শহরের ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-সিলেট রোডের কুসুমবাগ এলাকা যেন এখন অবৈধ দখলদারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সড়কের উপর ভ্যান বসিয়ে প্রকাশ্যে ব্যবসা চলছে—দেখার যেন কেউ নেই! প্রশাসনের চোখের সামনে এমন অনিয়ম চললেও কার্যত নেই কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে নয়, বরং সরাসরি মূল সড়কের উপরই সারি সারি ভ্যান দাঁড় করিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে করে সড়কের প্রশস্ততা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
পথচারীরা জানান, ফুটপাত তো দূরের কথা—রাস্তার পাশ দিয়েও হাঁটার সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে তাদের চলতে হচ্ছে মূল সড়ক দিয়ে, যা জীবনের জন্য চরম হুমকি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলের কারণে মানুষকে মূল রাস্তায় চলাচল করতে বাধ্য হতে হচ্ছে এবং এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে—এমন তথ্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। কখন যে গাড়ির নিচে পড়ি, সেই ভয় সব সময় কাজ করে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক সংকুচিত হয়ে গেলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকি মহাসড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে—এমন ঘটনাও দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে।
শুধু তাই নয়, সড়কের উপর এভাবে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার কারণে জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়মতো চলাচল করতে না পারলে তা সরাসরি জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি,
👉 অবিলম্বে এই অবৈধ ভ্যান উচ্ছেদ করতে হবে
👉 সড়ক দখলমুক্ত করে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে
👉 নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
এভাবে চলতে থাকলে কুসুমবাগ এলাকা শুধু যানজট নয়, বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে—এমন আশঙ্কা এখন সবার মুখে মুখে।
প্রশ্ন একটাই—প্রশাসন আর কতদিন নীরব থাকবে?






