আজ-  ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» কমলগঞ্জ উপজেলা তালামীযের ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। «» State-sponsored Legal Protection and Impunity to Corruption: TIB «» জুড়ীতে মোবাইল কোর্ট এর অভিযানে ৫৫০ কেজি পোনা মাছ জব্দ ও অর্থদণ্ড আদায়  «» বগুড়া আদমদীঘিতে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু «» কমলগঞ্জে কমলকুঁড়ি পত্রিকার ১৬তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত «» দেশ ও বিদেশে মৌলভীবাজার সংগঠনের উদ্যোগে গরিব ও পথচারী মানুষের মধ্যে মাংস ও নগদ টাকা বিতরণ «» পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা: ৪ মোবাইল ও ৩৮ সিমসহ গ্রেফতার ১ «» ফলোআপ – ছালামিটিলা সড়ক সংস্কার কাজ শিগগিরই শুরু হবে — প্যানেল চেয়ারম্যান আহমদ আলী «» মৌলভীবাজারে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে শ্রেষ্ট প্রধান শিক্ষক সত্যজিৎ পাশী «» নান্দনিক শহর মৌলভীবাজারের ০১ নং পর্যটন স্পটের বেহাল দশা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা!!!!

কয়েক শত কিয়ার জায়গা নিয়ে বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জনপ্রিয় পর্যটন স্পট।

বর্ষিজোড়া ইকোপার্কে বিষাক্ত বর্জ্যে প্রাণহানি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক বর্তমানে চরম অবহেলা ও দূষণের শিকার হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মৌলভীবাজার শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই ইকোপার্কটি ছোট ছোট টিলা ও ঘন গাছ-গাছালিতে ঘেরা একটি মনোরম পরিবেশ হলেও বর্তমানে এটি পরিবেশ দূষণ ও বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে এলাকাবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ইকোপার্কটি নির্মাণ করেছিলেন। দর্শনার্থীদের জন্য কটেজ, পিকনিক কর্নারসহ নানা সুবিধা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পার্কটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, পার্কটি সবুজ ও ঘন বনাঞ্চল হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরনের পশুপাখির আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে প্রতিনিয়ত শিয়াল, বিড়াল, কুকুর, ব্যাঙ, সাপ, ইঁদুর ও নানা প্রজাতির পাখি মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পার্কের ভেতর দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে, যা ব্যবহার করে আশপাশের কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। চলাচলের সময় তারা প্রায়ই দেখতে পান—জঙ্গলে ও বিষাক্ত ময়লার পাশে পড়ে আছে বিভিন্ন প্রাণীর মৃতদেহ।

অভিযোগ রয়েছে, ইকোপার্কের পাশে অবস্থিত কয়েকটি পোল্ট্রি ফার্মের বিষাক্ত বর্জ্য ধুয়ে পার্কের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, এই দূষিত পানি প্রায় এক মাইল দূরে গোলাবাড়ি গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী ও বন বিভাগের সরকারি আবাসিক এলাকার পরিবারগুলো জানান, দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে শিশুদের নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে মানুষও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, তারা গত ৬ বছর ধরে সিলেট বন বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, পোল্ট্রি ফার্মের মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এলাকাবাসী দ্রুত ইকোপার্কের দূষণ বন্ধ, অবৈধ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং পার্কটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।