সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
সিলেট বিভাগের রেল যোগাযোগ আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সিলেট-জকিগঞ্জ ও জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শনিবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন আকস্মিক পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট রেলপথটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই রেলপথে কী ধরনের উন্নয়ন করা যায়, তা সরকার পর্যালোচনা করছে।
তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ যেন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন এবং রেলের সেবার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেটিই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগার, টয়লেট, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গল স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, টয়লেটের মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহমদ এবং মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।
পর্যটকদের জন্য সিলেট বিভাগে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের বয়স অল্পদিন। আমাদের কিছুটা সময় দিন। জনগণের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আমরা নিজ দায়িত্বেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।”
মন্ত্রীর সফরসঙ্গী মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, সিলেট অঞ্চলের রেলব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মান সরেজমিনে যাচাই করতেই এই পরিদর্শন। তিনি জানান, এর আগে মন্ত্রী সায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনও পরিদর্শন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রী এই সফর করছেন। পথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘শ্রীমঙ্গল স্টেশন সিলেট বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। প্রতিদিন এখানে হাজারের বেশি পর্যটক যাতায়াত করলেও বসার আসন খুবই সীমিত। বর্তমানে একটি ভিআইপি ও একটি সাধারণ বিশ্রামাগার রয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয়। তিনি যাত্রী বিশ্রামাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি, বসার বেঞ্চ বাড়ানো এবং যাত্রীসেবা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।






