আবু তালহা তুফায়েল, গোয়াইনঘাট থেকে:-
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রুপময় গোয়াইনঘাট উপজেলা। এই উপজেলা দেশের মেহেরপুর জেলা থেকেও আয়তনে বড়। এই উপজেলার কথা কে বা নাই জানে, সবারি পরিচিত শাহজালাল ও শাহপরান মুজাররদে ইয়ামিনির পূণ্যভূমি সিলেটের গোয়াইনঘাট। 
গোয়াইনঘাট উপজেলা ৯টি ইউনিয়নে ভাগ করা হয়। প্রত্যেক ইউনিয়নেই বেশ কিছু কার্যক্রম হয় এবং ৫নং আলীরগাঁও ইউনিয়নেও কার্যক্রম হলেও ইউনিয়নের সিংহভাগ জুড়ে আছে পাঁচপাড়া এলাকাটা অবহেলিত বা উন্নয়নের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।
এই এলাকার ভিতরে ১টি মাধ্যমিক (মহিলা) মাদরাসা ও ১টি মক্তব মাদরাসা এবং ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, ১টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক আছে। তাছাড়া ১টি উচ্চ বিদ্যালয় ও আরেকট প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ১টু বাহিরে হলেও এলাকাটির খুব পাশাপাশি। বিদ্যালয়দ্বয় এর ছাত্র-ছাত্রী এই পাঁচপাড়া এলাকারি প্রায় ৮০%।
এই এলাকা থেকে নতুন প্রজন্মরা গড়িয়ে উঠছে বাংলাদেশের এক একটি সম্পদ হিসেবে।
এই এলাকাটা উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত এলাকা। এখানে জনপ্রতিনিধিরাও নির্বাচনের সময় ভোট ভিক্ষাই করে, কিন্তু উন্নয়ন থেকে দূরে রাখে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ সরকার নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, রাস্থা-ঘাট, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সবকিছুতেই।
কিন্তু এই এলাকায় প্রায় ৫হাজার ভোটার রয়েছে, এই ভোট দিয়েই ত জনপ্রতিনিধি হয়। তবে কেনো এত অবহেলার পাত্র এই অঞ্চলটা?
এই এলাকার কোওর বাজার থেকে মুহিপুর, জুলাই গ্রাম থেকে নিয়ে তুড়গ্রাম রাস্থার এ করুণ দুর্দশা দেখলে মনে হয় যে, এই এলাকা বাংলাদেশের বাহিরে। ডিজিটাল বাংলাদেশের বাহিরে। বর্ষা শুরু হয়নি, শুরু হয়েছে ভোগান্তি।
প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্থানীয় মাদরাসাদ্বয়ে আসতে হয়। মুঈনুল ইসলাম পাঁচপাড়া মাদরাসায় প্রায় ৫শত শিক্ষার্থী রয়েছে, মুহিপুর মক্তব মাদরাসায় আরো প্রায় দেড়শ থেকে দুইশত শিক্ষার্থী রয়েছে, পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরো দেড়শ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা ত প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করতে হয় এই ভোগান্তিকর রাস্থা দিয়েই।
তাছাড়া কোওর বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৮০% ছাত্র ছাত্রীরা ত এই রাস্থা দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।
গোয়াইনঘাটের সর্ববৃহৎ মাদরাসা দারুস সালাম লাফনাউট মাদরাসার প্রায় ৫% শিক্ষার্থী এই এলাকারি।
তাদের কাছ থেকে জানা যায়, যদি ১দিন বৃষ্টি হয়, তাহলে পায়ের জুতা আর পায়ে থাকেনা, কাঁধে নিতে হয়। প্রতিদিন আসা যাওয়া এমন রাস্থা দিয়ে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি বছরে কোওর বাজার থেকে মুহিপুর পর্যন্ত রাস্থায় নতুন মাটি দিয়ে প্রশস্ত করা হলে বর্তমানে চলাচলে অসম্ভব। এর উপর আরো মেরামতের প্রয়োজন ছিলো। তাছাড়া বহু পুরাতন এই রাস্তটা পাকা করণ বর্তমান সময়ের দাবি।
জুলাই থেকে তুড়গ্রাম রাস্থা : এ রাস্তা ত কোনো জনপ্রতিনিধিকেই দেখালে ও না দেখে। দুর্ভাগ্য এই গ্রাম বাসীর। অথচ পাঁচপাড়া এলাকার বৃহৎ গ্রাম তুড়গ্রাম। যেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এই গ্রামের রাস্তা সাবেক ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধি বিত্তি করার পর ৫বছর হয়ে গেলো- এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার হয়নি। রাস্তার চতুরদিকে ধসে ভেঙ্গে মাটিতে মিশে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো সংস্কার নেই। অনেক কষ্টের পর ১টা রাস্তা ভাগ্যে জুটলেও আবারো গলে যাচ্ছে কিন্তু দ্বিতীয়বার কোনো কাজ হয়নি।
গত সপ্তায় ১জন ইমার্জেন্সি রোগী নামাজের খাটে রেখে দু’জন ব্যক্তি কাধে করে কোওর বাজার স্টেশনে গিয়ে গাড়ি করে হসপিটালে নেয়া হয়। এমনি ভাবে বর্ষাকাল চলে যায় এই এলাকার মানুষের।
২৬ এপ্রিল রাস্তার দুটি ছবি গণমাধ্যমে আপলোড করা হলে বেশ কিছু মন্তব্য আসে যে, একজন বলেন ধান খ্যাত করার উপযোগী হয়েছে, অগ্রাহয়ণ মাস আসলে ফসল তোলবে। আরেকজন বললেন, এই রাস্তাটার উপর দিয়ে শীতকালে স্থানীয় মাদরাসার ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলাম, তখনি মোটর বাইক গর্তে পড়ে অনেক ধস্তাধস্তির পর মুক্তি পেলাম। এরকম বেশ কিছু মন্তব্য আসে।
এই উপজেলারি বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ বলে যে, পাঁচপাড়া এলাকাটা উন্নয়নের বাহিরে। এখানে কোনো জনপ্রতিনিধির দৃষ্টি নেই। এই এলাকাটা উপজেলার সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এলাকা।
আসলেও সত্যি উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত এলাকা পাঁচপাড়া।






