আজ-  ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» দক্ষিণ সুরমায় সিলাম সুরমা সমাজ কল্যাণ সংঘের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন «» মৌলভীবাজারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কাউন্সিলর প্রার্থী হোসাইন আহমদের শুভেচ্ছা «» বগুড়া আদমদীঘিতে বর্ণিল আয়োজনে বৈশাখী শোভাযাত্রা «» কমলগঞ্জে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান «» দুনিয়ার মজদুর এক হওচা শ্রমিক সংঘ «» মাওলানা মোশাহিদ আলী আজমী ছাহেব রহ একজন আর্দশবান শিক্ষক ও মানবিক মানুষ ছিলেন।  «» কমলগঞ্জে ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা মঙ্গলবার শুরু «» চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাঅবিলম্বে ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু করে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হোক «» Move to Rehabilitate Bank Looters is Self-Defeating: TIB «» শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা: প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন

সবার কপালে সুখ সহয়না, নায়িকা বনশ্রী আজ ঢাকার রাজপথের ফুটপাতে হেঁটে হেঁটে বই বিক্রয় করেন

সবার কপালে নাকি সুখ সয় না। এক সময়ের বড় পর্দার ঝলমলে নায়িকা এখন ফুতপাতের বই বিক্রেতা! এটা সিনেমার কোন কাহিনী নয়নয় অন্য কোন দেশের কাহিনীও। এমন ঘটেছে আমাদের এই ঢালিউডে এবং যেনতেন নায়িকাও তিনি নন। ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে নায়িকা ছিলেন তিনি।
এক সময়ের সুন্দরী এই নায়িকাকে নিয়ে প্রযোজকপরিবেশক ও প্রদর্শক ফারুক ঠাকুর খ্যাতিমান নির্মাতা মমতাজ আলীকে দিয়ে নব্বই দশকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি সোহরাব রুস্তম নির্মাণ করেছিলেন।  সেই ছবিতে নায়কের ভূমিকায় ছিলেনইলিয়াস কাঞ্চন। সেই ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে অভিনয় করেছেন বনশ্রী। মুক্তি-পরবর্তী ছবিটি ব্যাপক ব্যবসাসফলও হয়েছিল। নায়িকা বনশ্রীও রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন। দামি গাড়িতে ভ্রমণ,বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষেই কেটেছে বনশ্রীর সেই দিনগুলো।
সেই তারকা নায়িকা বনশ্রী আজ ঢাকার রাজপথের ফুটপাতে হেঁটে হেঁটে এবং বাসযাত্রীদের কাছে নামাজ শিক্ষার বই বিক্রি করেই দিন যাপন করছেন!
এক সময়ের বিতর্কিত প্রযোজক ফারুক ঠাকুর এই বনশ্রীকে নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন সোহরাব-রুস্তম’ ছবিটি। তখন বনশ্রী ফারুক ঠাকুরের বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন বলেও গুঞ্জন ছিল। ফারুক ঠাকুর চেয়েছিলেন বনশ্রী হবে এদেশের প্রথম সারির একজন নায়িকা। এজন্য তিনি বনশ্রীর জন্য ছবিতে বিনিয়োগও করেছিলেন। সোহরাব-রুস্তমের পর বনশ্রী অভিনীত নেশা’ ও মহাভূমিকম্প’ নামের আরও দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। শুটিং শুরু হয়েছিল প্রেম বিসর্জন’, ‘নিষ্ঠুর দুনিয়াও ভাগ্যের পরিহাস’ ছবির।
কিন্তু সেই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বনশ্রী আজ তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে হকারি করে দিনযাপন করছেন। ফারুক ঠাকুর নিজ বলয়ের বাইরে কারও ছবিতে কাজ করতে দিতেন না বনশ্রীকে। এ নিয়ে বনশ্রীর মনে ক্ষোভ থাকলেও ফারুকঠাকুরের ভয়ে মুখ ফুটে কিছু বলেননি। মোহাম্মদপুরের একটি আলিশান বাড়িতে থাকতেন বনশ্রী । কোনো কমতি ছিল না বিলাসিতারও । এত সুখ হয়তো তার কপালে সয়নি।
