আজ-  ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে চা শ্রমিক ফেডারেশনের মতবিনিময় সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত «» বগুড়া আদমদীঘিতে এমপি কর্তৃক অসহায় মানুষের মাঝে অনুদানের চেক প্রদান «» বগুড়া সান্তাহারে সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টুর আর্থিক সহায়তা প্রদান «» কমলগঞ্জে পতনউষার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এসএসসি-২০২৬ এর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত «» অপরাধ দমনে পুলিশ ও জনগণকে এক সাথে কাজ করতে হবে–এমপি- মহিত তালুকদার «» সান্তাহারে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও স্টার ক্লাবের নয়া কমিটির অভিষেক «» শ্রীমঙ্গলে মরা মুরগি বিক্রির সংবাদ নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিক রুমানা আক্তার শিপার সংবাদ সম্মেলন «» সিলেটে জাগো মুসলিম পরিষদের বৃক্ষরোপণ  «» দৈনিক ৫শ টাকা মজুরীর দাবীতে বড়লেখায় চা শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ «» BD’s 1st Biggest OPPO Photography Contest 2026 Finale Celebrates Record 23K+ Submissions

চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে চা শ্রমিক ফেডারেশনের মতবিনিময় সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত


মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার : চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন এবং চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা ২৩ আগস্ট রবিবার বেলা ১২টায় মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন- কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। বক্তব্য রাখেন- চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ দাস অলমিক, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব জনক লাল দেশওয়ারা, চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজল রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কিরণ শুক্ল বৈদ্য, মুমিনছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি লিটন মৃধা, মাধবপুর চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবনারায়ণ নুনিয়া, মাথিউরা চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ, লাক্কাতুরা চা বাগান প্রতিনিধি হৃদয় লোহার, করিমপুর চা বাগান প্রতিনিধি মায়া কর, বিমল রাসবিহারী বাগতী, মাতিউড়া চা বাগান প্রতিনিধি ময়না রাজভর, রাজনগর চা বাগান প্রতিনিধি গাঙ্গাজলী নুনিয়া, মৌলভী চা বাগান প্রতিনিধি রনি আহমেদ, রাঙ্গিছড়া চা বাগান প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ রাজভর, রশিদপুর চা বাগান প্রতিনিধি শিবলাল রবিদাস, ভুরভুরিয়া চা বাগান প্রতিনিধি আকাশ দোসাদ, সাবেক ইউপি সদস্য রশিদপুর চা বগান প্রতিনিধি ময়না রবিদাস, ইউপি সদস্য আলীনগর চা বাগান প্রতিনিধি কিরণ বৈদ্য, চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবু জাফর, উজ্জ্বল রায়, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, প্রণব জ্যোতি পাল, সফিকুল ইসলাম, সিপিবি মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জহর লাল দত্ত। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাসদ হবিগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নুরুজ্জামান তরফদার, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সদস্য রাহাত আহমেদ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক বিশু প্রসাদ গোয়ালা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ নন্দী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব সূত্রধর, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি জ্যোতিষ মোহন্ত প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময় সভা শুরুর পূর্বে মৌলভীবাজার পৌরসভার সামনে থেকে শহরে চা শ্রমিক ফেডারেশনের এক মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে পৌরসভার সামনে এসে শেষ হয়।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, চা বাগান প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে চা শ্রমিকদের মজুরি এখনো ২০০ টাকা নির্ধারণ হয় নি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির মধ্যে চা শ্রমিকরা খেয়ে না খেয়ে আধপেটা থেকে এবং হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে বাগানের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। মালিকরা লাভবান হচ্ছে, তারা তাদের সম্পদ বৃদ্ধি করছে। আর শ্রমিককে মজুরি দিচ্ছে মাত্র ১৮৭ টাকা। এই ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের পরিবার পরিজন নিয়ে একটা মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। গত ২০২২ সালে চা শ্রমিকরা ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করে মালিকদের সাথে মিটিং করে ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭০ টাকা মজুরি ঘোষণা করেন। এভাবে করে সরকার এবং মালিকপক্ষ মিলে শ্রমিকদের শোষণ করে যাচ্ছে। গত ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে একটা অগণতান্ত্রিক গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেই গেজেটর মেয়াদ গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়ার পরদিন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ মেয়াদোত্তীর্ণ গেজেটের চুক্তি বাস্তবায়নে তড়িঘড়ি করে প্রতারণামূলক ভাবে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে ১৯৬ টাকা মজুরি ঘোষণা করে। যা অযৌক্তিক এবং চরণ অগণতান্ত্রিক। ইতিমধ্যে চা শ্রমিক ফেডারেশন সহ ক্রিয়াশীল সকল শ্রমিক সংগঠন এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আজকে যখন চা বাগানে বাগানে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন চলছে, তখনও মালিকপক্ষ এবং শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে শ্রমিকদের পক্ষে কোনো বক্তব্য নেই। আর প্রতারণা নয় এইবার আমাদের ৫০০ টাকা মজুরির আদায়ের লড়াই চলবে। আজকের এই মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন এবং শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ২০২৩ সালের গেজেট বাতিল, চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করতে হবে। মজুরি বৃদ্ধির লড়াইয়ে চা বাগানে আন্দোলনরত সকল নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটা বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেই লড়াই সংগ্রামে সকলকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।