মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামে পৈতৃক ভূমি দখল, দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ, মারধর, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে পরিবারের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মো. আব্দুল খালিক। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি উপজেলার ৬নং টেংরা ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। লিখিত বক্তব্যে আব্দুল খালিক অভিযোগ করেন, মৌরসীসুত্রে প্রাপ্ত, কোনাগাঁও সাকিনের প্রেমনগর মৌজাস্থিত এস.এ জরিপী ১৩১৪, আরএস দাগ ১৭২৮-এর পশ্চিমমুখী কোনাগাঁও বাজার থেকে খাস প্রেমনগর খেয়াঘাট পর্যন্ত একটি রাস্তা দিয়ে তাঁদের পরিবার প্রায় ২৫-৩০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে চলাচল করে আসছেন। সম্প্রতি একই গ্রামের সোলেমান মিয়া, এরশাদ মিয়া, রাব্বী, রাহিমসহ কয়েকজন ওই রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খাল খনন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ব্যবহৃত এলাকার মূল্যবান গাছপালা কেটে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাঁর বোন গোলনিহার বেগমের সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকিয়ে তাঁকে মারধর ও অশালীন আচরণ করা হয়। ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকেও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে ফেরার পথে সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁকে ও তাঁর ভাগনে আমির মিয়াকে মারধর করে সঙ্গে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক সুলেহনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেন আব্দুল খালিক। এ ঘটনায় এশ্বাদ, সোলেমান, রাব্বী ও মুহিবুরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গত ১১ অক্টোবর তাঁদের বসতবাড়ির ফলজ ও মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার পাশাপাশি চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পুনরায় আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। আব্দুল খালিক জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে বিগত ২০১৭ সালে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমল আদালতে পিটিশন মামলা নং ১৮৭/২০১৭ (রাজ) দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি দায়রা মামলা নং ২৭৩/১৮ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এবং ২ মে ২০১৯ তারিখে বিজ্ঞ আদালত তাঁদের খালাস প্রদান করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি তৎকালীন ঐ মামলার বাদী (বর্তমানে মৃত:) এর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলে বিষয়টি সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আরো জানান- উক্ত মামলার বাদী নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে প্রশাসনের নিকট হইতে অন্যায় ফায়দা হাসিল করেছেন। উনার মৃত্যুর পর বর্তমানে তার উত্তারিধাকারী- এশ্বাদ, সুলেমান, ইউসুফ,রাব্বি, রাহিম গংরা একই ভাবে তাদের পরিবারকে নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানী করে আসছেন। উক্ত মামলার বাদী নিজেকে ইউনুছ আলী পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সাজিয়েছেন। তার পিতার নাম নছরব মিয়া, অথচ প্রকৃত বীর মুুক্তিযোদ্ধা মো: ইউনুছ আলী, গেজেট নং-১৬৪৯, মুক্তিবার্তা নং- ৫০২০৪০৩১৭, ভারতীয় তালিকা নং-২৫৪২৩, সনদ নং- ১৭৪৬৪, মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার বহি নং- ০১১, জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৯০১২৯৬৬০০৯৩১৯, পিতা মৃত: নেজাবত আলী, মাতা : মৃত: জয়তুন বিবি, গ্রাম রফিনগর, ১নং রফিনগর ইউনিয়ন, থানা : দিরাই, জেলা : সুনামগঞ্জ। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল খালিক পৈতৃক ভূমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত, চলাচলের পথের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, হামলা ও হুমকির অভিযোগ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।
মৌলভীবাজারে পৈতৃক ভূমি দখল ও রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, নিরাপত্তা চাইলেন আব্দুল খালিক
Catagory : সারা দেশ | তারিখ : অক্টোবর, ২৯, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ • ১৩ বার পঠিত






