আজ-  ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ «» Bangladesh Caterers Association Engages MPs on Future of Britain’s Curry Industry «» মৌলভীবাজারে পবিত্র আশুরার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  «» হত্যার পর বিক্রি করা হয়েছিল রাকার দুল পুলিশের অভিযানে উদ্ধার গ্রেপ্তার স্বর্ণ ব্যবসায়ী «» মৌলভীবাজাের ১,৭১৪িট অিভযােন ৪৩২িট মাদক মামলা : ৪৯৪ জন ব্যিক্ত েগ্রফতার «» সীমান্তে ভারতের পুশইনের চেষ্টা, বিজেপির নোংরা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ «» সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫ «» শ্রীমঙ্গল সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে সচেতনতামূলক সভা, বিজিবির টহল জোরদার «» সান্তাহারে প্রতিবেশী দ্বারা নিহত রাকামনির পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী সহায়তা দিলেন  আসক ফাউন্ডেশন  «» কমলগঞ্জে হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মোশাররফ আলী (রহ.)-এর ৫ম ইন্তেকাল বার্ষিকী আগামীকাল পবিত্র জুমাবার। 

রেডিওর কথা কি আর ভোলা যায়

মু রিমন ইসলাম,
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি::

মৌলভী-বাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কালের বিবর্তনে মানুষের রুচি বোধের পরিবর্তন,জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সর্বোপরি আধুনিকতার স্পর্শে রেডিও এখন শুধুই অতীতের স্মৃতি এক সময় দেশ-বিদেশের খবরা-খবর জানার একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও।তখন খবরের সময়ে শহর কিংবা গ্রামের লোকজন একটা নির্দিষ্ট স্থানে খবর শোনার জন্য সমবেত হত।কারণ তখনো সবাব ঘরে ঘরে রেডিও’র প্রচলন ছিলনা। ফলে অনেকেই বিয়েতে উপঢৌকন হিসেবে সনি, সুজন সখি, ডেলট্রন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রেডিও (বেতার) গ্রহণ করত।এরপর অবশ্য রেডিও’র প্রচলন বৃদ্ধি পেয়ে সবাব ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছিল।এর ফলে আর শহর কিংবা গ্রামের মানুষকে দল বেঁধে জড়ো হয়ে খবর শুনতে হতো না।কারণ প্রত্যেকেই তখন নিজ নিজ রেডিও টুইনিং করে খবর শুনতেন।সে সময়ে তরুন সমাজের কাছে রেডিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তারা রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীত, গানের ডালি, দূর্বার, সুখী সংসার, দর্পন,ছায়া ছবির গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, নাটক, শোনায় অভ্যস্থ হওয়ায় রেডিও’র প্রচলন ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।তবে সেই জনপ্রিয়তা তরুন প্রজন্ম বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি। সময়ের বিবর্তনে তারা রেডিও ছেড়ে টেপ রেকর্ডার(ক্যাসেট) এর দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরবর্তীতে সেটিরও বিলুপ্তি ঘটিয়ে মোবাইল তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে।বর্তমানে মোবাইলের কারনে রেডিও’র অনুষ্ঠান জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছে।এখন আর তরুন-তরুনীরা আগের মত রেডিও শোনেন না।তবে এখনো কিছু প্রবীন ব্যক্তি আছেন যারা রেডিও বিবিসি’র খবরের উপর নির্ভশীল।তাদেরই একজন মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ার কুল গ্রামের উস্তার মিয়া প্রতিবেদককে জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্রগ্রাম কালুরঘাট বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচার কৃত খবর শোনার একমাত্র মাধ্যমই ছিল রেডিও।যে খবর শুনে লক্ষ বাঙ্গালি মুক্তিযুদ্ধে যোগদানে উজ্জ্বিবিত হয়েছিল। তৎকালিন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক আঠারো মিনিটের ভাষণ সরাসরি রেডিওতে শুনে লাখো বাঙ্গালি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।বর্তমানে বিজ্ঞানের আবিষ্কারে ফলে অতি সহজেই মোবাইল এফ.এম-এর মাধ্যমে আমরা রেডিও অনুষ্ঠান গুলো শুনতে পাই।ফলে নতুন করে আর রেডিও(বেতার যন্ত্র)ক্রয় করে খবর শোনার প্রয়োজন পড়েনা।ফলে দিন দিন আমাদের সেই ঐতিহ্যবাহী রেডিও,যার বৈজ্ঞানিক নাম টেনডেষ্টার হারিয়ে যেতে বসেছে।
লইয়ারকুলের আইয়ুব আলী জানান রেডিও’র গুরুত্ব এখনো কমে যায়নি। যাদের কাছে এটির গুরুত্ব থাকা প্রয়োজন তাদের কাছে এখনো এর যথাযথ গুরুত্ব রয়েছে।আমাদেও ভুলে গেলে চলবে না, এই স্বাধীন বাংলার প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা রেডিও’র মাধ্যমেই শুনেছি।