একটি দুর্ঘটনায় বদলে গেল তার জীবন। গুলশান এলাকার একটি জমি নিয়ে কিছু লোকের সঙ্গে ফারুক ঠাকুরের বিরোধ ছিল। একদিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ফারুক ঠাকুরের ছোড়া গুলিতে প্রতিপক্ষের এক লোকঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনার পর ফারুক ঠাকুর লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি। একা হয়ে যায় বনশ্রী।
এরপর থেকেই শুরু হয় বনশ্রীর জীবনযুদ্ধ। ফারুক ঠাকুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনশ্রীকে নিয়ে আর কেউ ছবি বানাতে আগ্রহী হয়নি। বনশ্রী এরপর ধানমণ্ডিতে একটি বিউটি পার্লার করেন। সে ব্যবসাও তিনি বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারেননি। এ সময়ে তার পরিচয়ের পরিধি বাড়তে থাকে দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে। একজন বাঘা ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকের সঙ্গে তার কেটে যায় অনেকদিন। এ সময় তিনি মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের একটি বাড়িতে থাকতেন। এখানেও তিনি প্রাচুর্যের জীবন যাপন করেছেন। তবে আগের তুলনায় কম। তবে তার কোনও জীবনই বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তার দুঃখের দিন শুরু হওয়ার পরপরই পরিবারের লোকজনওক্রমশ সরে যেতে শুরু করেন পাশ থেকে। আবার নতুনভাবে শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধ। দিনে দিনে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। নিজেকে টিকিয়ে রাখতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে সেই বিবাহিত মানুষটিও গায়েবহয়ে যায় একসময়। জীবিকা নির্বাহের সকল পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সন্তানটিকে কোলে নিয়ে শুরু হয় তার ভিক্ষাবৃত্তির জীবন। ভিক্ষা করতে গিয়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে তার দেখা হয় বেশ কয়েকটি ফিল্ম ইউনিটের সঙ্গেও। কিন্তু এখন যারা ফিল্মে কাজ করেন তারাতো বনশ্রীকে চেনার কথা নয়। তারপরও তিনি ইউনিটের আশপাশে ঘুরে শুটিং দেখতেন। আর নিজেকে মিলিয়ে নিতেন সংশ্লিষ্ট ছবির নায়িকার সঙ্গে নিজের পর্দা জীবন। মাসকয়েক আগে এফডিসির শিল্পীসমিতিতে সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনো শিল্পী তার দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকাননি। শিল্পী সমতিরি বর্তমান সভাপতি শাকিব খানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার নাগাল পাওয়া বনশ্রীর পক্ষে অসম্ভব। সাধারণ সম্পাদক মিশা সওদাগরের কাছে সাহায্য চেয়ে কোনো লাভ হয়নি।
অসহায় এই জীবন যাপনের সময় তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গেছেন যদি সেখানে অতীতের পরিচিত কোনও সাংবাদিককে পাওয়া যায়। কাউকে পাওয়া গেলে তিনি নিজের দুরাবস্থার কথা জানান দেবেন। তাদের কাছে সাহায্য চাইবেন।তারা অসহায় জীবনের দিকে তাকিয়ে কেউ কি কোনও উপকার করবে না তারনালাভ হয়নি। শূন্য হাতে একরাশ হতাশা নিয়ে ফিরে গেছেন শেখেরটেকের বর্তমান বস্তি বাড়িটিতে। মাত্র তিন বছরের শিশু সন্তানের চিকিৎসা এবং খাবার জোগানোর জন্য আজ তিনি রাস্তায় নেমেছেন।  সন্তান নিয়ে অনাহার আর অর্ধাহারে থাকতে থাকতে শেষ পর্যন্ত একজনের পরামর্শে গাড়িতে বই বিক্রির কাজ শুরু করেছেন।বর্তমানে শেখের টেকের একটি বস্তিতে দিন কাটছে বনশ্রীর।