আজ-  ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» Press Release «» এই ঈদে সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে অপো এ৬এস «» বগুড়ায় মাদক সেবনের অপরাধে ৩ জনকে গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড «» গ্রেটার চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন ইউকে’র উদ্যো‌গে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত «» দেশজুড়ে ‘ঈদ উইথ শাওমি’ ক্যাম্পেইন শুরু, সিঙ্গাপুর ভ্রমণ, ক্যাশব্যাক ও নিশ্চিত উপহার জিতে নেয়ার সুযোগ «» বার্তা সম্পাদক/প্রধান প্রতিবেদক/ব্যুরো প্রধান/নগর সম্পাদক «» পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ «» মৌলভীবাজারে আতৎকিত প্রবাসী পরিবার : ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার «» বগুড়ায় গাঁজাসহ আটক ১ «» জুড়ীতে ভূমি খেকোদের বিরুদ্ধে বসত বাড়ীররাস্তা দখল করে বাউন্ডারি নির্মাণের পায়তারা

প্রধান মন্ত্রীর ফ্রান্স সফর

মোহাম্মদ আব্দুল মুহিব:ফ্রান্স:
পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত কার্যক্রমকে গতিশীল করে তোলার লক্ষে সব খাতের বিশ্ব নেতাদের সম্মেলন শীর্ষ ‘ওয়ান প্লানেট সামিট’শুরু হচ্ছে। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইং কিম এই সম্মেলনের সহ-আয়োজক।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে, বিশেষ করে অভিযোজন এবং প্রশমনের জন্য নতুন অর্থায়নের উৎস খুঁজতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনে যোগ দিতে তিনদিনের সরকারি সফরে  ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বাংলাদেশ সময় মঙ্গল বার রাত্র পৌনে একটা পৌছান।
বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশতিয়াক আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছন। ওয়ান প্লানেট সামিট জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত কর্মকান্ডকে দ্রুত এগিয়ে নেবার লক্ষ্যে বিশেষ করে অভিযোজন এবং প্রশমনের জন্য নতুন অর্থ প্রদানের উপায় খুঁজতে সকল ক্ষেত্রের শত শত বৈশ্বিক নেতার একটি জোট। প্যারিসে ২০১৫ সালে বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জলবায়ু চুক্তি সই হয়। এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে পুনরায় এ সম্মেলন মিলিত হয়েছেন বিশ্ব নেতারা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিন্ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন কিভাবে কাজ করে তা নির্ধারণ এই সম্মেলনের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অবকাঠামো, জ্বালানিতে ফরাসি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পাশাপাশি শহুরে অবকাঠামো, জ্বালানি ও সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগের জন্য ফরাসি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 বুধবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দেশটির ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এমইডিইএফ ইন্টারন্যাশনালের নেতাদের সঙ্গে সভায়অর্থনীতির শক্তি ও বিদেশিদের জন্য নানা সুবিধার কথা তুলে ধরে এ আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৪৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে এবার। সহযোগিতার নতুন সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে এটা একটা বড় সুযোগ বলে আমি মনে করি।”গত বছর ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অপার সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ; এই অঞ্চলে সবচেয়ে বিনিয়োগবান্ধব দেশও। ফরাসি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে গতানুগতিক ক্ষেত্র ছাড়াও শহুরে অবকাঠামো, জ্বালানি ও সমুদ্র অর্থনীতি খাতে আরও ফরাসি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি।”এসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টায় সহায়তা পেতে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশনে উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের সম্প্রসারণেরর মতো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিতে সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানি গন্তব্যের হিসাবে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে ফ্রান্সের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এককোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। কাজেই নিশ্চিতভাবেই ফান্সের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আরও ক্ষেত্র রয়েছে।’সহজ শর্তে অর্থায়নসহ আরও বিনিয়োগ নিয়ে আসার ফরাসি কোম্পানিগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।“আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার সহজ বার্তা হলো- প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ফ্রান্সকে বিনিয়োগ করতে হবে যেখানে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বাংলাদেশেরও বিনিয়োগ লাগবে। আপনাদের দরকার প্রতিযোগিতাসক্ষম দামে পণ্য কেনা, আমাদের দরকার রপ্তানির বাজার বাড়ানো। দুই দেশের জন্য লাভবান হওয়ার ভারসাম্যপূর্ণ সুযোগ এটা।” ফরাসি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এমইডিইএফের প্রতিনিধি দলের শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ওই সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আরও অবদান রাখবে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে ফ্রান্সের ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্র্যান্ড হোটেলে প্রবাসী বাঙ্গালীরা প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়।ঊক্ত  অনুষ্ঠানে  শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে না। কিন্তু এই সমস্যাটা তাদের সৃষ্টি করা। এই সমস্যা তাদের নিরসন করতে হবে এবং মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে।’এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রত্যেকের সমর্থন আমরা পেয়েছি।…সকল রাষ্ট্র যেভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে…। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সমর্থন পেয়েছি সারা বিশ্বের মানুষের। সব দেশের সরকারের না, কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষের সমর্থন পেয়েছি আমরা। আর এই ঘটনায় (রোহিঙ্গা সঙ্কট) পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে।”রোহিঙ্গা শরণার্থী
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যে তাদের ফেরত পাঠাব। সেজন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে পারব।”রাখাইনে স্থানীয় বাহিনীর সংঘাতে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বিতাড়নের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে চলে এসেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘লোকজন যেহেতু আমাদের পক্ষে আছে, তাই আমরাই আগামী নির্বাচনে জিতবো। মানুষ আমাদের ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনও ষড়যন্ত্র করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলকে শক্তিশালী করতে ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমেই দলের সর্বস্তরে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নেতাদের মধ্যকার বিভক্তির কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পেয়ে যেতে পারে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা কখনোই সম্ভব হবে না। সামনে নির্বাচন, আমরা আবারও বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবো।’স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যাতে আর কখনও ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যেসব অপশক্তির কারণে ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছিল তাদের ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টিকারীরা যেন ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে। সেজন্য প্রত্যেককে সজাগ থাকতে হবে। লুটপাট ও দুর্নীতির বিষয়েও মানুষকে সজাগ করতে হবে।’শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ ৪৬ বছর আগে স্বাধীন হয়েছে কিন্তু ৩০ বছর ধরে দেশটি শাসন করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের স্বাদ পেয়েছে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বলে, তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রচলন করেছে। কিন্তু আসলে তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনর্বাসন করেছে। তারা ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল কিন্তু আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়।’প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও তাদের নি
জের আচরণের ক্ষেত্রে সংযত থাকতে হবে। আপনারা একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, তা হলো দেশের সম্মান। এই সম্মান যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়। এ ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবেন। এটাই আমার অনুরোধ।’ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।