আজ-  ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» ক্যাম্পাসে নোংরা ছাত্র রাজনীতির প্রভাবে শিক্ষার অবনতি ঘটেছে : ছাত্র জমিয়তের আলোচনা সভায় গোলাম আম্বিয়া কয়েছ  «» শ্রীমঙ্গলে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচিতি সভা «» মনুমুখ স্কুলে প্রধান শিক্ষক, আইনজীবী মৌলভীবাজার অঞ্চলের স্থানীয় শালিসির বিচারক শ্রী শ্রী ফনিন্দ কুমার ভট্টাচার্য, «» গাছ কাটছি মানে আমরা নিজেদেরই হত্যা করছি «» তরুণ ও শিক্ষার্থীদের অতুলনীয় আদর্শ মহানবী সা.: ছাত্র জমিয়ত সিলেট জেলা উত্তর  «» ‎ঈদে মীলাদুন্নবী সা. উপলক্ষ্যে তালামীযে ইসলামিয়ার ‘মুবারক র‌্যালি’ সম্পন্ন : সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।  «» আদমদিঘী উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির  মাসিক  সভা অনুষ্ঠিত  «» মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলাউর রহমান চৌধুরী আর নেই, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’র «» শমশেরনগরে ঈদে মীলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে প্রচার মিছিল সম্পন্ন «» কমলগঞ্জের কুমড়াকাপনে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে মোবারক র‌্যালি, প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

মৌলভীবাজারে যাদের টিফিন খাওয়ালো তারাই আমার ছেলেকে হত্যা করলো’

এজাহারভুক্ত আসামীরা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারে বহুল আলোচিত হত্যাকান্ডের নিহত ছাত্রলীগ নেতা শাবাব ও মাহির বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম আর অশ্রুভেজা কান্না। পুত্রদের চির বিদায় দিয়ে স্তব্ধ দুটি পরিবার। দুটি পরিবারকে সান্তনা দিতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন বাড়িতে। ছেলে হারানোর শোকে কাতর মা বাবা ও স্বজনরা বিলাপ করছেন আর মূর্ছা যাচ্ছেন। উপস্থিত সবার কাছে ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানাচ্ছেন তারা। তাদের এমন আর্তনাদ আর বোবা কান্নায় ভারি হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। এই খুনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সর্ব শ্রেণির মানুষ। দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড় । রাজনৈতিক দ্বদ্বে এই প্রথম জোড়া কিশোর খুনের ঘটনায় সর্বমহলের বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিয়ে নতুন করে ভাবনায় পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা । এ ঘটনার পর থেকে শহর ও শহরতলী এমনকি উপজেলার স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কিত। শান্তির শহরকে হঠাৎ করে কালো মেঘে ঢেকে রাখলো। নিহত শাবাব ও মাহির বাড়িতে এমন দৃশ্যই এখন চোখে পড়ে। সোমবার সকালে মৌলভীবাজার শহরের সৈয়দ মুজতবা আলী সড়কের সিদ্দিক মঞ্জিলের বাসায় নিহত ছাত্রলীগ নেতা সাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী, বাবা অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক ছেলের নানা স্মৃতি তুলে ধরে অঝোরে ফেল ফেল কাঁদছিলেন মিডিয়া কর্মীদের দেখে। বাসায় শাবাবের দুই খালা ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বোন ফাতেমা সাফওয়াতসহ স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা তাদের সান্তনা দিচ্ছেন। কিন্তুু কিছুতেই কান্না বন্ধ হচ্ছেনা শোকে কাতর এই স্বজনদের। সাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী কেঁদে কেঁদে সংবাদকর্মীদের কাছে বলেন- যাদের আমার ছেলে টিফিন খাওয়ালো। যাদের সময় দিলো। সাহায্য সহযোগিতা করলো। তারাই আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করলো। আমার ছেলে স্কুল জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। রাজনীতির নেশায় সে এতটা বিভোর ছিল যে আমাদের বাধা বিপত্তিতেও সে দমতো না।
শাবাব অত্যন্ত মেধাবী, আকর্ষণীয় চেহারা আর সাহসী হওয়ায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের ছিল। ওই নেতারাই তাকে নানাভাবে ফুসলিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় করেন। তার মা আরো জানান, বাসায় আমাকে সে প্রায়ই বলতো আম্মা আমি আগামীতে জেলা কমিটির ভালো পদ পাব। আমি তখন বলতাম বাবা পদ দিয়ে তুমি কি করবা। তুমিতো কিছুদিন পরে দেশের বাইরে চলে যাবে। প্রতি উত্তরে সে বলতো আম্মা রাজনীতি করলে পদ ছাড়া কাজের মূল্যায়ন হয় না। সাবাব সব-সময়ই ছাত্র রাজনীতির কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকতো। এ কারণে বাসায় এমনকি পরিবার ও স্বজনদেরও তেমন সময় দিতে পারতো না। বাসায় থাকলেই ছাত্রলীগের নেতা/কর্মীরা ভিড় করত। বিশেষ করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীরা আসতো। আমি ওদের জিজ্ঞেস করতাম তারা ওখানে কেন আসে। ওরা বলতো তারা ছাত্রলীগের কর্মী। শাবাব তাদের দলের বড় ভাই। সে নাকি তাদের নানা সমস্যা দেখভাল করে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন রেখে বলেন,আমার ছেলে যাদের জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় হলো-যারা আমার ছেলেকে রাজনীতিতে নিয়ে গিয়ে তাদের ফায়দা হাসিল করলো: তারা আজ কোথায়। তারা এখন নাকি বলছে আমার ছেলে ছাত্রলীগের কেউ না। তারা আগে কেন আমার বাসায় এসে ভিড় করতো। তিনি বলেন,তুষার তার পরিবার থেকে বিতাড়িত হলে আমাদের বাসায় আসতো। তার সঙ্গে ফাহিম ও প্রতীক আসতো। তাদের টিফিন খাওয়াতো শাবাব। অথচ গ্রুপিং দ্বন্ধে দলীয় হীনমন্যতায় তারাই তার ঘাতক হলো। গত পৌর নির্বাচনের কথা উলে­খ করে সেলিনা রহমান বলেন, আমার ছেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের দলের প্রার্থীকে জয়ী করালো। তখন মিষ্টি নিয়ে হাসিমুখে ওই নেতারা আমার বাসায় এসেছিলেন। তিনি এই জোড়া খুনের ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির আওতায় আনার জোর দাবি জানান। অপর দিকে কনকপুর ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে একই অবস্থা। নিহত মাহির মা জুলেখা বেগম ও বাবা বিল্লাল মিয়া মৃত্যুশয্যায়। মা এই ঘটনার পর থেকে ছেলের শোকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। শোকের মাতম চলছে গোটা পরিবারে। কৃষক পরিবারের ছেলে মাহিই ছিল তার পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার আশা। এমনটি জানান তার মামা গোলাম ইমরান আলী। বুধবার বিকেল চারটায় মুঠোফোনে আলাপচারিতা হয় মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি সোহেল আহম্মদ এর সাথে। তিনি এসময় জানান, গত দুদিনের রিমান্ডে যা এসেছে তা হালো তাদের সিনিয়র জুনিয়দের মধ্যে বিরোধ নিয়ে এই হত্যাকান্ড। আরো অনেক বিষয়াদি আছে দেখা হলো সরাসরি বলবো। এ পর্যন্ত আসামীরা কেউ গ্রেফতার হয়নি। গ্রেফতার হলে অবশ্যই জানাবো। সূত্র মুক্তকথা