কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
চা বাগান শ্রমিকদের রেইনকোট দেওয়ার খবরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা বাগানজুড়ে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। হঠাৎ বৃষ্টির জন্য পরিচিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জজুড়ে রয়েছে বিশাল বিশাল চা-বাগান। এসব বাগানে খোলা মাঠে কাজ করেন ৪০ হাজারেরও বেশি চা শ্রমিক। হঠাৎ বৃষ্টিতে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই ভিজতে হয় তাদের। বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চা শ্রমিকদের বৃষ্টিতে ভেজার দুর্ভোগ কমাতে রেইনকোট দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা শ্রমিককে ডেকে তাদের হাতে রেইনকোট তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশে আরও ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের কোন এলাকার মানুষ কীভাবে বসবাস করছেন, তাদের কী সমস্যা ও কী প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবগত রয়েছেন। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের সমস্যা ও তাদের চাওয়ার বিষয়টিও তিনি জানেন। রেইনকোট উপহার দেওয়ার উদ্যোগ তারই একটি প্রতিফলন।”
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার নির্বাচনী এলাকা (শ্রীঙ্গল-কমলগঞ্জ) থেকে ১০ জন চা শ্রমিককে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং রেইনকোট উপহার দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল।
এ উদ্যোগের আওতায় মোট ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পা-ুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করতে চান, সরকার তাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, সরকার এবং রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরেশ কালিন্দি বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য যেমন সবসময় আমাদের খোঁজখবর রাখেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চা শ্রমিকদের ভালোবাসেন। এতদিন পর আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মন খুলে বলার মতো একজন মহৎ মানুষ পেয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রেইনকোট উপহার নেওয়া কমলগঞ্জ উপজেলার চারজন চা শ্রমিক হলেন-ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগর চা-বাগানের রিতা রাণী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার।
এদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ও কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউপি সদস্য ধনা বাউরী নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রেইনকোট নয়, মানসম্মত মজুরি চাই। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট বিভাগের চা-বাগান শ্রমিকদের মধ্যে বেসরকারি খাতের সিএসআর তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেছেন। এই উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমি বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং বি-৭৭)-এর অন্তর্গত মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি হিসেবে এই কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানি না। চা শ্রমিকদের মধ্য থেকে ১০ জনকে কীভাবে নির্বাচন করা হলো, সে বিষয়েও আমরা অবগত নই। ১০ জনই কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল উপজেলার। এর মধ্যে ৪ জন আমার মনু ধলই ভ্যালির চা শ্রমিক। অথচ আমি এই বিষয়ে জানতে পারলাম না। চা শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃত্বকে অবহিত করলে এমন কী ক্ষতি হতো?
বর্তমান সময়ে চা শ্রমিকদের প্রধান দাবি ন্যায্য ও মানসম্মত মজুরি এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং বি-৭৭)-এর নির্বাচন। অথচ এসব মৌলিক দাবির বিষয়ে এখনো আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাইনি; এর পরিবর্তে সরকার থেকে রেইনকোট পাচ্ছি।
রেইনকোট প্রয়োজন, কিন্তু চা শ্রমিকের জীবন ও জীবিকার স্থায়ী সমাধান আরও বেশি প্রয়োজন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চা শ্রমিকদের জন্য একটি মানসম্মত ও ন্যায্য মজুরি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং বি-৭৭)-এর নির্বাচন, চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবী জানান।
তিনি রেইনকোট বিতরণের এই মহৎ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমরা সাময়িক সহায়তা নয়, মর্যাদাপূর্ণ জীবন চাই। আমরা চাই মানসম্মত মজুরি, দ্রুত নির্বাচন ও ভূমির অধিকার।
চা শ্রমিকদের রেইনকোট উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী;রেইনকোট নয়, মানসম্মত মজুরি চাই—-শ্রমিক নেতা ধনা বাউরী
Catagory : সারা দেশ | তারিখ : আগস্ট, ১৯, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ • ৪ বার পঠিত






