আজ-  ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - ২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠিত «» মৌলভীবাজারে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল  «» কমলগঞ্জে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২ হাজার সুবিধাভোগীর মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ «» কমলগঞ্জের খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল সংকট; দুর্ভোগে ক্রেতারা «» নওগাঁয় ইফতারে গিয়ে গ্রেপ্তার আ.লীগ নেতা «» পূর্ব লন্ডনের ইফতার মাহফিলে প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে জিএসসি ইউকের জোরালো ভূমিকার অঙ্গীকার «» পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণ «» বগুড়া নন্দীগ্রামে ৪৪টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় খেজুর বিতরণ  «» দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত «» প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের জোরালো ভূমিকার অঙ্গীকার;

গ্রাহকদের প্রায় ৫০ কোটি টাকা নিয়ে ভিডিএন’র চেয়ারম্যান ও এমডিসহ শীর্ষকর্তারা উধাও

দুরুদ আহমেদ,মৌলভীবাজার:  ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (ভিডিএন) নামক একটি বেসরকারি সংস্থা গত ১৪ বছরে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে মেয়াদপূর্তিতে লভ্যাংশসহ গ্রাহকদের প্রায় ৫০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম, এমডি আয়াজ আলীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। জানা গেছে- মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম হাতলিয়া গ্রামের মৃত রস্তুম আলীর ছেলে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও জুড়ী উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের মৃতঃ আরজদ আলীর ছেলে আয়াজ আলী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০০৩ সালে পশ্চিম হাতলিয়া গ্রামে ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (ভিডিএন) নামক বেসরকারি সংস্থার সাইনবোর্ড টানিয়ে গ্রাহকের বিনিয়োগ ও সঞ্চয় সংগ্রহের ব্যবসা শুরু করেন।

 

৮০ ভাগ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অতি অল্পসময়ে সংস্থার প্রসার ঘটে মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ এবং সিলেট জেলার সদর, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায়। ২০১০ সালে চট্রগ্রামেও অফিস খোলে ভিডিএন। এসব উপজেলায় বড় বড় অফিস ভাড়া নেয়া হয়। মোটা অংকের বেতনে অফিসে ও মাঠ পর্যায়ে কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। ব্যবসা বিস্তৃতি লাভের পর জুড়ী থেকে সিলেট মহানগরের সুরমা টাওয়ারে স্থানান্তর করা হয় ভিডিএনের প্রধান কার্যালয়। ২০১০ সালে চট্রগ্রামেও অফিস খোলে ভিডিএন নামক সংস্থাটি। মানুষকে স্বাবলম্বী করার মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ ভিডিএনের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। গ্রাহকদের লাভতো দুরের কথা, মুলধনসহ হঠাৎ করে ভিডিএনের সিলেটের প্রধান কার্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ের ৬ উপজেলা অফিসে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে অফিসের সাইনবোর্ডসহ সব ধরণের আলামত। এতে ভিডিএনের ১০ সহস্রাধিক গ্রাহক তাদের আমানতের টাকা ফেরৎ পাওয়া নিয়ে রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। ফলে গ্রাহকদের তোপের মুখে রয়েছেন অফিসে স্থানীয় কোটায় নিয়োগ পাওয়া ৬শতাধিক কর্মকর্তা- কর্মচারি।

 

অনেকেই আবার গ্রাহকদের হামলা মামলার ভয়ে আত্মগোপনেও রয়েছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত গরু-মহিষ এমনকি জমি-জমা বিক্রি করেও কিছু গ্রাহকের আমানত ফেরৎ দিতে বাধ্য হয়েছেন। জানা যায়- ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (ভিডিএন) সংস্থাটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জয়েনস্টক কোম্পানী হতে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রথমে ৮০ ভাগ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক, বার্ষিক ও এককালীন ভিত্তিতে বিনিয়োগ ও সঞ্চয় আমানত সংগ্রহ শুরু করে। পরবর্তীতে ভিডিএন সোস্যাল বিজনেস লিমিটেড নামে মেয়াদান্তে আড়াইগুণ মুনাফা প্রদানের শর্তে আয়বর্ধক প্রকল্প হিসেবে বনায়ন প্রকল্প, আবাসন প্রকল্প, পর্যটন প্রকল্প, শিল্পজাত প্রকল্প, সেচ প্রকল্প, ন্যায্যমুল্যে মার্কেট, কৃষি, মৎস্য, ছাগল ও গরুর খামার, পেশাভিত্তিক উপকরণ সরবরাহ, কারিগরি শিল্প বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সরবরাহ ছাড়াও নানা সমাজকল্যাণমুলক প্রকল্প চালু করে।

 

ইতোমধ্যে ১০ ও ১২ বছর মেয়াদী প্রকল্পের ২০১৩ ও ২০১৫ সালে মেয়াদপূর্ণ হয়। এতে আমানতকারীরা লাভসহ তাদের আমানত প্রাপ্তির জন্য স্থানীয় অফিসের মাধ্যমে আবেদন করেন। ভিডিএনের প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী ৩ মাসের মধ্যে গ্রাহকের দাবি পূরণে কোম্পানী অঙ্গিকারাবদ্ধ। কিন্তু গ্রাহকদের আমানত ফেরতের আবেদনের পর শুরু হয় নানা টালবাহানা। ভিডিএনের ১০ সহ¯্রাধিক গ্রাহকের মধ্যে কোন গ্রাহক তাদের আমানতের মেয়াদপূর্তিতে লাভের মুখ দেখেছেন বলে কোন তথ্য দিতে পারেননি সংশি¬ষ্টরা। ভিডিএনের গ্রাহক বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউপির বারহালি গ্রামের ভুমিহীন হতদরিদ্র আঙ্গুর বেগম। পার্শ্ববর্তী বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা চালান।

 

২০০৫ সালে ভিডিএনের চেয়ারম্যান ও এমডি উদ্বুদ্ধকরণ সভায় মুনাফার প্রলোভন দেখালে ভাগ্যবদলের আশায় মাসিক ১০০ টাকা হারে সঞ্চয় জমা করা শুরু করেন। ১০ বছর মেয়াদি সঞ্চয় আমানতের ৩১ কিস্তি প্রদানের পর তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। ফলে তার পক্ষে আর কিস্তি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালের ডিসেস্বর মাসে জমানো আমানতের মেয়াদপুর্ণ হয়। সঞ্চয়কৃত মুলধনের লভ্যাংশসহ টাকা ফেরতের জন্য পঙ্গু আঙ্গুর বেগম ভিডিএনের হাকালুকি, বড়লেখা এমনকি সিলেট প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে লাভতো দূরের কথা নিজের সঞ্চয়কৃত টাকা আজও ফেরৎ পাননি। একই উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের খদানগর গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী ছেলে মাহমুদুর রহমানের নামে মাসিক ১ হাজার টাকা কিস্তিতে ১০ বছর মেয়াদী প্রকল্পে ৫১ কিস্তিতে ৫১ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করেন। পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তার আমানত হিসাব বন্ধ হয়ে যায়। শর্তানুযায়ী মেয়াদ পুর্তিতে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু আমানত পরিশোধের কাগজপত্র জমা দেয়ার ১ বছর অতিবাহিত হলেও কোন টাকা পাননি। এতে প্রবাসী স্বাম%