আজ-  ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে চা শ্রমিক ফেডারেশনের মতবিনিময় সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত «» বগুড়া আদমদীঘিতে এমপি কর্তৃক অসহায় মানুষের মাঝে অনুদানের চেক প্রদান «» বগুড়া সান্তাহারে সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টুর আর্থিক সহায়তা প্রদান «» কমলগঞ্জে পতনউষার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এসএসসি-২০২৬ এর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত «» অপরাধ দমনে পুলিশ ও জনগণকে এক সাথে কাজ করতে হবে–এমপি- মহিত তালুকদার «» সান্তাহারে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও স্টার ক্লাবের নয়া কমিটির অভিষেক «» শ্রীমঙ্গলে মরা মুরগি বিক্রির সংবাদ নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাংবাদিক রুমানা আক্তার শিপার সংবাদ সম্মেলন «» সিলেটে জাগো মুসলিম পরিষদের বৃক্ষরোপণ  «» দৈনিক ৫শ টাকা মজুরীর দাবীতে বড়লেখায় চা শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ «» BD’s 1st Biggest OPPO Photography Contest 2026 Finale Celebrates Record 23K+ Submissions

কমলগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির সম্পাদকের প্রতারণা ফাঁসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সাব রেজিস্টার অফিসের দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ওরফে ইজ্জাদ মহুরী (৪০) ব্যাংক চালানের কথা বলে তড়িঘড়ি করে টাকা নিয়ে প্রতারণার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সালিশী বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের উত্তর মোলাইম নিবাসি ও বর্ষিজোড়ায় বসবাসরত লন্ডন প্রবাসি শফিকুর রহমান হেবা দলিল সৃষ্টির মাধমে ছেলে রনিকে একটি বাসা দান করার যাবতীয় প্রক্রিয়াটির সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য পূর্ব পরিচিত ইজ্জাদ মহুরিকে দায়িত্ব দেন। হেবা দলিল রেজিষ্ট্রি খরছ বাবদ ইজ্জাদ একলক্ষ সত্তর হাজার টাকা সমজিয়াও নেন। পরবর্তীতে সরল বিশ^াসে প্রতারিত হয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে সন্দেহ হলে শফিকুর রহমানের শ্যালক কুলাউড়া উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন বখত মহুরী ইজ্জাদকে মোবাইল ফোনে কল দেন। কিন্তু ইজ্জাদ তা অস্বীকার করে উল্টো অশোভন আচরণ করেন। সেই সাথে স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার মো: আব্দুল মোহিত গংদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এরই সূত্রে গত ২৯ মে রাতে মোহিত মেম্বারের বাড়িতে শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ, বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো: আব্দুল মালিক বাবুল, আব্দুল মোহিত গংদের ও বাদি-বিবাদী পক্ষের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে ইজ্জাদের উপর আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সামাজিক সালিশকারিগণ একলক্ষ সত্তর হাজার টাকা হতে পঁচিশ হাজার টাকা কর্তন করে বাকি টাকা শফিকুর রহমানকে ফেরৎ দেওয়ার জন্য সকলেই একমত পোষণ করেন। মহুরী ইজ্জাদের কাকুতি মিনতির পর সত্তর হাজার টাকা মাফ করে একলক্ষ টাকা প্রদানের জন্য সালিশীগণ পুন: রায় দেন। তখন আরও কিছু টাকা কমানোর জন্য ইজ্জাদ মহুরীর আবেদন বিবেচনার অনুরোধে চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ’র প্রস্তাবনায় বিশ হাজার টাকা কমিয়ে আশি হাজার টাকা প্রদানে সালিশী বোর্ড চুড়ান্তভাবে একমত পোষণ করেন। ফের ইজ্জাদের