আজ-  ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - ২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠিত «» মৌলভীবাজারে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল  «» কমলগঞ্জে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২ হাজার সুবিধাভোগীর মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ «» কমলগঞ্জের খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল সংকট; দুর্ভোগে ক্রেতারা «» নওগাঁয় ইফতারে গিয়ে গ্রেপ্তার আ.লীগ নেতা «» পূর্ব লন্ডনের ইফতার মাহফিলে প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে জিএসসি ইউকের জোরালো ভূমিকার অঙ্গীকার «» পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণ «» বগুড়া নন্দীগ্রামে ৪৪টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় খেজুর বিতরণ  «» দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত «» প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের জোরালো ভূমিকার অঙ্গীকার;

বিতর্কিত ভূমির লেবু বাগানে তড়িগড়ি করে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন হচ্ছে ঃ

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর
বিতর্কিত ভূমির লেবু বাগানে তড়িগড়ি করে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন হচ্ছে ঃ বন পরিবেশের কথা ভাবছেন না বিদ্যুৎ ও বন বিভাগ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ঃ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রচুর পরিমাণে ভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য লেবু বাগান। জাতীয় উদ্যানের সীমানা নির্ধারণী জরিপকাজ এখনও চলছে। লেবু বাগানের ভূমির মালিকানা নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। এর মাঝে সম্প্রতি বিতর্কিত এসব লেবু বাগানে তড়িগড়ি করে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলছে। বন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর কথা ভাবছেন না বন বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। রোববার(১৪ জানুয়ারি) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে সেখানকার বনবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায় উদ্যানের ভিতরের শেষ ও জেম্স ফিনলে কোম্পানীর চা বাগানের সীমানা ঘেষে বিগত কয়েক বছরে প্রায় ২০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে লেবু বাগান। শ্রীমঙ্গলের কয়েকজন লেবু ব্যবসায়ী এসব লেবু বাগান গড়ে তোলেন। লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ও মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি সূত্রে জানা যায় এ ভূমিতে প্রায় দেড়’শ বছর আগে মারহিল খাসিয়া পুঘ্জি নামে এ অঞ্চলের একটি খাসিয়া পুঞ্জি ছিল। পুঞ্জির হেডম্যান মারহিলসন খাসিয়ার নাম অনুসারে এ পুঞ্জির নাম করণ করা হয়েছিল। মারহিল সন চা বাগান ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে এখানে পুঞ্জি গড়ে তোলেছিলেন। ভূমির মালিকানা নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলাও চলছে। মামলা ও আর প্রভাবের কারণে মারহিল পুঞ্জি উচ্ছেদ হলে পাত্রখোলা চা বাগান সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে মারহিলসন পুঞ্জি গড়ে তুলেছিলেন। মারহিল সন হেডম্যান মারা গেলে তার ছেলে প্রিসিংঙ্গলী খাসিয়া এখন পাত্রখোলা পুঞ্জি ও মারহিল পুঞ্জির মামলা পরিচালনা করছেন। এদিকে লাউয়াছড়া উদ্যানের ভিতর মারহিল পুঞ্জি এলাকায় বিগত কয়েক দশকে বিশালকায় কয়েকটি লেবু বাগান গড়ে এ ভূমির মালিকানা দাবি করছেন লেবু বাগান মালিকরা। জাতীয় উদ্যানের সীমানা বেষ্টনী নির্মাণের আগে চলছে ভূমি জরিপ। এ জরিপ চলাকালে লেবু বাগান মালিকরা তাদের লেবু বাগানে তদারককারীদের বসত ঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে আবেদন করে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর কথা না ভেবেই একতরফাভাবে নিজেদের মত জরিপ করে লেবু বাগানে বিদ্যুৎ সংযোগের খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করে। রোববার দুপুরে দেখা গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের ঠিকাদারের লোকজন জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে খুঁটি নিয়ে যাচ্ছে লেবু বাগান এলাকায়। এ একাজটি তদারকি করতে দেখা গেছে লাউয়াছড়া বনবীট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে। লেবু বাগান মালিকদের অন্যতম একজন শিপন মিয়া মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, তাদের ক্রয়কৃত ভূমিতে লেবু বাগান গড়ে তুলেছেন বাগানে তাদের বসতঘরে বিদ্যূৎ লাইন স্থাপনের আবেদন করেই বিদ্যুৎ নিচ্ছেন। লেবু বাগানে বন বিভাগের কোন ভূমি নেই। তাছাড়া এখানে আগে একটি খাসিয়া পুঞ্জি ছিল কি না তা তিনি জানেন না। তবে জাতীয় উদ্যানের ভূমি জরিপের কাজ এখনও শেষ হয়নি বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন(বাপা) সিলেট-এর সাধারন সম্পাদক আব্দুল করিম বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে ৩৩ হাজার কেভি প্রধান বিদ্যুৎ লাইন যাওয়ায় এমনিতেই বনের বন্যপ্রাণী হুমকির মুখে। তার উপর আবার এ উদ্যানের ভিতরে লেবু বাগানে নতুন করে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া বন্যপ্রাণীর জন্য নতুন করে হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরও বলেন, বনের ভিতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। তবে লাউয়াছড়া উদ্যান এলাকায় নতুন করে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আছে বলে তিনি মনে করেন না। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো: তবিবুর রহমান নতুন করে উদ্যানের ভিতরের বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকির কথা স্বীকার করে বলেন এখন সীমানা জরিপের কাজ চলছে। তা শেষ হলে এ ভূমির মালিকানা নির্ধারণের পর বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন হওয়া উচিত ছিল। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কিভাবে এখানে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজ করছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগী বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো মুঠোফোনে রোববার বিকালে এ প্রতিনিধিকে বলেন, লেবু বাগান মালিকরা উদ্যানের বাইরের এ ভূমি তাদের বলে দাবি করেছে। তাদের ভূমিতে তারা বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করছে বলে বন বিভাগ বাঁধা দিচ্ছে না। তবে এখন জাতীয় উদ্যানের সীমানা নির্ধারণী জরিপ শেষ হয়নি বলেও তিনি জানান।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শিবু লাল বসু মুঠোফোনে জানান, মালিকানার ভূমিতে বিধি মোতাবেক বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন হচ্ছে। তবে সংরক্ষিত বন সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়া ও বন্যপ্রাণীর হুমকির বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান। নাম প্রকাশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনবাসী অনেকেই বলেন, রহস্যজনক কারণে বন বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর কথঅ ভাবছেনই না।