সালেহ আহমদ (স’লিপক):
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০নং নাজিরাবাদ ইউনিয়নের আগনশী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঘরে প্রবেশ করে হামিদা বেগম (৩০) নামে এক মহিলাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মাথার চুল কেঁটে ফেলেছে কুরুষ মিয়া (৪২) নামের এক দুর্বৃত্ত। তাকে বাঁধা দিতে গিয়ে দা এর কুপে আহত হয়েছেন ভিকটিমের স্বামী আবুল হোসেন। এ সময় তাদের প্রতিবন্ধী মেয়ে জুবলী আক্তারকে গলা টিপে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করে দুর্বৃত্ত কুরুষ মিয়া।
সোমবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় মৌলভীবাজার সদর থানার ১০নং নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ আগনশী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
ভিকটিম হামিদা বেগম জানান, আমার প্রতিবেশী কুরুষ মিয়া সন্ধ্যার পর মুহুর্তে আমার ঘরে দা হাতে নিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় আমার স্বামী আমাদের গৃহপালিত হাঁস খোঁজতে বাড়ির বাহিরে ছিলেন। এই সুযোগে কুরুষ মিয়া আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। আমার বাক্ প্রতিবন্ধী মেয়ে জুবলী আক্তার চিৎকার চেচামেচি করলে তাকেও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে। পরে আমার সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আমার স্বামী বাড়িতে ফিরে এসে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে কুরুষ মিয়া দা দিয়ে কুপিয়ে আমার স্বামীকে মারাত্মক আহত করে। পরে আমার হল্লা চিৎকারে আশপাশের মানুষ ও আমার আত্মীয় স্বজনরা এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে। এ সময় কুরুষ মিয়ার ছেলে জুবেল, রাসেল ও তার ভাগনা সামাদ এসে কুরুষ মিয়াকে নিরাপদে নিয়ে চলে যায়। আমার ভাইপো তছলিম মিয়া আমার স্বামী, মেয়ে ও আমাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।
কুরুষ মিয়ার নিকট এক বছর আগের পাওনা ২০ হাজার টাকা চাওয়ায় গত ৬ জুলাই সে আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে তার বাড়িতে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মিয়া আমাকে কুরুষ মিয়ার হাত থেকে উদ্ধার করতে না পেরে মৌলভীবাজার মডেল থানায় ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা হয়। এই মামলায় জামিন নিয়ে এসে আমার সাথে এই ঘটনাটি ঘটায়।

ভিকটিমের স্বামী আবুল হোসেন বলেন, আমরা এখানো বন্যায় পানিবন্দি। গৃহপালিত হাঁসগুলো সন্ধ্যায় আমি বাড়ির আশপাশে খোঁজছিলাম। বাড়িতে শোরগোল শুনে এসে দেখি কুরুষ মিয়া আমার স্ত্রীর চুল কেঁটে দিয়েছে এবং আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে গলা টিপে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করছে। আমি বাঁধা দিতে গেলে কুরুষ মিয়া তার হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে কুপিয়ে আহত করে।
প্রত্যক্ষদর্শী তছলিম মিয়া ও জাহেদ মিয়া জানান, হল্লা চিৎকার শুনে আমরা এসে আহত অবস্থায় হামিদা বেগম, আবুল হোসেন ও জুবলী আক্তারকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছি। কুরুষ মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় মানুষের সাথে সবসময় অন্যায় অত্যাচার করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে অভিযোগ হালকা ভাবে নেয়া হয়।
১০নং নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য সোহেল মিয়া বলেন, এই ঘটনার খবর শুনে আমি হাসপাতালে গিয়ে তাদেরকে দেখে এসেছি। ঘটনাটি সত্য। ইতিপূর্বেও কুরুষ মিয়া এদের সাথে আরেকটা ঘটনা ঘটিয়েছিল। চেয়ারম্যান চিকিৎসার জন্য বাহিরে আছেন। তিনি এলে এ ব্যাপারে আমরা শক্ত পদক্ষেপ নেবো।
মৌলভীবাজার মডেল থানার এসআই রুবেল বলেন, ঘটনার দিন রাতেই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি এবং হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিমের সাথে কথা বলেছি। হামিদা বেগমের কাঁটা চুল জব্দ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আলামতের একটি ব্যাগ আমি থানায় নিয়ে রেখেছি।