সময় প্রার্থনার জবাবে আব্দুল মালিক বাবুল- চুড়ান্তভাবে ধার্যকৃত আশি হাজার হতে দশ হাজার কমিয়ে দুই দিনের মধ্যে সত্তর হাজার টাকা প্রদানের ও উক্ত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না করিলে পুরো এক লাখ টাকা ই প্রদান করতে হবে এমন প্রস্তাবনায় পুরো সালিশীগণ একমত পোষণে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। সেই মোতাবেক শুক্রবার(১জুন) বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো: আব্দুল মালিক বাবুলের কাছে সত্তর হাজার টাকা জমা দেওয়ার ধার্যকৃত তারিখের আগের দিন (বৃহস্পতিবার) ইজ্জাদ মহুরী টাকা জমা দিয়ে দেন। বিষয়টির ব্যাপারে চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাজী ইজ্জাদ মহুরী দোষী প্রমাণিত হয় এবং সালিশী বোর্ডের ধার্যকৃত টাকা মেনে নিয়ে সেই টাকা আব্দুল মালিক বাবুলের কাছে জমা করার কথা। আব্দুল মালিক বাবুল সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সালিশ বৈঠকে ইজ্জাদ মহুরী দোষী প্রমাণিত হয় এবং সালিশী বোর্ডের ধার্যকৃত সত্তর হাজার টাকা মেনে নিয়ে বৃহস্পতিবারে আমার নিকট টাকা জমা দেন। চেয়ারম্যান মিলন বখত ঘটনাটি সত্য জানিয়ে এক পর্যায়ে ইজ্জাদ স্বীকার করে ফেলে বলে তিনি বলেন, তবে এমনভাবে প্রতারিত হওয়ায় আমার ভগ্নিপতি শফিকুর রহমান লন্ডনী খুবই কষ্ট পেয়েছেন এবং সালিশে তিনি কোন কথা না বাড়িয়ে সালিশী সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। আব্দুল মুকিত মুকুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে পনের-বিশ হাজার টাকা লাগার কথা সেখানে চতুর, জালিয়াত, প্রতারক ইজ্জাদ এক লাখ সত্তর হাজার টাকা নিয়েছে। তাছাড়া আমাদের আত্মীয় চেয়ারম্যান মিলন বখতের সাথে মোবাইল ফোনে সে(ইজ্জাদ) অশোভন আচরণ করে।
শফিকুর রহমান লন্ডনী সালিশী বৈঠক সূত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেন এই প্রতিনিধিকে জানান , ইজ্জাদ যখন এক লাখ সত্তর হাজার টাকা নেয় তখন আমি বলেছিলাম একটু অপেক্ষা কর আমার বেয়াই মুকুল আসতেছেন। কিন্তু ব্যাংক চালানের কথা বলে তড়িঘড়ি করে সে(ইজ্জাদ) আমার কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে নেয়। শুক্রবার(১জুন) আমি সত্তর হাজার টাকা ফেরৎ পেয়েছি। এদিকে কমলগঞ্জ সাব রেজিস্টার অফিসের দলিল লিখক রুহেল আহমদ চৌধুরী(ইউপি মেম্বার) ও মো: খায়রুল ইসলাম বলেন, ইজ্জাদ ভাইয়ের এহেন কাজ মেনে নেওয়া যায় না। তার কারণে কমলগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের তথা সকল দলিল লিখকগণ অসম্মানিত হয়েছেন। আগামিতে তিনি এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার প্রত্যাশা করছি। তাছাড়া জীবিকার তাগিদে বিদেশ গিয়ে আবার ফিরে এসে দলিল লিখক পেশায় যুক্ত হয়ে এত স্বল্প সময়ে বাড়ি-গাড়ি-বিত্ত বৈভবের মালিক বনে যাওয়া কি করে সম্বব ? এছাড়াও তার ও তার বড় ভাই আবু বক্কর মহুরীর বিরুদ্ধে আরও নানান অভিযোগ রয়েছে। কমলগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির সভাপতি বখতিয়ার খাঁন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে যদি তিনি(ইজ্জাদ মহুরী) এ ধরনের কাজ করে থাকেন তাহলে আমরা তাকে রাখব না। অবশ্যই সমিতির সকলেই মিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করব। হাজী ইজ্জাদ মহুরীর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে রিং বাজলেও তিনি রিসিভ না করে তৃতীয়বারের সময় কলটি কেটে দেন। কমলগঞ্জ সাব রেজিস্টার আব্দুল কাদির এর মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি ফোন কলটি কেটে দেন।