আজ-  ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» যেখানে অন্যায় অত্যাচার,সেখানেই প্রতিবাদ -সাইফুর রহমান সাইফ «» কমলগঞ্জে দুবৃর্ত্তের আগুনে পুড়ে ছাই কৃষকের স্বপ্ন৫ লক্ষাধিক টাকার কৃষি উপকরণ নষ্ট «» মাদীনা ওভারসীজের হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  «» প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান «» শ্রীমঙ্গলে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক ছেলে «» কমলগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা সমাপ্ত «» বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ নাজিম উদ্দিনের মৃত্যুতে “সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের” শোক প্রকাশ «» দক্ষিণ সুরমায় সিলাম সুরমা সমাজ কল্যাণ সংঘের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন «» মৌলভীবাজারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কাউন্সিলর প্রার্থী হোসাইন আহমদের শুভেচ্ছা «» বগুড়া আদমদীঘিতে বর্ণিল আয়োজনে বৈশাখী শোভাযাত্রা

মনুনদী থেকে বালু তুলার হিড়িক

হুমকির মুখে মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ও শতাধিক গ্রাম
দীপ্ত ডেস্ক:
মৌলভীবাজার শহর তীরবর্তী মনুনদী থেকে বালু উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। নামে বেনামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতাশীল দলের নেতাকর্মীরা শক্তিশালী, সেলুপাম্প, বোমা মেশিন, বলগেট বা বলহেট মেশিনের মাধ্যমে একাধিক স্থান থেকে উত্তোলন করছেন বালু। যার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সিলেট-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং নদী তীরবর্তী শতাধিক গ্রাম। এলাকাবাসীর অভিযোগ এবাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দূর্ঘটনা। নদী গর্ভে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক গ্রাম, ঘর-বাড়ি এমনকি মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কটিও। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ থাকলেও এটা মানছেন না ইজারাদাররা।
আইনের ৪নং ধারার (খ) তে বলা হয়েছে সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকার সর্বনি¤œ ১ কিলোমিটার দূর হতে বালু তুলতে হবে। কিন্তু মনুনদীতে এর কিছু মানা হচ্ছে না। বালু তুলা নিয়ে চলছে হরিলুট। যে যার মতো করে যেখান থেকে ইচ্ছা সেই জায়গা থেকেই উত্তোলন করছে বালু।
জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখা থেকে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে সদর উপজেলার শেষ প্রান্ত শেরপুর পর্যন্ত মনুনদীর ২০টি স্থান বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে যে খাটটি ইজারা দেয়া হয়েছে সেখান থেকে বালু উত্তোলন না করে এর দু-পাশের কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও ইজারাদাররা প্রশাসনের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। কিন্তু প্রশাসন নিরব। দেখেও না দেখার বান করেছেন। এলাকাবাসী মৌখিকভাবে একাধিক অভিযোগ দিলেও বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। ক্ষমতাশীল দলের নেতাকর্মীদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে কিছু বলতে ও প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
মনুনদীর ইজারাকৃত ২০টি স্থান কাদের কাছে দেয়া হয়েছে তথ্যটি জানতে জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখার আলমগীরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “স্যার বলেছেন পয়েন্টের নাম দেয়া যাবে তবে কার কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে এটা বলা যাবে না”। সরেজমিন মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দৌপাশা, তালরতল ও খেয়া ঘাটে গেলে দেখা যায়, ওই স্থান থেকে শাহবন্দর পর্যন্ত মনুনদীর বাঁধের প্রায় ১ কিলোমিটারে কয়েকটি বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যত দিন যাচ্ছে ওই ফাটলগুলো আরোও বড় হচ্ছে। এর একটু সামনে দুর্লবপুর বড়বাড়ি হতে কনকপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধেও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে এবং আখাইকুড়া ইউনিয়নের নতুন ব্রীজের নিচ থেকে মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে আখাইলকুড়া ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের নব-নির্মিত ভবন ভরাট করা হচ্ছে অথচ আইন রয়েছে ব্রীজের ১ কিলোমিটার দূর থেকে বালু উত্তোলন করার।
এছাড়াও হুমকির মুখে আছে, চাঁদনীঘাট, সাবিয়া, বলিয়ারভাগ, বালিকান্দি, ডেউপাশা, শ্রীরামপুর, শাহবন্দর, ধৌপাশা, দুর্লভপুর, মমরুজপুর, আশিয়া, কনকপুর, দলিয়া, গাঘুটিয়া, নলদাড়িয়া, দামিয়া, বাড়ন্তী, বেকামুড়া, সম্পাসী, থানাবাজার, ইসলামপুর, কামালপুর, মিরপুর, কাজিরবাজার, পাঠানটুলা, নাদামপুর, গোড়াখাল, সরকারবাজার, ফতেপুর, সাধুহাটি, শাহবাদ ও শেরপুর গ্রাম। এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আলম খান বলেন, মিটিং করে সিদ্ধান্ত হয়েছে যারা বলগেট বা বলহেট মেশিন দিয়ে বালু তুলবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার। ইতি মধ্যে আমরা কয়েকটি মেশিনও জব্দ করেছি এবং অভিযান চালানোর জন্য ইউএনও ও পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে রাখা হয়েছে।
ক্যাপশনঃ বলগেট বা বলহেট মেশিন দিয়ে মনুনদী থেকে বালু উত্তোলন করা মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহবন্দর এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
ক্যাপশনঃ বলগেট বা বলহেট মেশিন দিয়ে মনুনদী থেকে বালু উত্তোলন করে পৌর টার্মিনাল এলাকায় রাখা হচ্ছে।