আজ-  ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» রাষ্ট্রপতি কে হবেন সিদ্ধান্ত হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে: বগুড়ায় মির্জা ফখরুল «» শ্রীমঙ্গলে এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি মুজিবুর রহমানের «» সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়ন ও রেশন চালুর দাবি হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের «» নতুন কুড়ি জাতীয় পর্যায়ের বালক কাবাডি প্রতিযোগীতায় সিলেট বিভাগ চ্যাম্পিয়ন «» নওগাঁয় ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার «» মাদরাসায় ছাত্রীদের ফুটবল দল গঠনের নির্দেশনার প্রতিবাদে উদ্বেগ প্রকাশ মুজাহিদ আজমী’র  «» সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মৌলভীবাজার শহর শাখার নতুন কমিটি গঠন- সভাপতি শ্যামল, সম্পাদক পৌষী «» লন্ড‌নে সিলেট শাহজালাল হাউজিং এস্টেটস (উপশহর) প্রবাসী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যো‌গে সভা অনুষ্ঠিত «» কমলগঞ্জে উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটলো শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের ৯ দিনের উৎসব «» কমলগঞ্জে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মানবিক উদ্যোগ: কবর খননকারীদের জন্য এসএসের চাউনি নির্মাণ।

রাষ্ট্রপতি কে হবেন সিদ্ধান্ত হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে: বগুড়ায় মির্জা ফখরুল

( বগুড়া) প্রতিনিধি:

আগামীতে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তিনি বিএনপির দলীয় ব্যক্তি নাকি বাইরে থেকে আসবেন, সে সিদ্ধান্ত বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শনিবার দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে দুদিনব্যাপী ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার পর বিএনপির পক্ষ থেকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেনএ বিষয়ে বিএনপি সভা করবে। স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং হবে। আমাদের তো কোনো মিটিংই হয়নি এখনো। বৈঠকের পরই বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর নিজের নাম আলোচনায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বাজেট, অথচ একটি ইটও নেই। গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে এমন দুর্নীতি করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ মুখে ছিল উন্নয়নের বুলি। মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক ও সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দিতে হবে। দেশে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের সাফল্য যথাযথ গুরুত্ব পায় না। অথচ গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বাজেটের বড় একটি অংশ অপচয় হলেও গবেষণার মতো মৌলিক জায়গায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় না। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। গণমাধ্যমকেও গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সাফল্য আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে। পল্লী উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর নির্মাণ নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাও পল্লী উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন নয় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।তিনি বলেন সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। কোল্ড স্টোরেজ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণব্যবস্থার উন্নয়নে গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে। দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে হলে প্রতিটি গ্রামকে উন্নত অর্থনীতি ও শহুরে সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। 

তিনি বলেন, আরডিএ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের উপযুক্ত মর্যাদা ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা, মর্যাদা ও টেকসই উন্নয়নের পথ বেছে নিতে হবে। তরুণদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে তরুণেরা এগিয়ে এলে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি কৃষকেরাও লাভবান হবেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি সবার জন্য সহজলভ্য উন্নত চিকিৎসা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য এবং শ্রমিকদের সঠিক শ্রমমজুরি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএর মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন (রনি)। এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আরডিএর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী আরডিএ উদ্ভাবিত ‘সবুজ প্রযুক্তি প্রদর্শন’ ঘুরে দেখেন এবং একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি লটকন চারা রোপণ করেন।