সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলের এক নেতাকে অপহরণ করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ওই নেতা শ্রীমঙ্গল থানায় গিয়ে আইনগত সহায়তা চান।
শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন সদস্য তার গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।
অভিযোগে তিনি বলেন, এ সময় তাকে এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ালে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যায়।
আব্দুল্লাহ আল হুসাইনের দাবি, কুলাউড়ায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের সফর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ ও মতবিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরো জানান, শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব রুহুল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া এবং ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও এনসিপির অন্যান্য নেতাকর্মীদের মধ্যে দাওয়াত প্রদান, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িতে অবস্থান নিয়ে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
এছাড়া কুলাউড়ায় কর্মসূচি চলাকালীন সময়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর রোডে এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল হুসাইনের আরও এক দফা কথাকাটাকাটি হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ জানায়, এধরণের একটি অভিযোগ পেয়েছেন,
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দলের নিজস্ব কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।






