মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসক অফিসে ভুক্তভোগী পরিবারের অবস্থান কর্মসূচি ঃ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং আপার কাগাবলা ইউপি পশ্চিম পদিনাপুর এলাকার ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগমসহ ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিবার জেলা প্রশাসক অফিসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে আজ ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত । আমরা আমাদের ক্রয়কৃত ভূমি রেজিষ্ট্রি চাই। বসতঘর নির্মান চাই। স্বাক্ষরিত সাদা ষ্ট্যাম্প ফেরৎ চাই। লুটকৃত মালামাল ফেরৎ চাই। যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় ও আইনী সুরক্ষা চাই, আমি শিশু বাঁচতে চাইসহ বিভিন্ন শ্লেগান সংবলিত প্লে-কার্ড নিয়ে গলায় ঝুলিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে তাদেরকে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দুপুর ১টার দিকে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আলম খাঁন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুল ইসলাম ভুক্তভোগী পরিবারকে বিচারের আশ্বাস প্রদান করলে তাদের অবস্থান কর্মসুচি প্রত্যাহার করে নেয়। জেলা প্রশাসক অফিসে অবস্থানরত ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম জানান- দীর্ঘ ১০/১৫ বছর যাবৎ তার নিজ ভূমিতে মাটি ভরাট, বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২শত বৃক্ষরোপন ও বসতঘর তৈরী করে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাসরত রয়েছেন। রাবেয়ার ৫ বোন ও ৪ ভাইয়ের মধ্যে ৩ ভাই তাজুদ মিয়া, কটু মিয়া ও শফিক মিয়া তাদের ভূমি থেকে কিছু ভূমি নবীগঞ্জ উপজেলার কাইস্তগ্রামের মন্নান পীরের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এবং কিছু ভূমিতে তারা বসবাসরত। অপর ১ ভাই বাজিদ মিয়া তার ভূমি থেকে ৩ পোয়া (সাড়ে ২২ শতক) ভূমি পরবর্তীতে রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার শর্তে তার কাছে বিক্রি করেন প্রায় ১০/১৫ বছর পূর্বে। পরবর্তীতে ভাই বাজিদ মিয়া উক্ত ভূমি রাবেয়ার নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার উদ্যোগ নিলে অপর ৩ ভাই তাজুদ মিয়া, কটু মিয়া ও শফিক মিয়া তাতে আপত্তি তুলে আমাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ জানুয়ারী রাত ৮টার দিকে আমার ওই ৩ ভাই তাজুদ মিয়া ও তার স্ত্রী রাসনা বেগম, কটু মিয়া, শফিক মিয়া ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগম দা, শাবল, খুন্তি ইত্যাদি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে আমার বসতবাড়ীতে এসে আমার বসতঘর ভেঙ্গে ফেলতে থাকে। এসময় আমরা বাধা দিলে, তারা আমাকে ও আমার স্বামী মুটুক মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে আমাদের বসতঘর ভেঙ্গে তছনছ করে এবং আমাদের নগদ ৬০ হাজার টাকা, ১০ বান ঢেউটিন, ৫০ কেজির ২ বস্তা চাউল, ৫০ কেজির ১ বস্তা আটা, ৫০টি হাস, ৫টি ছাগল, ৪টি গরু, ১৫ মন ধান ও ৫০ হাজার টাকার চিরাই কাঠ লুট করে নিয়ে যায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় এহেন তান্ডব চালিয়ে তাজুদ মিয়া ও তার স্ত্রী রাসনা বেগম, কটু মিয়া, শফিক মিয়া ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগম ঘটনাস্থল থেকে চলে যাবার পর রাতেই আমার স্বামী মুটুক মিয়াকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়। তিনি আরো জানান- আমার স্বামী কিছুটা সুস্থ্য হয়ে গত ৭ জানুয়ারী বাড়ীতে আসার পর মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করি। এর প্রেক্ষিতে এএসআই ওলিউল ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পেলেও এখনও মামলা রেকর্ড করা হয়নি। অপরদিকে, বিষয়টি মিমাংসার জন্য থানায় সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে পুলিশ সাদা ষ্ট্যাম্পে আমাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করে এবং আমাদেরকে ১ লাখ টাকা নিয়ে উক্ত ভূমি ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। আমরা তাতে রাজী না হয়ে পুণঃবিচারপ্রার্থী হলে তা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা গত ৪ জানুয়ারী রাতের ওই ঘটনার পর থেকে শিশু সন্তানসহ খোলা আকাশের নীচে রয়েছি। আমরা আমাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই।
আমি শিশু বাঁচতে চাই, রাষ্ট্রীয় ও আইনী সুরক্ষা চাই
Catagory : ক্রাইম সংবাদ, মৌলভীবাজার | তারিখ : ফেব্রুয়ারি, ১১, ২০১৮, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ • ১ বার পঠিত






