ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের ॥ পুলিশের ঘটনাস্থল পরির্দশন
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আমোকুনা গ্রামের ওমান প্রবাসীর ঘরের দরজা ভেঙ্গে কৌশলে দু:সাহসীক চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় দৃর্বৃত্তদের চিনতে পারায় ওমান প্রবাসী গৃহবধুকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মারপিট করে মৃত ভেবে ব্রীজের নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত গৃহবধু সুস্থ্য হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রায় ২ সপ্তাহ পর নবীগঞ্জ থানার এসআই পলাশ দাশ সরেজমিন তদন্ত করেন।
জানাযায়, উপজেলার আমোকুনা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী ইধন বক্স এর স্ত্রী জলিকা বেগম সংসারের অভাব অনটনের কারণে প্রায় বছর খানেক পূর্বে জীবিকার তাগিদে ওমান পাড়ি দেন। সেখানে স্বামী সন্তানদের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে টাকা পয়সা রোজগার করেন। তার ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে সন্তান রয়েছে। এতে বড় ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার জন্য গত মাসে বাড়িতে আসেন। এক পর্যায়ে সংঙ্গবদ্ধ চুরেরা এক জোট হয়ে রাতের আধাঁরে ওমান প্রবাসী জলিকা বেগমের ঘরের পিছনের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে সুকেচের তালা ভেঙ্গে নগদ ৪০ হাজার টাকা, ১ভরি র্স্বর্ণালংকার, ২টি দামী মোবাইল, কাপড় ছোপড় নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২জনকে চিনতে পারে গৃহবধধু। এতে পরদিন গ্রামের লোকজন ও স্থানীয় মেম্বারকে বিষয়টি অবগত করলে তারা এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলে ঐ চুরচক্র উপস্থিত না হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জলিকার উপর। এর ২দিন পর জলিকা বেগমকে রাস্তায় পেয়ে ৬/৭ জনের একদল দূর্বৃত্তরা জোর করে তুলে নিয়ে বেধরক মারপিট করে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে একটি ব্রীজের নিচে ফেলে পালিয়ে যায়। ঐদিন রাত ১০টার দিকে রুস্তুমপুর গ্রামের হাসিম মিয়া তার ধান ক্ষেত দেখতে আমোকুনা গ্রামের জমিতে আসলে রাস্তার পাশের ব্রীজের নিচে একটি অজ্ঞাত মহিলা পড়ে তাকতে দেখেন। এতে তিনি ঐ গ্রামের লোকজনকে বিষয়টি অবগত করলে তারা এগিয়ে এসে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঐ মহিলাকে ব্রীজের নিচ থেকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ হাসপালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশংকাজনক।
এ ব্যাপারে ৬ সন্তানের জননী জলিকা বেগম এর সাথে কথা হলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, রাতের আধাঁরে আমার ঘরের পিছনের দরজা ভেঙ্গে ৬/৭ জন লোক প্রবেশ করে আমার সুকেচ ভেঙ্গে নগদ ৪০ হাজার টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার সহ কাপড় ছোপড় নিয়ে যাওয়ার সময় আমি ২ জনকে চিনতে পারি। এতে আমি ও আমার স্বামী সকাল বেলা গ্রামবাসীকে এ বিষয়টি অবগত করি, এ খবরে চুরচক্র আমার উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পঞ্চায়েতে না এসে ২দিন পর আমাকে রাস্তা একা পেয়ে ঝাপটা মেরে ধরে বেধরক মারপিট করে মৃত ভেবে রাস্তার পাশের ব্রীজের নিচে ফেলে যায়। আমার সমস্ত শরীরে লিলাফুলা জখমি রয়েছে। আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন বাড়ি আছি। ওরা আমাকে ও আমার পরিবারবর্গের লোকজনকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ওরা সুযোগ খুজছে আমাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার। আমি এর বিচার চেয়ে একই গ্রামের সুরুজ মিয়ার পুত্র দিলাল মিয়া, সুরত মিয়ার পুত্র সাবির, হাসিম মিয়ার পুত্র শামীম মিয়া, মঈন উদ্দিন পুত্র মিজান, সিরাজ মিয়ার পুত্র কাদির নাম উল্লেখ করে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এতে প্রায় ২ সপ্তাহ পূর্বে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নবীগঞ্জ থানার এস আই পলাশ দাশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওমান প্রবাসী গৃহবধুর বাড়িতে দু:সাহসীক চুরি
Catagory : হবিগঞ্জ | তারিখ : এপ্রিল, ২৭, ২০১৮, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ • ৩২ বার পঠিত






