আজ-  ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» আনজুমানে আল ইসলাহ কমলগঞ্জ পৌর ০৮নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। «» কমলগঞ্জে ‘অঞ্জলি-২’ এর প্রকাশনা উৎসব «» কমলগঞ্জে শাহিদা পারভীন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সফল ২০ জন সফ বাবাকে সংর্বধনা প্রদান «» কমলগঞ্জে ধলাই নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে ৩ গ্রামের মানুষের মানববন্ধন «» কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যার অবনতি «» বগুড়া আদমদীঘিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত «» বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে গরু ডাকাতি: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার ট্রাকসহ ৭টি গরু উদ্ধার «» কমলগঞ্জে বন্যার্তদের পাশে মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি «» মলগঞ্জে অবৈধভাবে গড়ে তোলা প্রায় ৩.২৯ হেক্টর পান বাগান উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ «» সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের যুগপূর্তি পালিত

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গাপুড়া পিঠার প্রধান উপকরণ ঢলুবাঁশ হারিয়ে যেতে চলেছে

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)প্রতিনিধি ঃ

সনাতনী ধর্মাম্বলীদের পৌষ সংক্রান্তি উৎসব আজ রোববার। এই উৎসবের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পিঠা (চুঙ্গাপিঠা) তৈরীর উপকরন হচ্ছে ঢলুবাঁশ এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই চুঙ্গা এখন আর আগের মতো তেমন একটা পাওয়া যায় না। মৌলভীবাজার ও সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্য পিঠে-পুলির অন্যতম চুঙ্গাপুড়া পিঠা বিলুপ্ত প্রায় হয়ে যাচ্ছে। আগের মতো এখন আর গ্রামীণ এলাকার বাড়িতে বাড়িতে চুঙ্গাপুড়ার আয়োজন চোখে পড়ে না। শীতের রাতে খডকুটো জ্বালিয়ে সারারাত চুঙ্গাপুড়ার দৃশ্য ও তাই দেখা যায় না। এক সময় ছিলো বাজারে মাছের মেলাও বসতো। সেই মেলা থেকে মাছ কিনে কিংবা হাওর-নদীর হতে বড় বড় রুই,কাতলা,চিতল, বোয়াল ,পাবদা, কই,মাগুর, মাছ ধরে নিয়ে এসে হাল্কা মসলা দিয়ে ভেজে (আঞ্চলিক ভাষায় মাছ বিরান) দিয়ে চুঙ্গাপুড়া পিঠা খাওয়া ছিলো মৌলভীবাজার ও সিলেটের ( সনাতন ধর্মীদের )একটি অন্যতম ঐতিহ্য। বাড়িতে মেহমান বা নতুন জামাইকে শেষ পাতে চুঙ্গাপুড়া পিঠা মাছ বিরান আর নারিকেলের পিঠা পরিবেশন না করলে যেনো লজ্জায় মাথা কাটা যেতো। বর্তমানে সেই দিন আর নেই। চুঙ্গাপিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ ঢলু বাঁশ ও বিন্নি ধানের চাল (বিরইন ধানের চাল) সরবরাহ এখন অনেক কমে গেছে। অনেক স্থানে এখন আর আগের মতো চাষাবাদ ও হয় না। মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাথরিয়া পাহাড়, জুড়ীর লাঠিটিলা, রাজনগরসহ বিভিন্ন উপজেলার টিলায় টিলায় ও চা-বাগানের টিলায় ,কুলাউড়ার গাজীপুরের পাহাড়,ও জুড়ী উপজেলার চুঙ্গাবাড়ীতে এবং কমলগঞ্জের পাহাড়ী এলাকায় প্রচুর ঢলুবাঁশ পাওয়া যেতো। তন্মধ্যে চুঙ্গাবাড়ী ও এক সময় প্রসিদ্ধ ছিলো ঢলুবাঁশের জন্যে। অনেক আগেই বনদস্যু ও ভুমিদস্যু এবং পাহাড়খেকোদের কারনে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে ঢলুবাঁশ । তবে জেলার কিছু কিছু টিলায় এখন ও ঢলুবাঁশ পাওয়া যায়। পাহাড়ে বাঁশ নাই বলে বাজারে এই ঢলুবাঁশের দামও এখন তাই বেশ চড়া। ব্যবসায়ীরা দূরবর্তী এলাকা থেকে এই ঢলুবাঁশ ক্রয় করে নিয়ে যান নিজ নিজ উপজেলার বাজার সমুহে বিক্রির আশায়। এই বাঁশটি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। ঢলুবাঁশ ছাড়া চুঙ্গাপিঠা তৈরি করা যায় না কারন ঢলুবাশে এক ধরনের তৈলাক্ত রাসায়নিক পদার্থ আছে, যা আগুনে বাঁশের চুঙ্গাকে না পোড়াতে সাহায্য করে। ঢলুবাঁশে অত্যধিক রস থাকায় আগুনে না পুড়ে ভিতরের পিঠা আগুনের তাপে সিদ্ধ হয়। ঢলুবাঁশের চুঙ্গা দিয়ে ভিন্ন স্বাদের পিঠা তৈরি করা করা হয়ে থাকে। কোনো কোনো জায়গায় চুঙ্গার ভেতরে বিন্নি চাল,দুধ, চিনি,নারিকেল,ও চালের গুড়া দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। পিঠা তৈরি হয়ে গেলে মোমবাতির মতো চুঙ্গা থেকে পিঠা আলাদা হয়ে যায়। চুঙ্গাপিঠা পোড়াতে আবার প্রচুর পরিমানে খেড় (নেরা) দরকার পড়ে। এই খড়ও এখন সময়ের প্রয়োজনে দাম একটু বেশি।