মৌলভীবাজারের সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে দুদকের হাতে ধরা পড়েছেন রংপুরে । তিনি মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থাকাকালে নিজেকে জমিদার এবং সাধারণ নাগরিকদেরকে তার প্রজা হিসাবে গণ্য করতেন । সাধারণ নাগরিকদের সাথে তার আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ । বিশেষকরে মিথ্যা বলার জন্য তিনি ছিলেন নোবেল পুরস্কার পাবার সুযোগ্য । মিথ্যে বলে এবং ঘুষের জন্য হয়রানী করেছেন অনেক শিক্ষককে । তাই, সদা আতংকিত ছিলেন শিক্ষকরা । সেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে দুদকের হাতে ধরা পড়ার খবর জেনে মিষ্টি খেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন শিক্ষকরা । শিক্ষকদের এ আনন্দ প্রকাশ যে সেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের প্রতি ক্ষোভেরই বহি:প্রকাশ তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা ।
কিন্তু, কথা হচ্ছে- সেই সিরাজুল ইসলাম মৌলভীবাজার থেকে বদলী হবার পর থেকে যারাই এসেছেন ও বদলী হয়েছেন এবং বর্তমানে যারা আছেন তারা সবাই-ই একেকজন সিরাজুল ইসলাম বললে কমই বলা হবে । প্রকৃতপক্ষে, মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত প্রত্যেক কর্মকর্তাই সেই সিরাজুল ইসলামের মতো একেকজন সিরাজুল ইসলাম । ঘুষের জন্য সিরাজুল ইসলামের সমপর্যায়ের হলেও, ঔদ্ধত্যের জন্য সিরাজুল ইসলামের চেয়ে একধাপ এগিয়ে আছেন মৌলভীবাজারের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিশোর চক্রবর্ত্তী । একইভাবে, ঘুষের জন্য সিরাজুল ইসলামের সমপর্যায়ের হলেও, মিথ্যা বলার জন্য সিরাজুল ইসলামের চেয়ে একধাপ এগিয়ে আছেন মারুফ আহমদ চৌধুরী । এছাড়া, প্রত্যেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অবস্থাও তথৈবচ । এককথায়- মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত প্রত্যেক কর্মকর্তার প্রতিটি পশমে পশমে দূর্ণীতি, দূর্ণীতি আর দূর্ণীতি । মৌলভীবাজার জেলার শিক্ষকরা চাকরী হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননা । কারণ, এদের দূর্ণীতির প্রতিবাদ করলে চাকরী হারাতে হবে । এর প্রমানও আছে । কাজেই এরা ধরা পড়বে কিভাবে ? কবে ?
মৌলভীবাজারের সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে ধরা পড়েছেন রংপুরে
Catagory : আন্তর্জাতিক, ক্রাইম সংবাদ | তারিখ : এপ্রিল, ১১, ২০১৮, ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ • ৩ বার পঠিত






