আমাদের স্যার। মানে, আমাদের মনুমুখ পি,টি, বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন শ্রী শ্রী ফনিন্দ কুমার ভট্টাচার্য, একজন প্রথিতযশা শিক্ষকের যতগুন থাকার প্রয়োজন তার বিন্দু মাত্র কমতিছিল না, তিনি মৌলভীবাজার অঞ্চলে
স্থানীয় শালিসির ভালো একজন ন্যায়বিচারক ছিলেন। ভৌগলিক কারনে আমরা সিলেট জেলা বাড়ী, স্কুলটি মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত, সুনামধন্য কুশিয়ারার সঙ্গে মনুর মিলন মুখে একসময়ের বিখ্যাত মনুমুখ বাজারে উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাফিত হয় ১৯৪৫ সনে, সিলেট মহকুমা এতোদ অঞ্চলে তখন হাতে গুনা কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে বিদ্যালয়টি ছিল সুনামধন্য, মৌলভীবাজার জেলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে সবসময়ই পরিক্ষার ফলাফল প্রতিযোগিতা এমনকি জেলা ক্রীরাপ্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান দখল করে থাকতো,যদিও কালের পরিবর্তনে নদীর ভাঙ্গনে বাজার বিলীন হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যালয়টি তার জৌলুস হারিয়ে বসে, আরও পরিপ্বার্শিক কারন আছে একসময় সাড়া জেলায় হাতেগোনা কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় ছিল এখন এই মনুমুখ ইউনিয়ন চারটি আমাদের আশপাশে অনেক গুলো বিদ্যালয় হয়েছে, প্রতিটি কারনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্যার বিদ্যালয় থেকে চলে গেলেন, চলে যাওয়া মানে দীর্ঘ দিন বিদ্যালয়টিকে পরিচালনা করে এলাকার জনগণের চাপে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নিলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি ও শ্বৈরচারদের সাস্পদায়ীক উস্কানি যুগে মুসলিম অধ্যুষিত একটি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন,তখন সবাই বলতেন একমাত্র উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করা ব্যক্তি এই জেলায় তিনিই ছিলেন, নিজস্ব খরছ ব্যতিত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন, দক্ষতার পরিচয় সেখানে রেখে মৌলভীবাজার জেলা শহরে মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষে হিসেবে মহিলা বিদ্যালয়টিকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেন,গুনি এই মহান শিক্ষক আইনি পেশায় নিয়োজিত হয়ে দক্ষতার সহিত মৌলভীবাজার জেলা আদালতে মানুষ কে আইনি সহায়তা করেন,আমরা উনার ছাত্র ছবিতে আমার স্কুল বন্ধু টেলেন্টেড ছাত্র স্যারের এলাকায় বাড়ি,স্যার আসলেন লন্ডনে আয়োজন হলো সম্বর্ধণা আয়োজক হিসেবে আমিও ছিলাম, অনুষ্ঠানে দিন যুক্তরাজ্য বসবাসরত সিনিয়র জুনিয়র অনেক অনেক ভাই বোনেরা আসলেন সম্বর্ধণা অনুষ্ঠানটি রূপনীল একটি আবেগের অনুষ্ঠানে স্যার বক্তব্য দিলেন উপস্থিত সবাই কাঁদছেন এ যেন ভালবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্যার আবেগতাড়িত হতেই অনেকেই আর পারেননি হাও হাও করে কাঁদলেন সেই দিন স্যার বললেন যদি পার তোমরা বিদ্যালয়টিকে দেখে রাখিও, সবাই আমরা প্রতিশ্রুতি দিলাম আবার আমরা উদ্যোগ নিয়ে মুটামুটি একটি ভালো আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করলাম বিদ্যালয়টি আবার নতুন উদ্যমে চলছে, গতকাল আমাদের স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে, হাজার হাজার মানুষ গড়ে গেছেন, সচিব থেকে শিক্ষক বড় বড় ব্যবসায়ী আমলা আছেন স্যারের ছাত্র ছাত্রীরা সবাই কাঁদছেন, আসলে কৃতিমানদের মৃত্যু নেই, মানুষ বাঁচে তার কর্মে কথাগুলো চীরসত্য আজ সারের চলে যাওয়ার সবার কান্না তাই প্রমান করে, শান্তিতে থাকবেন প্রিয়স্যার অপারে এই দোয়া করি। আপনার একান্ত বাধ্যগত ছাত্র নিজামুল হক নজমুল।






