আজ-  ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» TIB Demands Immediate, Unbiased Investigation «» শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত «» শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ «» জুড়ীতে ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার, পলাতক স্বামীকে খুঁজছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। «» বগুড়া আদমদীঘিতে  জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্টিত  «» বগুড়া আদমদীঘিতে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা «» ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আরডিএ, বগুড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের লক্ষ্যে কমলগঞ্জে ৯ ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন «» কমলগঞ্জে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু «» কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বনের ৫ একর ভূমি উদ্ধার; অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল বন বিভাগ

নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাৎক্ষনিক উদ্যোগে রক্ষা পেলো প্রায় ২শ গ্রাম।

মোঃ শিমুল হাসান, নওগাঁ, প্রতিনিধিঃনওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্রুত ও প্রশংসনীয় উদ্যোগের কারণে এবারের বারের মতো বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার প্রায় ২ শতাধিক গ্রাম। নতুন করে নওগাঁর নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধিতে যদিও আরো বড় রকমের বন্যার আশংকা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সরেজমিনে জানা যায়, নওগাঁ পাউবোর তৎপড়তায় রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার নদী সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ন বেড়িবাঁধ বালির বস্তা ও অন্যান্য উপকরন দিয়ে মেরামত করায় এবং রাস্তা উপচে পানি আসার পথ বন্ধ করার কারণে বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রায় দুইশ গ্রাম। এর মধ্যে রাণীনগর উপজেলার কুজাইল মসজিদ, স্লুইসগেইট সংলগ্ন স্থান, ঘোষগ্রাম, মিরাপুর, রসুলপুর, নান্দাইবাড়ি ও প্রেমতলী ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে বাপাউবোর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৫শত মিটার অংশে বালির বস্তাসহ প্রয়োজনীয় উপকরন দিয়ে তাৎক্ষনিক মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া আত্রাই উপজেলার মালিপুকুর, বৈঠাখালি, জাতআমরুল, নন্দনালীসহ ১২টি স্থানের আত্রাই নদীর ঝুঁকিপূর্ন বাঁধের অংশের মোট ২হাজার ২শত মিটার স্থানে বালির বস্তা দিয়ে মেরামত করার কারণে এসব স্থান ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পায়। আর বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম।মান্দা-আত্রাই মহাসড়কের ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধের ৪টি স্থান দ্রুত মেরামত করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেরামতের কাজ অব্যাহত রেখেছে। রাণীনগরের রক্তদহ-লোহাচূড়া বিল নিষ্কাশনের স্কীমের অধীনে ৩৫কিঃমিঃ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের মধ্যে ছোট যমুনা নদীর মালঞ্চি নামক স্থানের ঝুঁকিপূর্ন বেড়িবাঁধের ১৫মিটার সম্পন্ন ভেঙ্গে গেলে তাৎক্ষণিক তা মেরামত করা হয়েছে। যার ফলে এই ভাঙ্গা অংশ দিয়ে নতুন করে পানি প্রবেশের আশঙ্কা নেই। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ন প্রায় ১২কিলোমিটার অংশে বালির বস্তা দিয়ে পানির ওভারফ্লো বন্ধ করা হয়েছে। এদিকে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীতে পানি কমতে শুরু করলেও আবার প্রবল বৃষ্টিপাত ও নতুন করে উজান থেকে পানি নেমে আসায় বৃদ্ধি পাচ্ছে নদীর পানি। এতে করে আবারোও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নদী ভাঙ্গনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আত্রাই নদীর ৪টি পয়েন্টে, আত্রাই উপজেলায় ২টি সড়ক ও ছোট যমুনা নদীর বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ভেঙ্গে জেলার রাণীনগর, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এই তিন উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি। বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে নওগাঁর মান্দা-বান্দাইখাড়া-আত্রাই-নাটোর-সিংড়া আঞ্চলিক সড়কের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অপরদিকে চলনবিল প্রকল্প পোল্ডার-সি এর অধীনে আত্রাই নদীর ৫৮কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৪৫কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে যা মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। তবে নদীতে আবার নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আবারো বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী প্রবীর পাল জানান, ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে দিন-রাত পরিশ্রম করে আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা ঝুঁকিপূর্ন বেড়িবাঁধের অংশগুলো মেরামত করেছি। এছাড়াও অধিক ঝুঁকিপূর্ন স্থানগুলোও আমরা সাধ্য মতো মেরামতের কাজ অব্যহত রেখেছি যেন নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেলেও সেই সব স্থান ভেঙ্গে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। আমরা সব সময় আমাদের আওতায় থাকা ঝুঁকিপূর্ন বেড়িবাঁধগুলো পর্যবেক্ষনে রাখছি যাতে সঙ্গে সঙ্গে সেই সব স্থানগুলো ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খাঁন জানিয়েছেন, গত ১৫জুলাই নদীগুলোতে সবোর্চ্চ পানি বৃদ্ধি পেয়েছিলো। যার কারণে বেড়িবাঁধের অধিক ঝুঁকিপূর্ন স্থানগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার কিংবা মেরামত না করার কারণে কয়েকটি স্থান ভেঙ্গে জেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও সেই সময় ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধের প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ন স্থানে বালির বস্তাসহ অন্যান্য উপকরন দিয়ে মেরামত ও পানি প্রবেশ করার পথ বন্ধ করার কারণে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার আরো প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক বড়ধরনের ভাঙ্গন ছাড়া কিছু কিছু ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধগুলোতে ইতিমধ্যেই মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নতুন করে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীসহ অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে করে আবার নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বাঁধের কোথাও নতুন করে ভেঙ্গে নতুন করে কোন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা নেই।