তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা মহানগরীর সেমিনার সম্পন্ন।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ‘বিশ্বনবীর জীবনাদর্শের সার্বজনীন বার্তা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ঈসায়ী, শুক্রবার, বাদ জুম’আ, রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ.বি.এম ছিদ্দিকুর রহমান নিজামী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এর আদর্শ ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর উর্ধ্বে সবার জন্য আদর্শ। তাঁর আদর্শে সার্বজনীনতা রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন; বাহ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এমনকি হাত পায়ের নখ কিভাবে কাটতে হবে সেটিও শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি শিশুদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন ছিলেন। তিনি সন্তানদের প্রতি সর্বক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করতে বিশেষত কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছেন কেননা জাহেলী যুগে কন্যা সন্তানদের প্রতি কিরূপ আচরণ করা হতো তা সম্পর্কে সকলেই অবহিত রয়েছেন। তাছাড়া বাহিরে গেলে ঘরে ফেরার সময় সন্তানদের জন্য কিছু নিয়ে আসতে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এর ফজিলতও বর্ণনা করেছেন। শুধু জন্মগ্রহণের পর সন্তানের অধিকার নিয়ে একজন বাবা চিন্তা করবে এমনটি নয় বরং সন্তান জন্মের বহু আগে নিজের বিবাহের সময় সে ভালো পাত্রী দেখে বিয়ে করবে যাতে তার সন্তান একজন ভালো মা পায়। কেননা মায়ের স্বভাব সন্তানের উপর প্রভাব ফেলে। সর্বোপরী রাসূল (সা.) সকলের জন্য শ্রেষ্ঠ আদর্শ, তাঁর সুমহান আদর্শেই মানুষের কল্যাণ ও মুক্তি নিহিত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) বিরোধীরা যে নীতিতে এটিকে বিদআত বলেন এই একই নীতি প্রয়োগে আরো বহু বিদআত পাওয়া যায় যাকে তারা বিদআত হাসানাহ বলেন। ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের মাধ্যমে মুমিন শিশু কিশোর আবাল বৃদ্ধা ও ভণিতা সকলেই রাসূল (সা.) এর আদর্শে উজ্জীবিত হয় এবং রাসূলের মহব্বত আমাদের মধ্যে নতুনভাবে জাগরূক হয়। তাই ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.)-কে আইয়্যামে কেরামগণ বিদআতে হাসানাহ বলেছেন।
সেমিনারের প্রধান আলোচক হাইকোর্ট মাযার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী বলেন, ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের ক্ষেত্রে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন নবী (সা.) এর যুগে কি এটি ছিল এবং তিনি কি তা পালন করেছেন? তাদের জবাবে বলা যায়, নবী (সা.) এর যুগে ছিল না বা তিনি করেননি এমন কাজ, যা শরীয়ত সম্মত, ইসলাম সমর্থন করে এবং দ্বীনের কাজ এগিয়ে নিতে সহোযোগিতা করে- সে কাজ জায়েয। এটিই ইমাম শাফেয়ী (র.) সহ সকল ইমামগণের মত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, রাসূল (সা.) কুরআন এক মুসহাফে একত্রিত করে যান নি, যা আবু বকর (রা.) করেছেন। রামাদানের প্রতি রাতে তারাবীহ জামাতে পড়া রাসূল (সা.) ও আবু বকর (রা.) শুরু করেননি, বরং পরবর্তীতে উমর (রা.) তাঁর যুগে এসে এটি শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন আমরা কি নবীকে সাহাবায়ে কেরামদের থেকে বেশি সম্মান করি ও ভালোবাসি; যে নবীর ভালোবাসায় ও সম্মানে তাঁরা যা করেননি আমার তা করি? আমরা এ প্রশ্নের জবাবে বলি, ইমাম মালেক (র.) মদীনায় জুতা পড়ে হাঁটতেন না। তাঁর এই কাজকে সকল ইমামগণ প্রশংসা করেছেন অথচ এই কাজ কোন সাহাবী করেননি। ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (র.) নবী করীম (সা.) নাম শুনলে হেলান দেয়া অবস্থায় থাকলে সোজা হয়ে বসতেন; যা কোন সাহাবী করেননি। এ ধরনের আরো বহু উদাহরণ দেয়া যাবে। একইভাবে ইলমে তাজবিদ, উসূলে তাফসীর ও হাদীস এবং বুখারীসহ সিহাহ সিত্তার সংকলন সবকিছুই পরবর্তীতে দ্বীনের প্রয়োজনে সংযোজিত নতুন বিষয়। কিন্তু আমরা এগুলোকে সকলেই মেনে নিয়েছি। আমরা রাসূল (সা.) এর হাদীসের আলোকেই বলব, ভালো কাজের প্রচলন যুগে যুগে হতে পারে এতে কোনো বাঁধা নেই। শর্ত একটিই, তা শরীয়তসম্মত হতে হবে। সুতরাং ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনকে নাত, কবিতা, বক্তব্য এবং লিখনিসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমরা রাসূল (সা.) এর আদর্শ সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার একটি উপলক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করতে পারি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুরুল করিম মহসিন।
তিনি বলেন, মুমিনের অন্তরে যদি হুব্বে রাসূল না থাকে তাহলে সে পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে না। নবীজি (সা.) এর আগমনের মাস মাহে রবীউল আউয়ালে সমগ্র বিশ্বজগত রাসূল (সা.)-কে পেয়ে যেভাবে আনন্দিত হয়েছিল, আমরাও এ মাসে তেমনিভাবে আনন্দে উদ্বেলিত হই এবং তাঁর প্রশংসা গাই। তালামীযে ইসলামিয়া মুমিনের অন্তরে হুব্বে রাসূল জাগ্রত করার জন্য এ মাহিনাকে বিশেষভাবে গ্রহণ করে এবং তাঁর আদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি আতিকুর রহমান বাপ্পীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সরকার মুহাম্মাদ নূর উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোমান আহমদ পিপিএম, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাদ উদ্দিন তালুকদার, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকা এর সেক্রেটারি এড. জসিম উদ্দিন, বঙ্গভবন জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুল কবির, সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সরকার মুহাম্মাদ নাছির উদ্দিন।
সংগঠনের ঢাকা মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল আলম রুমান এর স্বাগত বক্তব্যে সূচিত সেমিনারে এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম কুতুবী, শাহনুর প্রোপার্টিজ লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাইমুল হক খান, ফুলতলী কমপ্লেক্স জামে মসজিদ ঢাকা এর সম্মানিত খতীব মাওলানা সাইফুল ইসলাম, সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি আবুল ফজল, সাধারণ সম্পাদক আজির হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আতিকুর রহমান কাওছারী, মারকাজুত তাদরিস আল ইসলামি ফুলতলী কমপ্লেক্স ঢাকা এর শিক্ষক মাওলানা জামিলুর রহমান, ফুলতলী কমপ্লেক্স ঢাকার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফিজ মাওলানা শিহাব উদ্দিন খান, সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল গাফফার, ঢাকা মহানগর সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম সারওয়ার, নারায়ণগঞ্জ জেলা সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রাফি উদ্দিন তাওহীদ, ঢাকা মহানগর অফিস সম্পাদক রুম্মানুজ্জামান রুম্মান, সহ অফিস সম্পাদক ইব্রাহিম আলী, সংগঠনের ডেমরা থানা সভাপতি মাহমুদুস সামাদ জামি ও খিলগাঁও থানা সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমদ প্রমুখ।






