আজ-  ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» টিআইবির গবেষণা নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক: টিআইবি «» তারকাখচিত জাতীয় অ্যাওয়ার্ডসে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হলো ব্রিটেনের কারি শিল্প «» কর্মজীবনের ইতি টানছেন ব্যাংকার সালাহ্ উদ্দিন, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আবেগঘন শুভেচ্ছা বিনিময় «» সাংবাদিক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে মামলা, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ «» সান্তাহারে হোটেলের খাবার খেয়ে পাঁচজন হাসপাতালে, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অভিযোগ «» অন্যের প্ররোচনায় অভিযোগ দায়ের) আদমদীঘিতে ভূমি অফিসের হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মুসলেকা দেন অভিযোগকারী «» কমলগঞ্জের জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত; আটক ১ «» কমলগঞ্জের জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত; আটক ১ «» সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারহীনতা অবসানের আন্তর্জাতিক দিবসে ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয়ের বিবৃতি «» মৌলভীবাজারে ফ্রী চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত

গীবত ঈমান-আমলকে বিনষ্ট করে-ইমাদ উদ্দিন হাসান

দীপ্ত নিউজ ডটকম : ইসলামের দৃষ্টিতে গীবত একটি নিন্দনীয় অপরাধ। ব্যভিচারের চেয়েও বড় গোনাহ। এতে শুধু আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হন না, বরং মানুষ নেকী থেকেও বঞ্চিত হয়। আল্লাহ এরশাদ করেন-তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি স্বীয় মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। (সূরা হুজুরাত : ১২)।

 

হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন তোমরা গীবত বা পরনিন্দা করা থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ তাতে তিনটি ক্ষতি রয়েছে, প্রথমত গীবতকারীর দোয়া কবুল হয় না। দ্বিতীয়ত গীবতকারীর কোনো নেক আমল কবুল হয় না এবং তৃতীয়ত আমলনামায় তার পাপ বৃদ্ধি হয়ে থাকে। (বুখারি : ২৮৩৭)।

 

আজকাল মানুষ সবসময় মানুষের গীবত করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। রাস্তা ঘাটে, মাঠে,বাজারে প্রতিটায় জায়গায় অন্যের বদনাম আর দোষ বর্ণনায় লিপ্ত। অথচ নিজের দোষের শেষ নেই, সেদিকে তার সামান্যতমও খেয়াল নেই। দুজন ব্যক্তি এক জায়গায় হলেই গীবত আর শেকায়ত নিয়ে পরে রয়। একটি ঘটনা বলি যার দ্বারা আপনারা বুঝতে পারবেন গীবতের দ্বারা কিভাবে মানুষের নেকীর ক্ষতি হয়। হজরত হাসান বসরী(রহঃ) এর জীবনের একটি ঘটনা। একদিন এক ব্যক্তি এসে থাকে বলল অমুক ব্যাক্তি আপনার গীবত করেছে। হজরত হাসান বসরী (রহঃ) সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি তাজা খেজুর আনলেন এবং একটি প্লেটে করে হাদিয়া হিসাবে ঐ ব্যাক্তির নিকট পাঠিয়ে দিলেন। সাথে চিরকুটে একথা লিখে পাঠালেন আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। কেননা আপনি গীবত করে আপনার পূণ্যগুলো আমার আমলনামায় স্থানান্তরিত করেছেন। আপনার এই দয়ার প্রতিদান তো আমি আর দিতে পারছি না। তাই এই সামান্য হাদিয়া গ্রহন করলে খুশি হব।

 

এই ঘটনা থেকে মুসলিম ভাই-বোনেরা আমরা বুঝতে পারি যে, গীবত বা পরনিন্দা দ্বারা গীবতকারীর নেকী তাকে দেওয়া হয় যার গীবত করা হয়েছে। আর যদি নেকী না থাকে তবে সেই ব্যাক্তির গোনাহ গীবতকারীর আমলনামায় যোগ করা হয়।তাই মুসলিম ভাই-বোনেরা সতর্ক হোন। গীবত করা ছেড়ে দিন। গীবত থেকে বেঁচে থাকা আমাদের কর্তব্য।

 

আল্লাহ তাআলা সবাইকে গীবতের কুফল অনুধাবন করে এসব নিন্দনীয় কাজ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক : মাদরাসা শিক্ষার্থী।