দীপ্তনিউজ :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ফুটপাত দখল করে টিনের ছাপড়া দোকান গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অফিসটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাজমি ক্রয়-বিক্রয়ের একমাত্র সরকারি কার্যালয় হওয়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ দলিল রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজে এখানে আসেন। কিন্তু অফিসের প্রধান গেইটের সামনেই ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো থাকায় পথচারী ও সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, কমলগঞ্জ টু শ্রীমঙ্গল সড়কের বাম পাশে বাজার ও একাধিক মার্কেট থাকায় এটি দিন-রাত মানুষের ব্যস্ততম এলাকা। সাব রেজিস্ট্রার অফিস বাজারের ভিতরের একটি ছোট সড়কের পাশে অবস্থিত। সড়কটির পূর্ব পাশে রয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট, মার্কেট ও একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে পশ্চিম পাশে সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ফুটপাতের উপর টিনের ছাপড়া দিয়ে প্রায় ২০-২২টি দোকান গড়ে উঠেছে। ফলে দূর থেকে অফিস চেনা পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এই সড়কটি সুজা বাজার হয়ে শ্রীমঙ্গল মেইন রাস্তায় সংযুক্ত থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা, প্রাইভেট গাড়ি এবং পথচারীদের চলাচল থাকে। তবে অফিসের গেইটের সামনে মোটরসাইকেল ও সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকা এবং দলিল লেখক, ক্রেতা-বিক্রেতা, অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণির মানুষের ভিড়ে রাস্তায় পা রাখার জায়গা পাওয়া যায় না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সেবা নিতে আসা লোকজন বলেন, “ফুটপাতের টিনের ছাপড়ার দোকানগুলো তুলে দিলে অন্তত হাঁটাচলা করার সুযোগ হবে। এখন অফিসে আসতে গেলেই জ্যামের মধ্যে পড়তে হয়।”
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি বিষয়টি বিশেষভাবে দেখছি।”
কমলগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার ফয়সাল আহমদ বলেন, “আমি যোগদানের পর অফিসের পরিবেশ উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছি। অফিসের সামনে ফুলগাছ ও বাগান তৈরি করেছি, পুকুর অপরিষ্কার ছিল তা পরিষ্কার করিয়েছি। ফুটপাতের টিনের ছাপড়া দোকানগুলো নিয়ে সমস্যার সমাধানে দলিল লেখকসহ সবাইকে নিয়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে অফিসের সামন থেকে দুটি দোকান সরানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অফিসের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্টরা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন এবং আবেদনটি বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।






