সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সুশাসন জোরদারে টিআইবির নতুন প্রকল্পের পরিচিতি কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ২৮ জুন ২০২৬: নারী ও কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (এসআরএইচআর) সেবার মান উন্নয়ন এবং সেবাদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নতুন প্রকল্প “স্ট্রেংথেনিং ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি ইন সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ হেলথ সিস্টেমস ইন বাংলাদেশ” এর পরিচিতি ও পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবাদান প্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষ তথ্য সংগ্রহ ও কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর কর্তৃক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের লক্ষীপুর ও নীলফামারী জেলার ১৬টি নির্বাচিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রসমূহে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশকের আলোকে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা ও সুশাসন-সংক্রান্ত সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করা হবে। একইসঙ্গে চিহ্নিত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা ও অধিপরামর্শ কার্যক্রমের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ের জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সুইডিশ সরকারের অর্থায়নে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল হেলথ- এর সহযোগিতায় পরিচালিত এই বহুদেশীয় প্রকল্পটি জাম্বিয়া, ইকুয়েডর, তিউনিসিয়া ও বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আজ টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রকল্প পরিচিতি ও পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত বিগত অপশাসনের কারণে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। জনগণের অর্থসম্পদ লুটপাট ও অপচয় হয়েছে। জনগণ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানসহ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ ও সক্রিয় আছি। এই বাস্তবতায় টিআইবির এই প্রকল্প অত্যন্ত সহায়ক একটি উদ্যোগ। তাই প্রকল্পটির বাস্তবায়নে মাঠপর্যায় থেকে নীতিনির্ধারক পর্যায় পর্যন্ত সকল ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ টিআইবির এই উদ্যোগ সরকারের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. সৈয়দা নওশীন পর্ণিনী বলেন, ‘বাংলাদেশের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে টিআইবির এই প্রকল্প একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। বর্তমানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকার পাশাপাশি নীলফামারী এবং লক্ষ্মীপুর জেলা দুটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এই দুটি জেলা নির্বাচনের পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে। নির্ধারিত জেলাগুলোয় বাস্তবায়িত এই পাইলট প্রকল্পের যেকোনো প্রয়োজনে সরকার সহায়তা করতে প্রস্তুত, যাতে এটি মা ও শিশু সেবার সঙ্গে জড়িত সকলের জন্য উপকারী ও ফলপ্রসূ হয়।’
প্রকল্পটি গ্রহণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, ‘প্রজনন স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পক্ষে ঘাটতি চিহ্নিতকরণের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে এই প্রকল্পকে স্বাগত জানাচ্ছি। প্রকল্প থেকে মনিটরিং করার পর উঠে আসা সুনির্দিষ্ট সমস্যার চিত্র আমাদের সঙ্গে শেয়ার করা হলে, অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও সেগুলো সমাধানের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়নে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো। টিআইবির এই প্রয়াস ভবিষ্যতে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় ও জনসচেতনতার কাজে আরো বৃহত্তর মাত্রায় প্রসারিত হবে এমনটাই বিশ্বাস করি।’
জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে টিআইবির গবেষণা, জনসম্পৃক্ততা ও অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রমে স্বাস্থ্যখাত অন্যতম প্রাধান্যপ্রাপ্ত উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য খাতে সেবার গুণগত মানোন্নয়নের পাশাপাশি শুদ্ধতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রণীত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সকল পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট অংশীজনসহ সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম।’ কর্মশালায় আলোচিত চ্যালেঞ্জসমূহের মধ্যে যৌন ও প্রজনন খাতে বাজেট স্বল্পতার তুলনায় যথাসময়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জন্যপূর্ণ বাজেট বরাদ্দ এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যয়ের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় আড়াইগুণ বরাদ্দের প্রকৃত সুফল পেতে সার্বিকভাবে এ খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত প্রক্রিয়ায় জনগণের অর্থের ব্যবহারের গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
পরামর্শ কর্মশালায় প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা বিশদভাবে তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মুশফিকা মিজান। উন্মুক্ত আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে সভাপতিত্ব করেন টিআইবির উপদেষ্টা, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের। এই পর্বে অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যায়ে বিদ্যমান সমস্যা, অনিয়ম ও সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং সমাধানের কার্যকর পথ নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ মনিটরিং পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ফারহানা ফেরদৌস এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান। কর্মশালায় সরকারি প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যখাতে সক্রিয় সমমনা উন্নয়ন সংস্থাসমূহের সদস্যবৃন্দ, স্বাস্থ্যখাত বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটির আওতায় টিআইবির পক্ষ থেকে নির্বাচিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সেবাগ্রহীতাদের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সভা আয়োজন এবং স্থানীয়, উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রকল্পটি জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকার, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গসমতা ও দুর্নীতিবিরোধী বৈশ্বিক এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।






