মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার ঃ
মৌলভীবাজারে শীর্ষস্থানীয় ১০ জন হুন্ডি ব্যবসায়ীকে সনাক্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সারা দেশে ৬শত ২৫জন হুন্ডি ব্যবসায়ীকে সনাক্ত করা হয়। চক্রের মূল হোতা বা সদস্যদের মধ্যে আছেন কতিপয় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পুলিশ সদস্য, ব্যাংক কর্মকর্তা, কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং ইমিগ্রেশনের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী। অপরাধীরা এজেন্ট এবং সাব-এজেন্টের মাধ্যমে টাকা ও বিদেশি মুদ্রা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে। ওই টাকার একটি বড় অংশ দিয়ে কেনা হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক। আর এসব অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে চলে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে সরকারের সংশি¬ষ্ট দফতরের অভিমত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের তৈরি করা এই তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুলিশের আইজি ও র্যাব মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। মৌলভীবাজার মিশনপাড়ার ইয়াওর রহমান, কমলগঞ্জের বিজয়, কুলাউড়ার রোমান মিয়া, শ্রীমঙ্গলের বকুল পাল, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উত্তর মুলায়েম গ্রামের উত্তর মুলায়েম এলাকার ও সাদিয়া লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া, বনশ্রী আবাসিক এলাকার এম.বি ক্লথ ষ্টোরের মালিক ডাঃ আব্দুল আহাদ, সাইফুর রহমান রোডে অবস্থিত শাহ মোস্তফা গর্ডেন সিটির স্বত্তাধিকারি আব্দুল মুহাইমিন মিয়া, ফ্লেক্সিলোড-বিকাশ ব্যবসায়ী মো. শামীম, সুমন আহমদ ও শমসেরগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, জকিগঞ্জের ব্যবসায়ী মুক্তাদির আহমেদ শামীম, আতিকুর রহমান আতিক, সেলিম খান, হারুনুর রশিদ, জয়নাল আবেদীন, আমীর আলী ও কানাইঘাটের পাথর ব্যবসায়ী হারিছ আলী। বানিয়াচং থানার মোস্তাক আহমেদ, ইমরান আহমেদ, নবীগঞ্জের বাবুল মিয়া, চুনারুঘাটের জাবেদ খান, মাধবপুরের জসিম উদ্দিন, সুমন মিয়া, ডালিম মিয়া, ফরিদ মিয়া ও শাহজাহান মিয়া। তালিকাভুক্ত ৬শত২৫ জন হুন্ডি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ভারতে গমনকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার ঃ কমলগঞ্জে উপজেলার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ভারতে গমনকারী যাত্রীরা আকস্মিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হন। গত ১৯ মে দুপুরে দুর্ভোগের শিকার ভারতীয় ভিসা নিয়ে ভ্রমণকারী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লিপি পাল জানান- তিনিসহ স্বামী শিক্ষক পিন্টু পাল ও ৪ বছর বয়সী শিশু সন্তান গোবিন্দ পালের ভারতীয় ভিসা গ্রহণ করেন। তারা এক অসুস্থ্য আত্মীয়কে দেখতে শুক্রবার বিকালে চাতলাপুর চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতের উত্তর ত্রিপুরার কৈলাসহরে যাচ্ছিলেন। কমলগঞ্জের শমশেরনগর শাখা সোনালী ব্যাংক থেকে স্বামী-স্ত্রীর ভ্রমণ কর পরিশোধ করে রসিদও গ্রহন করেন। তবে শিশুটি ৪ বছরের থাকায় তাদের ধারনা ছিল এ শিশুর কর দিতে হবে না। তাই তারা তার কর পরিশোধ করেননি। শুক্রবার বিকালে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে তাদের ভিসা চেকিং ও ইমিগ্রেশন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতে প্রবেশের আগে চেক পয়েন্টে বিজিবির সদস্যরা পাসপোর্ট দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। এসময় শিশু সন্তানের ভ্রমণ করের জন্য তাকে যেতে আপত্তি জানায় বিজিবি সদস্যরা। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে দেশে ফিরার সময় ভ্রমণ কর পরিশোধ করবেন। এর পরও শিশু গোবিন্দ পালকে যেতে দেয়নি বিজিবি সদস্যরা। অবশেষে স্বামী শিক্ষক পিন্টু পাল স্ত্রী ও সন্তান রেখে ভারতে গেলেন। শিক্ষিকা লিপি পাল আরও জানান, পরে বাধ্য হয়ে তিনি চেকপোষ্ট থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বাসায় ফিরে এসেছেন। আজ ২০ মে শিশু গোবিন্দের ভ্রমণ কর দিয়ে তিনি ভারতে যাবার কথা রয়েছে। চাতলাপুর ইমিগ্রেশন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল হোসেন বলেন- বিষয়টি সম্পূর্ণরুপে নির্ভর করে শুল্ক বিভাগের উপর। বৈধ ভিসা আছে কিনা তা তদারকি করে তথ্য সংগ্রহ করে ইমিগ্রেশনের আইনানুগ কাজ করেন মাত্র। চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বলেন- চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে ভ্রমণ কর গ্রহনের বুথ না থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।






