোবট তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে? এখনকার জিপিএ-৫ পাওয়া মেধারী সন্তানটি যখন বড় হ