আজ-  ২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৩শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» জুড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা-শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সেবা থেকে বঞ্চিত «» কমলগঞ্জে ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলনগরু চুরি নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ «» শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, থানায় জিডি «» বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বিক্রেতাদের জরিমানা «» মৌলভীবাজারে ১ হাজার ১৮টি মণ্ডপে দুর্গাপপূজা, জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত «» বগুড়া সান্তাহারে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার «» রাজনগরে অনলাইন জুয়া চক্রের ১ জন সদস্য গ্রেফতার «» তালামীযে ইসলামিয়া জুড়ী উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন। «» কমলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরপুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন; বসতঘরে সংস্কার কাজে বাঁধায় দুভোর্গে পরিবার «» শ্রীমঙ্গলে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে বিপন্ন সোনালী হনুমানের মৃত্যু

মৌলভীবাজার জন্মতারিখ নাম পরিবর্তন ও জোরপূর্বক অবসর, ১৩ বছরেও প্রতিকার পাননি সাবেক স্টেশন মাস্টার শমশেরনগর


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
সার্ভিস বইয়ে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে জোরপূর্বক অবসর দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মৌলভীবাজারের শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের সাবেক স্টেশন মাস্টার গ্রেড-৪ মাসুক আহাম্মদ। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত জন্মতারিখের পরিবর্তে সার্ভিস বইয়ে অন্য জন্মতারিখ দেখিয়ে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও তিনি কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন।

মাসুক আহাম্মদের ভাষ্য, তাঁর প্রকৃত জন্মতারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৫৫। কিন্তু তাঁর সার্ভিস বই পরিবর্তন করে সেখানে জন্মতারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৪৫ দেখানো হয়। ওই পরিবর্তিত সার্ভিস বইয়ের ভিত্তিতে তাঁকে নির্ধারিত সময়ের আগেই অবসর গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি বলেন, তাঁর চূড়ান্ত অবসর নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অবসর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কোনো অবসরের আবেদন করেননি বলে দাবি করেন। অবসর নোটিশ পাওয়ার পর সার্ভিস বইটি আসল নয়—এমন অভিযোগ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।

মাসুক আহাম্মদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় তদন্তও হয় বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, তদন্তের সময় সার্ভিস বইয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাতায় স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার এবং তাঁর নিজের স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতি, অন্য ব্যক্তির নাম লেখা ও কাটা এবং অনুস্বাক্ষরের তারিখ ৭ আগস্ট ১৯৬৮ থাকার বিষয়গুলো উঠে আসে। অথচ তিনি চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৭৭ সালে। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের সময় এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জন্মতারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৪৫ হলে চাকরিতে যোগদানের সময় তাঁর বয়স ৩২ বছর ৩ দিন হতো। অথচ তৎকালীন চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ছিল ২৭ বছর। এ কারণে ওই জন্মতারিখ গ্রহণযোগ্য নয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বিবেচনায় নিয়ে জন্মতারিখ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয় বলে জানান মাসুক আহাম্মদ।

তবে তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই তদন্ত সুপারিশ গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন যোগাযোগ সচিবের কাছে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পর পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে সেই তদন্ত সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তীতে বিষয়টির সমাধানের আশায় তিনি তৎকালীন রেলমন্ত্রী ও যোগাযোগমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরি এবং বিষয়টির সুরাহার জন্য তাঁকে বারবার চট্টগ্রামে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাসুক আহাম্মদ বলেন, ওই সময় তাঁর বাবা মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। একদিকে বাবার চিকিৎসা ও পারিবারিক সংকট, অন্যদিকে চাকরি হারানোর অনিশ্চয়তায় তিনি চরম আর্থিক ও মানসিক দুরবস্থার মধ্যে পড়েন। চট্টগ্রামে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরির সময় কখনো কখনো স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাত কাটাতে হয়েছে এবং অনাহার-অর্ধাহারে থাকতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাত-পা অচল হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় তাঁর দুই সন্তান অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিল। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হয়। বর্তমানে তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

মাসুক আহাম্মদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কার্যকর তদন্ত বা প্রতিকার পাননি। তাঁর দাবি, সার্ভিস বইয়ে অনিয়মের বিষয়টি বিচারবিভাগ বা সেনাবাহিনী সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং চাকরিজীবনের ১৩ বছর হারানোর কারণে যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার প্রতিকার করা হোক।