আজ-  ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১লা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» চলতি অর্থবছরের মধ্যে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন হবে: ——শ্রীমঙ্গলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম «» শ্রীমঙ্গলে নারীর লাশ উদ্ধার «» ফ্যাসিস্ট সরকারের  স্বৈরাশাসন চলালালে দেশে মানবাধিকার লুঙ্গিতো হয়েছে  «» বগুড়া সান্তাহারে পুকুর থেকে তিন মন রাক্ষুসে পিরানহা মাছ জব্দ, দুই চাষীকে জরিমা-না  «» সিলেটে সড়ক দূর্ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন : আবু তালহা তোফায়েল  «» ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে হযরত শাহ আজম (রহ.)-এর ৪৭ তম উরুসে আউলিয়া ও ঈসালে সাওয়াব মাহফিল সম্পন্ন «» জনগণের অধিকার রক্ষায় যুবসমাজকে সোচ্চার হতে হবে «» বগুড়ায় সার কারখানায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, লুট সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামাল «» ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা: শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত «» শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসের যাত্রাবিরতি পুনর্বহালের দাবি

কমলগঞ্জের ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা সমাপ্ত

আলাল আহমদ কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা হয়েছে।

১৪ এপ্রিল শনিবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ চড়ক পূজা ও মেলা শেষ হবে রবিবার বিকেলে। দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের ছয়চিরিসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ঐতিহ্যবাহী এই চড়ক উৎসব দেখতে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের লোকের সমাগম হয়েছে।

প্রাচীন ঐতিহ্য লালিত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে পুঞ্জিকা মতে প্রতিবছরের চৈত্র সংক্রান্তিতে দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে চড়ক পূজা উৎসব। পূজা উপলক্ষে প্রতিবছর বসে  মেলা।

জানা যায়, চড়ক পূজা উৎসবের ১০/১২ দিন পূর্ব থেকে বিভিন্ন এলাকার পূজারীর মধ্যে ৪০/৫০ জন সন্ন্যাসী ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিব-গৌরী সহ নৃত্যগীত সহকারে ভিক্ষাবৃত্তিতে অংশ নেন। এ ক’দিন তারা পবিত্রতার সহিত সন্যাস  ব্রত পালন করে নিরামিষ ভোজি এবং সারাদিন উপবাস পালন করেন। চড়ক পূজার ২ দিন পূর্বে পূজারীরা শ্মশানে গিয়ে পূজা অর্চনা করেন ও শেষে গৌরীর বিয়ে, গৌরী নাচ ও বিভিন্ন গান গেয়ে ঢাকের বাজনায় সরগরম করে গোটা এলাকা।

শনিবার দুপুর থেকে নারী পুরুষ দর্শনার্থীর বিশাল সমাগম ঘটে। শনিবার বিকেল থেকে ভক্তরা মন্ডলীতে বিশাল দা (বলিছেদ) দিয়ে নৃত্য, শিবের নৃত্য ও কালীর নৃত্য দেখানো হয়। নৃত্য শেষে ঐতিহাসিক ছয়চিরি দিঘীতে স্নান করে ভক্তদেরকে লোহার শিকড় শরীরের বিভিন্ন অংশে পিষ্ট (গাঁথা) করা হয়। বিশেষ করে জিহ্নবা ও গলায় গেঁথে দেয়া হয়। নৃত্যের তালে তালে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। দেবতার পূজা-অর্চনা শেষে অপরাহ্নে মূল সন্ন্যাসী ৪ জন ভক্তের (জ্যান্ত মানুষের) পিঠে লোহার দু’টি করে বিরাট আকৃতির বড়শি গেঁথে রশিতে বেঁধে ঝুলিয়ে চড়ক গাছ ঘুরানো হয়। এ সময়ে দর্শনার্থীদের অনেকে বাতাসা আর কলা উপরের দিকে উড়িয়ে দেন আর দর্শনার্থীরা তা কুড়িয়ে নেন।এদিকে চড়ক পূজা উপলক্ষে বিশাল মেলা বসে। মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিভিন্ন রকমারি জিনিসপত্রের সয়লাব থাকে। যুগ যুগ ধরে এ চড়ক উৎসব এ অঞ্চলের হিন্দুদের বেশ নাড়া দিয়ে আসছে। বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দু’দিন ও ১লা বৈশাখ বসে মেলা। শেষ চৈত্রের গোধুলীলগ্নে চড়ক গাছ মাটিতে পুঁতে ঘোরানো হয়। এর আগে ভক্ত ও পূজারীরা চড়ক গাছে ফুল, দুধ ও চিনি দিয়ে পূজা দেয়।