শ. ই. সরকার জবলু, মৌলভীবাজার ঃ
মৌলভীবাজারে আলী আমজাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ও দূর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষক আয়শা শাহনাজের শাস্তি ও বদলীর দাবীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ মানববন্ধন কর্মসূচী পালণ করেছেন গত ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে।
বিদ্যালয়ের সচেতন ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দের আয়োজনে শহরের চৌমোহনা চত্ত¡রে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন শেষে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অভিভাবক জুনেদ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বুলবুল আহমদ, আনকার মিয়া, মোছাঃ জলি খান, অরবিন্দ দাশ, শাহাজান আহমদ, সৈয়দ আনোয়ার আহম্মদ, রনধির দাস, আব্দুল আহাদ বাবলু প্রমুখ। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেও প্রতি অবিলম্বে এই মানসিক ভারসাম্যহীন ও দূর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে অপসারনের দাবী জানান। সেইসাথে মানসিক ভারসাম্যহীন ও দূর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষক আয়শা শাহনাজকে বদলী না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ে না পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের পর শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল মিছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।
উলেখ্য- প্রধান শিক্ষক আয়শা শাহনাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এখানে যোগদানের পর থেকেই ব্যবস্থাপনা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে চলছেন। নিজের একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষক অভিভাবক সমিতির কোন সভা করছেননা। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকার প্রদত্ত ৫ (পাচ লাখ) টাকা তিনি একক সিদ্ধান্তে উত্তোলন করলেও ব্যয়ের হিসাব দেননি। সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তিতে অর্থ আদায় করেন। বিদ্যালয়ের ২ জন ঝি ও নাইট গার্ডের বেতন বাবদ প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছ অর্থ আদায় করলেও তাদেরকে বেতন-ভাতা না দিয়ে মারধোরক্রমে তাড়িয়ে দেন। ঝি ও নাইট গার্ডের বেতন-ভাতার টাকারও কোন হিসাব দেননি। ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বাক্ষর ছাড়াই সকল শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করেন। যোগদানের পর থেকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেননি। বিদ্যালয়ের খেলাধুলা, মিলাদ মাহফিল ও পূজাসহ কোন অনুষ্ঠানাদি পালন করেননা। বিদ্যালয়ের মেঝেতে টাইলস এবং ১টি কম্পিউটার স্থাপনে প্রায় ৩৫/৪০ লাখ টাকা ব্যয় করলেও কাজ শেষ হবারআগেই কম্পিউটারটি কে বা কারা নিয়ে যায়। উক্ত ৩৫/৪০ লাখ টাকার উৎস সম্পর্কেও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবগত করেননি। এককথায়, বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ সার্বিক ক্ষেত্রে অবনতি হচ্ছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।






