আজ-  ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» জাতিসংঘের ঘোষিত ছয় অগ্রাধিকার ও বিশ্ব বাস্তবতা «» অংশীজনদের মতামতের আলোকে ঢেলে সাজাবার আহ্বান টিআইবির «» শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মুখপোড়া হনুমানের মৃত্যু «» কমলগঞ্জে আনসার ভিডিপি সদস্যের উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান «» কমলগঞ্জে রত্নগর্ভা মা সম্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা «» মৌলভীবাজারে ডিএনসির পৃথক অভিযান: চোলাইমদ ও গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২ «» যুক্তরাজ্যের এনফিল্ডে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ও জমজমাট কমিউনিটি ডে অনু‌ষ্ঠিত «» কমলগঞ্জে ১০ দিনব্যাপী  মণিপুরি লিপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্ত «» কমলগঞ্জে চিরকুট লিখে তরুণীর আত্মহত্যা «» কমলগঞ্জে বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে পাঁচটি বিষাক্ত মনোক্লেড কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার

সিলেটে ভাড়া বাসায় মৌলভীবাজারের তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার- আত্মহত্যা নাকি হত্যা! 

মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, ক্রাইম রিপোর্টার :

সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত (৩১) নামে এক তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত নয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার স্বপ্নিল-২০ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত প্রান্ত ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। জানা গেছে, আগের দিন রোববার তিনি স্ত্রীসহ ওই বাসায় ওঠেন।

নিহত পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত মৌলভীবাজার জেলার ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সাবিয়া গ্রামের  পুনেন্দ্র চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এ সময় চিকিৎসক প্রান্তকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির সোমবার রাতে জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ মুহূর্তে কোনো কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মানসিক সমস্যার কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিহত চিকিৎসক ও তার স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। রোববার তারা ওই বাসায় ওঠেন এবং পরদিনই ঘরের ভেতর থেকে প্রান্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর বিকেলে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সোমবার রাত পর্যন্ত নিহত চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। এ ঘটনায় থানায়ও কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মৃত্যুকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে

একজন তরুণ চিকিৎসক নতুন বাসায় ওঠার মাত্র একদিনের মাথায় কীভাবে মারা গেলেন—এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমাননির্ভরভাবে না দিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা জরুরি।

এটি আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই মিলতে পারে এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যের উত্তর।